সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের যৌথ হামলা
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি আস্তানায় শনিবার রাতে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বৃটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ব্রিটেন ও ফ্রান্স রবিবার জানিয়েছে, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালিয়েছে তারা, যাতে এই জঙ্গি সংগঠনটি আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে। ফ্রান্স বলেছে, এটি ছিল ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিসলভ’-এর অংশ, যা ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অভিযান।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার রাতে ফ্রান্সের সঙ্গে সমন্বয়ে সিরিয়ায় একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যেটি আইএস অস্ত্র মজুদের জন্য ব্যবহার করে থাকতে পারে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রয়েল এয়ার ফোর্স ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ অভিযানে দাইশের বিরুদ্ধে সফল হামলা সম্পন্ন করেছে।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এই স্থাপনাটি দাইশ দখলে ছিল, সম্ভবত অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংরক্ষণের জন্য। স্থাপনাটির চারপাশে কোনো বেসামরিক বসতি নেই।’ মন্ত্রণালয় আরো জানায়, পালমিরার প্রাচীন স্থাপনার উত্তরে চালানো বোমা হামলায় বেসামরিকদের ঝুঁকিতে পড়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।
আরও পড়ুনফরাসি সশস্ত্র বাহিনী এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, অপারেশন ইনহেরেন্ট রিসলভের অংশ হিসেবে ন্যাটোর এই দুই মিত্র দেশ ‘সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে’। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দাইশের পুনরুত্থান ঠেকানো অঞ্চলটির নিরাপত্তার জন্য বড় একটি বিষয়।’
আইএস ২০১৯ সালে সিরিয়ায় ভৌগোলিকভাবে পরাজিত হয়, তবে এখনো তাদের উপস্থিতি রয়েছে, বিশেষত দেশটির বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায়। গোষ্ঠীটি আবার শক্তি সঞ্চয় না করতে পারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার, কারণ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, যিনি নিজেও একসময় জিহাদপন্থী ছিলেন—এক বছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে অপসারণের পর দেশটির নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা করছেন।
ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত প্রাচীন নিদর্শনের স্থান পালমিরা একসময় জিহাদিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত মাসে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, পালমিরায় এক আইএস বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক মার্কিন বেসামরিক নিহত হয়েছে। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা সিরিয়ায় আইএসের ডজনখানেক হামলা চালিয়েছে লক্ষ্যবস্তুতে।সূত্র: আল-আরাবিয়া
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







_medium_1767602323.jpg)