ভিডিও বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪০ বিকাল

বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৪৫ আসামি কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত, বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৪৫ আসামি কারাগারে

মোবাইল ফোন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসির ভবনে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তা‌র ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৪৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাগর তপাদার ৩৯ আসামির জামিন চেয়ে শুনানি করেন। এছাড়াও অপর ৬ আসামির পৃথক দুই আইনজীবী তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এস আই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৮), সৈয়দ আহমেদ শুভ (২৬), মো. শাহজাহান (৩২), অপূর্ব ইসলাম (২২), শরিফুল ইসলাম নিলয় (১৯), মো. জাহিদ হাসান হৃদয় (২৫), মো. শাহেদ ভূইয়া (২০), বুলবুল আহমেদ (২৬), দীপক হাজরা (২৬), মো. মান্না হোসেন (২৫), ইয়াছিন আরাফাত অর্নব (২৫), মো. আশরাফ উদ্দিন (৩০), মো. শাহ জালাল (২৮), মো. শাহিন (২১), মো. নাইম (২১), সাইদুর রহমান (১৯),  ইমতিয়াজ আহমেদ হৃদয় (২১), মো. রমজান (১৯), মো. সাব্বির হোসেন (২৪), মো. শাহিন (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম রিফাত (১৯), মো. মঈন হোসেন রাজন (২২), মো. অনিক হোসেন (২৭), মো. তরিকুল ইসলাম (২৪), মো. রিফাত হোসেন (২৩), মো. হানিফ মিয়া (২৫), মো. শাহাদাৎ হোসেন রাব্বি (৩২), মো. সোহানুল হক (২৪), মো. তারেক আজিজ (২৮), মো. সাজ্জাদ ইসলাম (১৯), মো. শিপন (২৩), মো. এজাজ হোসেন সিয়াম (২৪), মো. উনায়েস ইমরান (২৪), মো. মনিব আক্তার (২৫), মো. হারিজ (২৮), মো. সাব্বির হোসেন বিজয় (২২), এস এম মতিউর রহমান (৪৮), মো. রাজন শেখ (৩১), মো. আবু সাদিক রাকিব (২৯), মো. মামুন ব্যাপারী (২৪), মো. মজিবুর রহমান (৩২), মো. সালাহ উদ্দিন ব্যাপারী (৪০), মো. আমিনুল ইসলাম নাঈম (২৫), মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩), ও মো. আব্দুল্লাহ সবুজ (৩১)।

শেরেবাংলা থানার উপ-পরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আরও পড়ুন

আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তা‌র ৪৫ আসামিসহ পলাতক ৪৬ নম্বর হতে ৫৪ নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিটিআরসি ভবন, স্টাফবাস ভাংচুর করে। তারা ষড়যন্ত্রে সহায়তা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে রাষ্ট্রের এ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙচুর করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের নিয়ে একাধিকবার তাদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে সমাধানের জন্য বৈঠক করে। পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তক্রমে গতকাল ১ জানুয়ারি এনইআইআর সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এনইআইআর সিস্টেম চালু হওয়ায় গ্রেপ্তা‌র আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন আন্দোলনকারী ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা বিটিআরসি ভবনে হামলা করে। হামলা ভাঙচুরের কারণে বিটিআরসি ভবনের আনুমানিক (দুই কোটি) টাকার ক্ষতি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করেন বাদী।

এছাড়াও বিটিআরসির ৫১ সিট বিশিষ্ট গাড়িতে হামলা করে আসামিরা। যার ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় বাদীর মামলার পরে আসামিদের গ্রেপ্তা‌র করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মিলে ৪৫ আসামিকে গ্রেপ্তা‌র করে। ভাঙচুরের ঘটনায় বিটিআরসির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদী হয়ে শেরেবাংলা থানায় মামলা করেন।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফেব্রুয়ারিতেই বাজারে আসতে পারে অ্যাপলের নতুন আইফোন

জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৫

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল: প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরব দিয়ে বিদেশ সফর শুরু করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি