‘প্রেমিকের সহায়তায়’ মেয়েকে হত্যার পর ট্রাংকে লুকিয়ে রাখেন মা
গোপালগঞ্জে ট্রাংক থেকে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে গোপালগঞ্জ পৌরসভার গোবরা মধ্যপাড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির নানী বলছেন, প্রেমিকের সহায়তায় মেয়েকে হত্যা করেছে তার মা।
গোপালগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার ২০ দিন পর ট্রাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মাকে পুলিশ আটক করেছে।
শিশুর মায়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ জানায়, ঘরের ভেতরে ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা হয় মরদেহটি। মরদেহটি পচে গেছে। সুরাতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুননিহতের নানী পারভিন আক্তার বলেন, ‘গোবরা মধ্যপাড়ার রুবেল শেখের সঙ্গে আমার মেয়ে সেতু বেগমের বিয়ে হয় ৫ বছর আগে। তাদের একটি মেয়ে শিশু আছে। নাম ফারিয়া। বয়স সাড়ে ৩ বছর। রুবেল কাতারপ্রবাসী। তাই ফারিয়াকে নিয়ে সেতু গোবরা মধ্যপাড়া থাকত। টিকটক করতে গিয়ে সেতুর সঙ্গে পরিচয় হয় ফরিদপুর জেলার হাট কৃষ্ণপুর গ্রামের মিরাজ নামে এক যুবকের। পরে তারা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
মিরাজের সহায়তা সেতু তার মেয়েকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহটি ট্রাংক লুকিয়ে রেখে ঘরে তালা দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে চলে যায় সে। ঘটনার ১৯ দিন পর গতকাল শুক্রবার সেতুকে ওই যুবক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ফরিদপুর জেলার তালমা নামক স্থানে সেতুকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেতু আমার কাছে ফোন করে সব ঘটনা জানায়। আজ দুপুরে আমি বিষয়টি গোপালগঞ্জ থানা-পুলিশকে জানাই। আর মেয়েকে পুলিশের হাতে তুলে দেই।’
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







