ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা ও বাঘ সিংহের গল্প
গল্পটা দিয়েই শুরু করি। এক বনে তিনটি মাংসাশী প্রাণী ছিল। একটি সিংহ, একটি বাঘ ও একটি শিয়াল। শিয়াল ছিল খুবই ধূর্ত, সে শিকার ধরত না, অন্যের শিকার করা প্রাণী কৌশলে কিংবা চুরি করে এনে ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে বসে সে খেয়ে বেঁচে থাকত। বাঘ ছিল খুব অলস, সেও খুব একটা বেশী শিকার ধরত না, মাঝে মধ্যে অসুস্থ প্রাণীদের মেরে ভক্ষণ করে কোন রকমে জীবন রক্ষা করত, কিন্তু সিংহ তাঁর স্বভাব সুলভ ছিল, না খেয়ে মরলেও সে মরা কোন প্রাণী খেত না, কিন্তু ঝামেলা ছিল এক জায়গায় আর তাহল বনের নিরীহ প্রাণীদের উপর এরা এত অত্যাচার করত যে, এদেরকে দেখলেই বনের সকল প্রাণী ভয়ে পালাত, ফলে একার পক্ষে শিকার ধরা কঠিন হয়ে পড়ল, এদের এখন না খেয়ে মরার অবস্থা। অগত্যা সিংহ মুখ খুলল, সিংহ প্রথমে শিয়ালকে বলল ভাগনে চল এক সঙ্গে সবাই মিলে শিকার করি, একা একাতো শিকার করা যায় না। সিংহের হুকুম শিয়াল না মানলে ঘাড় মটকাবে, শিয়াল এক কথায় রাজী হয়ে গেল, সিংহ বাঘকে ডেকে বলল যে, এভাবে থাকলে আমাদেরকে না খেয়ে মরতে হবে, তার চেয়ে চল আমরা সবাই মিলে এক সঙ্গে শিকার করি, শিকার হওয়ার পরে আমরা সবাই বন্টন করে নিব। শেষ পর্যন্ত বাঘও রাজী হয়ে গেল। কথা যা কাজ তাই, তিনজনেই শিকারে নেমে পড়ল, যথারীতি তিনটি হরিণও তারা শিকার করল, একটা বড়, একটা মেঝো, একটা ছোট। বাঘ বলল, এবার বন্টন করা হোক। সিংহ বলল কিভাবে বন্টন হবে, মাথা মোটা বাঘ বলল কেন খুবই সোজা হিসাব, বড় হরিণটা আপনি নেন, মেঝোটা আমি নেই আর ছোটটা শিয়াল ভাগনে নিক। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সিংহ বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘের ঘাড় মটকিয়ে দিল, বেচারা বাঘ বেঘোরে প্রাণ দিল। বাঘকে মেরে ফেলা দেখে শিয়ালের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, এবার সিংহ বলল এখন কিভাবে ভাগ হবে ভাগনে তুমি বল। শিয়াল ছিল অতি চালাক। শিয়াল ভয়ে ভয়ে বলল, মামা হিসাব খুব সোজা, তুমি বড় মামা, এই মাত্র মেঝো মামা ইন্তেকাল করলেন। ফারায়েজ মোতাবেক মেঝো মামা মারা গেলে ভাই হিসাবে তার অংশ তোমার উপর গড়বে আমার উপর নয়, আমি দূরবর্তী ওয়ারিশ, আমিতো পাব না, তুমি পাবে, আর যেহেতু দুই অংশ তুমি পেলে, সেহেতু আমার অংশটাও তোমার উপরই পড়ে, এ অংশও তুমি নিয়ে নাও। শিয়াল একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে, সিংহ বীরদর্পে বলে উঠল ভাগনে তুমি আসলেই একজন পন্ডিত। শিয়াল কোন মতে প্রাণ নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচল। গল্পটার সারমর্ম এই যে, জোর যার মূল্লুক তার। কোন কারণ বা হেতু না থাকা সত্ত্বেও লাতিন আমেরিকার একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ভেনেজুয়েলা, সেই দেশ রাতের অন্ধকারে আক্রমণ করে একটি নির্বাচিত সরকার প্রধানকে স্ত্রীসহ কিভাবে আটক করে নিয়ে গিয়ে ডোনাল ট্রাম্প বেহায়ার মত বলে বসল, ভেনেজুয়েলা আমেরিকার অংশ, এখন থেকে আমেরিকা এর শাসনভার তুলে নিল। নপুংশক জাতিসংঘ যা ১৯৪৫ সালে ৫১টি দেশ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা কার্যত এখন অকার্যকর, আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনরূপ শক্তিশালী পদক্ষেপ নিল না। আমেরিকার পাগল এই প্রেসিডেন্টের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেও একটি টু শব্দ পর্যন্ত করল না। জাতিসংঘের মত এই সকল নখ, দন্তহীন প্রতিষ্ঠানের আদৌ কি এখন প্রয়োজন আছে ? যে সংস্থাটি কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারে না অল্প সময়ে সে সংস্থার দাফন অনিবার্য। রিয়্যাল এষ্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার নজর দিয়েছেন ডেনমার্কের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের দিকে, তিনি সেটাও নিবেন। বিশ্ব রাজনীতিতে তিনি এমন খেল দেখাচ্ছেন যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে দিয়ে একটি স্বাধীন দেশ ফিলিস্তিন দখল করে রেখেছে। কিছুদিন পূর্বেও আফগানিস্তানে আমেরিকার সৈন্য রেখে আশরাফ ঘানির মত একজন তল্পিবাহক সরকার দিয়ে আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। পাকিস্তানের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আমেরিকার কথা না শোনায় তাঁকে জেলখানায় থাকতে হচ্ছে। নীতি-নৈতিকতাবিহীন প্রায় উন্মাদ একজন শাসক ডোনাল্ড ট্রাম্প, যে কিনা নিজের মেয়ের সঙ্গে সেক্স করতে চায়। তার পাগলামী সিদ্ধান্তে বিশ্ব আজ টালমাতাল অবস্থা। আসলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ১৫টি রাষ্ট্র হওয়ার কারণে আমেরিকা একচ্ছত্র পাওয়ারে পরিণত হয়েছে, যেটা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্রের জন্যে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে ।
এড. মোঃ মোজাম্মেল হক
আরও পড়ুনলেখক : সাবেক সাধারণ সম্পাদক,
বগুড়া জেলা এ্যাডভোকেটস্ বার সমিতি।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








