প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২১ দুপুর
সংসদ ভেঙে নির্বাচনের ডাক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
সংসদ ভেঙে নির্বাচনের ডাক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি দেশের সংসদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। সংসদ ভাঙার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সংসদের স্পিকার একটি চিঠি পড়ে শোনান এবং আইনপ্রণেতারা ঐতিহ্যবাহী‘বাঞ্জাই’ স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান।
নিম্নকক্ষের ৪৬৫ জন সদস্যের বিলুপ্তি হওয়ার ফলে নির্বাচনের প্রচারণার জন্য মাত্র ১২ দিনের সময় হাতে পেয়েছে তারা। প্রচারণা আগামী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
তাকাইচি অক্টোবর মাসে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে তিনি প্রায় ৭০ শতাংশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দল জনগণের সমর্থন হারানোর কারণে কষ্ট পেয়েছে, তাই তাকাইচি তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে দলের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছেন।
তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) ক্ষমতাসীন জোটের নিম্নকক্ষে কেবল সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোতো বলেন, তাকাইচির মন্ত্রিসভার জনপ্রিয়তা এলডিপির ভোট বাড়াতে পারে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। জনগণ প্রধানত মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলা এবং অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এনএইচকে জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং চীনের সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যু এই নির্বাচনের মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এমনকি নভেম্বরে তাকাইচি তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চীন জাপানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল উভয়ই ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় খাদ্যের ওপর ভোগ কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
তাকাইচির এলডিপি দীর্ঘদিন ধরে জাপান শাসন করছে, যদিও নেতৃত্ব প্রায়ই পরিবর্তন হয়ে থাকে। প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (সিডিপি) নতুন মধ্যপন্থী জোট গঠন করে ভোটারদের তাকাইচির কাছ থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে, তবে বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা এখনও সীমিত। এ নির্বাচনের মূল ইস্যু হবে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যের দাম, ভোক্তাদের জীবনযাত্রার খরচ এবং চীনের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক




_medium_1769094962.jpg)
