ভিডিও সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২১ রাত

নীলফামারী-৪ আসন উর্দুভাষীদের জন্য উর্দুতে মাইকিং

নীলফামারী-৪ আসন উর্দুভাষীদের জন্য উর্দুতে মাইকিং

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে মতো নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) এলাকায় জোরেশোরে চলছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। 
এ আসনে সর্বমোট ভোটার চার লাখ ৫১ হাজার ৮১৪ জন। এরমধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় দুই লাখ ৭৯ হাজার ৯১৪ জন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দুই লাখ ২৩ হাজার ৯০০ জন।

এছাড়াও পাঁচজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। সৈয়দপুর উপজেলার দুই লাখ ৭৯ হাজার ৯১৪ জন ভোটারদের মধ্যে আবার ৭০ হাজারের বেশি ভোটার হচ্ছে উর্দুভাষী (বিহারি)। বিগত ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর বিপুল সংখ্যক উর্দুভাষী পার্শ্ববতী দেশ ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশে আসেন। তারা মূলতঃ উর্দুভাষী (বিহারি)। এসব উর্দুভাষীরা সৈয়দপুর শহরের ২২টি উর্দুভাষী ক্যাম্পে ও  শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বসবাস করে আসছেন।

আগে ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষীরা ভোটার ছিলেন না। বিগত ২০০৮ সালে ভোটার করা হয়েছে তাদের। সেই থেকে তারা সকল স্থানীয় ও  জাতীয় নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আসছেন। বিপুল সংখ্যক উর্দুভাষী ভোটার হওয়ার কারণে সব নির্বাচনে প্রার্থীদর জয়-পরাজয়ে বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেন তারা। তাই বিপুল সংখ্যক উর্দুভাষী ভোটারের কথা বিবেচনায় নিয়ে বরাবরের মতো এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ভোট প্রার্থনায় সৈয়দপুর শহরে বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায়ও মাইকিং করা হচ্ছে জোরেশোরে। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে এই উর্দুভাষায় মাইকিং।

এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনাসহ নানা রকম নির্বাচনি স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। শহরে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ উর্দুভাষী ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই এখানে উর্দু ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে। বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকারের পক্ষে উর্দু ভাষায় মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে, ‘আব্দুল গফুর সারকারকো ধানের শীষ মার্কামে ভোট দ্যাকা কামিয়াব বানাইয়ে।’ অর্থাৎ আব্দুল গফুর সরকারকে ধানের শীষে ভোট নিয়ে জয়যুক্ত করুন।

আর জাতীয় পার্টির (এ) মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের পক্ষে উর্দু ভাষায় মাইকিংয়ে বলা হচ্ছে, ‘সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিককো আপ আপনা কিমতি ওট দেকার কামিয়াব বানাইয়ে আউর খিদমতকা মউকা দে।’ যার বাংলা করলে দাঁড়ায়-সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিককে আপনি আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিন।’

আরও পড়ুন

এ নিয়ে কথা হলে প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন প্রার্র্থীরা বলেন, মূলত উর্দুভাষীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতেই উর্দুতে মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে উর্দুভাষীরা খুব সহজে বুঝতে পারছেন কে কোন দলের কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী। কোন প্রার্থীর নাম কী বা প্রতীক কী।

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মো. মাজিদ ইকবাল জানান, উর্দুভাষীরা এদেশের ভোটার হয়েছেন। তারা এখন নাগরিক। তাই উর্দুভাষী নাগরিকদের কাছে তাদের মাতৃভাষায় ভোট প্রার্থনা শ্রেয়। উর্দুভাষায় মাইকিং করায় উর্দুুভাষী ভোটার ভাই-বোনরা অতিসহজে বুঝতে পারছেন কোন প্রার্থীর কী নাম,  কার কী প্রতীক, কে কোন দলের প্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, উর্দুভাষী পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম ছেলেমেয়েরা বাংলা ভাষায় লেখাপড়া করছেন। তাই তারা বাংলা ভাষা বুঝেন। কিন্তু উর্দুভাষী প্রবীণ ব্যক্তিরা বাংলা ভাষা বলতে কিংবা তেমন একটা বুঝেন না। তাই উর্দুভাষায় মাইকিং করায় তাদের জন্য অনেক সুবিধা হচ্ছে, তবে এটি নতুন কিছুই না। এর আগেও সকল স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রচারেও প্রার্থীদের পক্ষে উর্দুতে মাইকিং করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নীলফামারী-৪ আসন উর্দুভাষীদের জন্য উর্দুতে মাইকিং

বগুড়ায় জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন

তরুণ ভোটারদের সঙ্গে ব্যতিক্রমী আড্ডা করলেন জাইমা রহমান

জুলাই শহিদ মামুনের বোনের মাটির ব্যাংক হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত : মির্জা ফখরুল

প্রযুক্তির যুগে এসেও হারিয়ে যায়নি শৈশবের খেলনাঘর

বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে খেটে খাওয়া মানুষেরা স্বস্তিতে থাকে : মোশারফ চৌধুরী