বগুড়ার আদমদীঘিতে শীতকালীন পিঠা বিক্রির ধুম
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : শীত মৌসুম এলেই বগুড়ার আদমদীঘি, মুরইল বাজার নসরতপুর ও সান্তাহারসহ বিভিন্ন বাজার এলাকায় শীতকালীন পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন রকমের পিঠা বিক্রি। এসময় মৌসুমি পিঠার দোকানগুলোতে ভোজনবিলাসী বাঙালি নারী-পুরুষ শিশুসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় জমে ওঠে।
এছাড়াও পিঠার দোকানের সাথে সাথে সিদ্ধডিম, ফুচকা, চটপটি, বুট-মুড়ির দোকানেও একই রকম ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উপজেলার বিভিন্ন ছোট ছোট বাজারের দোকানগুলোতে শীত মৌসুম ছাড়াও প্রায় সারা বছর পিঠাপুলি বেচাকেনার এমন দৃশ্য দেখা যায়। এই প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে এক শ্রেণির পুরুষ-নারী আসছেন শীতের পিঠা ও ডিম খাবার জন্য দোকানগুলোতে।
আদমদীঘি উপজেলা সদর বাসস্ট্যান্ড, মুরইল বাজার, নসরতপুর রেলগেট চত্বর, পূর্ব ঢাকারোড, কুন্দগ্রাম, চাঁপাপুর কড়ইতলা ও সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন গেট এলাকায় শীত মৌসুমে গড়ে উঠেছে শীতকালীন সব ধরনের পিঠা-পুলি, সিদ্ধ ও ভাজা ডিম, ফুচকা, চটপটি বারোভাজা বুটমুরি, ডালবড়া, পাকান পিঠা, পাটিশাপটা পিঠাসহ নানা ধরনের মুখরোচক সুস্বাদের খাবারের দোকান।
সান্তাহারের তপুর পিঠার দোকানে ডালবড়া, তেলপিঠা, পুড়ি, ঝালের পিঠা, পাটিশাপটা, কুশলিপিঠা, ভাপাপিঠাসহ প্রায় ১৬ রকমের পিঠা পাওয়া যায়। জিল্লুরের ডিমভাজির দোকানে ৬ প্রকারের ডিমভাজি বিক্রি হয়। এছাড়াও খায়রুলের ফুচকা মোংলা ও লোকমানের চটপটি, মকিমের সুস্বাধু বুট মুড়িমাখার দোকান।
আরও পড়ুনআদমদীঘি বাসস্ট্যান্ডের শাহ আলমের দোকানের ভাপা ও চালের মলকা পিঠা, মহসিনের সদরে বৌ সোহাগী পিঠা ঘরে ডালবড়া, ঝাঁলের কুশলি ও পাকান পিঠাসহ হরেক রকমের পিঠা, মুরইল বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলা মিলে শতাধিক দোকানে মুখরোচক পিঠা পাওয়া যায়। আর এসব সুস্বাদু পিঠা ও মুখরোচক খাবার দোকানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারী-পুরুষসহ সব বয়সের মানুষের ভিড় জমে। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একই রকমভাবে চলে বেচাকেনা।
পিঠা খেতে গ্রাম থেকে আসা তহির উদ্দিন, ফজলুল হক ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, শিক্ষার্থী শেফালি বেগম ও সাইদা বেগম বলেন, শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি গ্রাম বাংলার চিরায়িত সংস্কৃতির অংশ। শীত এলেই গ্রাম-গঞ্জে ঘরে ঘরে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে বেশ আনন্দ উৎসবের মধ্যে পিঠা খাওয়া হয়।
তবে বাজারে পিঠার দোকানে বসে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডার পাশাপাশি মুখরোচক পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। পিঠা বিক্রেতা তপু প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পিঠা বিক্রি করেন। মহসিন আলীর প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়।
মন্তব্য করুন








