প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল
একুশে পদক পাচ্ছেন প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু
আইয়ুব বাচ্চু
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ও এলআরবি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর তাকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
কিংবদন্তী এই শিল্পী বিদায় নেন মাত্র ৫৬তেই। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। এখন তার রুপালি গিটারটিও হয়তো রয়ে গেছে। সঙ্গে রেখে গেছেন- সেই তুমি, এক আকাশে তারা, ফেরারি মন, আমি বারো মাস, এখন অনেক রাত, রূপালী গিটারসহ অসংখ্য কালজয়ী গান।
১৯৮৩ সালে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে গড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক তারকা হয়ে উঠলেন। আইয়ুব বাচ্চু যখন গিটার বাজাতেন, সেই সুর ঝলক দিয়ে উঠত শ্রোতাদের মনে। কনসার্টে একসঙ্গে এবির সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতেন ভক্তরা। ‘এবি’ ছাড়াও ভক্তরা তাকে আরও এক নামে ডাকতেন ‘বস’।
চট্টগ্রামের রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১৬ বছর বয়সে। আশির দশকের শুরুতে তিনি যোগ দেন বিখ্যাত ব্যান্ড ‘সোলস’-এ। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সোলসের সঙ্গে থেকে তিনি ‘সুপার সোলস’, ‘কলেজের করিডোরে’ ও ‘মানুষ মাটির কাছাকাছি’র মতো জনপ্রিয় অ্যালবামে কাজ করেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’।
১৯৯০ সালে আইয়ুব বাচ্চু গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম হিসেবে মুক্তি পায় ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’। সে বছর সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় অ্যালবাম হিসেবে পরিচিত হয় তার ‘কষ্ট’। নব্বই দশক থেকে আইয়ুব বাচ্চু জনপ্রিয়তা্র তুঙ্গে অবস্থান করে। কিন্তু এরপরও তেমন স্টারডর্ম কাজ করত না।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থেকেছেন এই কিংবদন্তী।
এবার তার মরণোত্তর একুশে পদক পাওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের উচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন আইয়ুব বাচ্চু।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক





