ভিডিও রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪২ রাত

জাল টাকা ঢুকছে বগুড়ায়, র‌্যাবের হাতে আরও ৩ জন গ্রেফতার

জাল টাকা ঢুকছে বগুড়ায়, র‌্যাবের হাতে আরও ৩ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকার কারবারি চক্র। শহর-বন্দর-উপজেলায় জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে এই চক্র। বগুড়ায় প্রায়ই জাল টাকা নিয়ে ধরাও পড়ছে চক্রের সদস্যরা। গতকাল শনিবার (২৯ নভেম্বর) র‌্যাব সদস্যরা এক লাখ ৫৭ হাজার টাকার জালনোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব সূত্র জানায়,র‌্যাব-১২ বগুড়ার সদস্যরা গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর পশ্চিম খলিফাপাড়ার ফারুক হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৫৭টি এক হাজার টাকার জাল নোটসহ (১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা) তিনজনকে গ্রেফতার করে। জালনোট কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য তারা।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, নাটোরের সিংড়া উপজেলার গদনকুড়ি গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে নায়েব আলী ওরফে নায়েব (৪২), রাজশাহীর তানোড় এলাকার মোঃ মোজাম্মেল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক (৪২) ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার  পাকিশা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ এনামুল হক (২৯)। এদের শেরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, গত ১২ নভেম্বর ডিবি পুলিশ শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের পাশ থেকে সার্জিল আহমেদ, বিপ্লব মিয়া, সেলিম বাবু ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাহবুব নামে চার কিশোরকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮ হাজার ৬০ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয।

অপরদিকে, ডিবি বগুড়ার আরও একটি টিম গত ৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলার পশ্চিম আলোহালিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকার জাল নোটসহ রাসেল মন্ডল (৩০) নামে একজনকে গ্রেফতার করে। পরে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জালনোট সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দেয় রাসেল।

সে বলে সে জাল টাকার বাহক মাত্র। জালনোট প্রস্তুতকারি চক্রের গড়ফাদাররা থাকে পর্দার আড়ালে। তবে তাকে তারা চেনে না। ডিবি সূত্র আরও জানায়, গ্রেফতার রাসেল আরও স্বীকার করেছে যে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক নারীর কাছ থেকে ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার জালনোট সংগ্রহ করে সে। এরপর সেই জালনোটগুলো লাখ প্রতি আসল ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে একজনের কাছে বিক্রি করবে বলে তার কথা হয়।

কথা অনুযায়ী দুপচাঁচিয়ায় জালটাকাগুলো বিক্রির জন্য সেই ক্রেতার অপেক্ষায় ছিল সে। ধৃত রাসেল আরও স্বীকার করে যে, তাদের নেটওয়ার্ক বিশাল। তাদের আরও অনেক সদস্য লাখ লাখ টাকার জাল নোট নিয়ে বগুড়ায় ঢুকে পড়েছে। চক্রের কেউ কেউ গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজার ও মার্কেটে গিয়ে ২-১শ’ টাকা মালামাল কিনে ব্যবসায়ী বা দোকানিদের কাছে জাল ৫শ’ টাকা নোট দেয়। এরপর সেই নোট নিয়ে বাঁকি টাকা ফেরত দেন দোকানিরা। এতে দোকানীরা ঠকে যান।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বগুড়ায় জালনোট আতংক বিরাজ করছে। প্রায়ই জালনোট নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। ২০ ও ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০,২০০,৫০০ ও এক হাজার টাকার জালনোটও পাওয়া যায়। কোনটা আসল আর কোনটা তা বুঝে ওঠা যায়না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হন ব্যবসায়ীরা।

জালনোট সম্পর্কে ধারণা রয়েছে এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অবিকল আসল নোটের মত জালনোট তৈরি করে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা বলেন, আসল টাকা নাড়াচাড়া করলে খসখসে ভাব অনুভূত হবে।

অন্যদিকে জাল টাকা মসৃণ হবে। এ ছাড়া জাল টাকার ক্রমিক নম্বর একই হয়ে থাকে। অনেক জাল টাকায় সিকিউরিটি সুতার মত দাগ থাকলেও ভিতরে সুতা থাকেনা। জালটাকা পানিতে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আসল টাকা পানিতে রাখলে খুব তারাতারি নষ্ট হয়না।

বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র ওসি মো: ইকবাল বাহার বলেন, শহর ও গ্রামীণ বাজারে জালনোট ঠেকাতে তৎপর রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতেও ডিবি কাজ করছে। তিনি বলেন জালটাকার মূলহোতা বা গড ফাদারদেরও আইনের আওতায় আনকে ডিবি কাজ করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাইলেন ডিপজল

জাল টাকা ঢুকছে বগুড়ায়, র‌্যাবের হাতে আরও ৩ জন গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ

অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া তুষার মন্ডল জামায়াতের কর্মী : পুলিশ

ইংল্যান্ড থেকে এসে যদি প্রধানমন্ত্রী না হন, দুই কূলই হারাবেনঃ এটিএম আজহারুল