ভিডিও শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৫২ দুপুর

মধ্যপাড়া খনির পাথর বিক্রির তাগিদ জ্বালানি উপদেষ্টার

মধ্যপাড়া খনির পাথর বিক্রির তাগিদ জ্বালানি উপদেষ্টার

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) পরিদর্শন শেষে খনি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় খনির বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খনির উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবহণ ব্যবস্থাপনা জোরদারে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ সময় উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশের খনিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মধ্যপাড়া খনিতে মজুদ থাকা পাথরের ব্যবহার বাড়াতে উপদেষ্টা বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এছাড়া জমাকৃত বোল্ডার পাথর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি পানি সম্পদ উপদেষ্টার সাথে ফোনে কথা বলেন। একই সাথে পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর থেকে মধ্যপাড়া পাথর খনি পর্যন্ত রেললাইন দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেন।

জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় অবস্থিত একমাত্র গ্রানাইট পাথর খনি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেয়া হলে ভারত থেকে চড়া দামে পাথর আমদানি বন্ধ করে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে খনির ইয়ার্ডে বিপুল পরিমাণ পাথরের মজুদ থাকলেও বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।

ঋণ করে ঠিকাদারের বিল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। খনির ইয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুদ আছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৫ হাজার টন ব্লাস্ট পাথর রেলপথে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য এবং ২ লাখ ২২ হাজার টন বোল্ডার নদী শাসনের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্রুত এসব পাথর বিক্রি না হলে খনির উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানিকৃত পাথরের তুলনায় মধ্যপাড়া খনি থেকে উৎপাদিত পাথরের গুণমান অনেক উন্নত যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। দেশে পাথরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন হলেও এর সিংহভাগ আমদানি করা হয় ভারত ও ভূটান থেকে।

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিকমানের এবং কম দামে পাথর থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে পাথর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যপাড়া পাথর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য দরপত্রের দরে মধ্যপাড়া পাথরের ব্যবহারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা পালন করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে খনির কর্মকর্তারা জানান, আমদানি পাথরের উপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং মধ্যপাড়ার পাথরের ট্যারিফ ভ্যালু বৃদ্ধি প্রয়োজন। মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডিএম জোবায়েদ হোসেন বলেন, বর্তমানে ৫-২০ (৩-৪) মিমি, ২০-৪০ মিমি, ৪০-৬০ মিমি (ব্লাস্ট), ৬০-৮০ মিমি ও বোল্ডার সাইজে পাথর উৎপাদিত হচ্ছে। তবে রেলপথে ব্যবহৃত ৫ লাখ ২৫ হাজার টন ব্লাস্ট পাথর এবং নদী শাসনের কাজে ব্যবহৃত ২ লাখ ২২ হাজার টন বোল্ডারের বিক্রি কমে গেছে।

তিনি জানান, মধ্যপাড়ার পাথর যে দামে বিক্রি হচ্ছে ভারত সে ভাবে দিতে পারবে না। আমাদের উৎপাদিত পাথর অত্যন্ত উন্নত। সরকারি সমস্ত উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করলে এবং সরকার দৃষ্টি দিলে বাংলাদেশের মধ্যে খনিটি রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন আরও বাড়াবে।

জিটিসি সুষ্ঠুভাবে খনিটি পরিচালনা করছে। খনিটির উৎপাদিত পাথর বিক্রি বাড়লে সরকারের প্রচুর রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ভারত-ভূটান থেকে দেশীয় অর্থ ব্যয় করে পাথর আমদানি বন্ধ করলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। খনির শ্রমিকরাও লাভবান হবেন।

কোম্পানি তাদের অথনৈতিক দিকে থেকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ ভাগ উন্নয়ন কাজে দেশীয় পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে না। যার কারণে মধ্যপাড়ার পাথর বিক্রি কমেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৭ বছরের জঞ্জাল বিএনপিকে পরিষ্কার করতে হচ্ছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

খিলক্ষেতে একটি হোটেলে আগুন লেগে দগ্ধ ৪

১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহন পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে: সড়কমন্ত্রী

মাগুরায় সড়ক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট কিনতে চেয়েছে ৩৭ লাখ মানুষ: রেলমন্ত্রী 

বাগেরহাটে নববধূ মিতুসহ তিনজনের দাফন সম্পন্ন