ভিডিও বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪১ রাত

পঞ্চগড়ে দুইদিন পর সূর্যের দেখা মিললেও ছিল না উত্তাপ, রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

পঞ্চগড়ে দুইদিন পর সূর্যের দেখা মিললেও ছিল না উত্তাপ, রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

রাজশাহী/পঞ্চগড় প্রতিনিধি : অবিরত কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাঁপছে রাজশাহী। প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা কমছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোমবারের চেয়ে তাপমাত্রা আরও কমেছে। গতকাল সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েকদিন থেকে ক্রমাগত তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতে আরো অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল সাড়ে ৮ ডিগ্রি। এই ব্যবধান কম থাকার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা নেমে গেছে। তাই শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।

তাপমাত্রা নিচে নামার পাশাপাশি ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ঠান্ডা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। এরমধ্যেই যোগ হয়েছে মাঝারি শৈতপ্রবাহ। ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহজুড়েই এইরকম ঠান্ডা থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ শতভাগ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম মনে হচ্ছে।

এদিকে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে দুইদিন পর কয়েক ঘন্টার জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাতে ছিল না উত্তাপ। সূর্যের কিরণ না থাকা আগের দিনের মতই শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি)ও। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভারী কুয়াশার সাথে উত্তরের কনকনে শীতল বাতাস কাবু করে ফেলেছে এই জনপদের মানুষজনকে।

শীত নিবারণের গরম কাপড়ের অপ্রতুলতায় শীতার্ত মানুষগুলোকে খড়কুটো জ্বেলেও শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে এই তীব্র শীত ঘরে রাখতে পারেনি খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষদের। ঘন কুয়শার সাথে হীম শীতল বাতাস উপেক্ষা করেই তাদের কাজে বের হতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পুটিমারী এলাকায় দেখা দেছে তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে আলু ক্ষেতে কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষি শ্রমিকরা। ওই গ্রামের কৃষি শ্রমিক বিনতী রানি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিনে এনে দিনে খাই। ঠান্ডায় বাড়িতে বসে আগুন তাপালে কি আমাদের পেট ভরবে। কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত নাই।

ঠান্ডার মধ্যে মুড়ি-চা খেয়ে আমাদের জমিতে নামতে হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত ছিল ঘন কুয়াশায় ঢাকা। এ সময়ের মধ্যে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। কুয়াশা ভেদ করে বেলা দেড়টার দিকে দেখা মিলে সূর্যের। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আলোকিত করে রাখলেও কুয়াশার কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি।   

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গতকাল সোমবার সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের দিন ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হঠাৎ করে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অনেক বেশি কমে যাওয়ায় এই অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার কারণে উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। সেই সাথে উত্তর দিক থেকে আসা হিম শীতল বাতাসের কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাড়তে পারেনি। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল তিনটায় এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সোমবার রোদ না থেকেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় রোগীদের দেখতে হাসপাতালে সাবেক এমপি লালু

অভিনয় ছাড়া নিয়ে মুখ খুললেন প্রসূন আজাদ

বগুড়ার শাজাহানপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মহাসড়কে ফিল্মী স্টাইলে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার ৫

ঘুষের টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাতেনাতে আটক

মুন্সীগঞ্জে আদালতের নির্দেশে বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস

যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা ট্যাংকারের সুরক্ষায় সাবমেরিন পাঠালো রাশিয়া