ভিডিও রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫৯ দুপুর

শতাধিক মানুষকে গুম-খুনের মামলা

আজ জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি 

আজ জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি , ছবি: সংগৃহীত।

গুম করে শতাধিক মানুষ খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য রয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এবিষয়ে শুনানি করবে প্রসিকিশন । ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।এই মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য সময় চান প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী। আবেদন মঞ্জুর করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করা হয়। 

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে জিয়াউলে বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করে ট্রাইব্যুনাল। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম-খুনের তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

প্রথম অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে আটক সজলসহ তিনজন বন্দীকে নিয়ে জিয়াউল ও তার দল গাজীপুরের দিকে রওনা হন। ঢাকা বাইপাস সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে পর্যায়ক্রমে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় জিয়াউল।

দ্বিতীয় অভিযোগ বলা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ছিল জিয়াউল আহসানের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘হটস্পট। গভীর রাতে বন্দীদের ট্রলার বা নৌকায় করে নদীর মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মাথা বা বুকে বালিশ চেপে গুলি করা হতো। পরে পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হতো।

আরও পড়ুন

এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এভাবে সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা অভিযান পরিচালনা করা হতো। পূর্বে আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের বনদস্যু হিসেবে সাজিয়ে গভীর রাতে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। এসব অভিযানে র‌্যাবের বাছাই করা সদস্যরা অংশ নিত এবং অনেক ক্ষেত্রে জিয়াউল আহসান নিজেই উপস্থিত থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ নামে তিনটি অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে আছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ জিয়াউলের আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে শুনানি 

আদালতের নির্দেশ: ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেজ

মাহদী হাসানকে জামিন দিয়েছে আদালত

রাতের মধ্যে মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে : রিফাত রশিদ

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকার ৬ পয়েন্টে অবস্থানের ঘোষণা

তওবা ও আত্মসংযমের প্রয়োজনীয়তা