ভিডিও রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৩৪ বিকাল

রংপুরে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা 

রংপুরে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা 

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর : রংপুর অঞ্চলে ক্যান্সার এখন নীরব মহামারি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রতিদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) ক্যান্সার বিভাগে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন বিভাগের ৮ জেলার রোগী। চিকিৎসকরা বলছেন, ক্ষেত্রবিশেষে রোগীরা রোগের প্রাথমিক লক্ষণ অবহেলা করে দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের দায়িত্বশীল চিকিৎসকরা জানান, রংপুরে মুখগহ্বর, ফুসফুস, জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। রোগীরা যখন আসেন তখন তাদের বেশিরভাগই স্টেজথ্রি বা স্টেজফোর পর্যায়ে থাকে। এই অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

রংপুর অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের হার বেশি। পান, জর্দা, খৈনি, গুল, সিগারেট এসবের ব্যাপক ব্যবহার মুখ ও গলার ক্যান্সারের জন্য বড় কারণ। আমরা প্রতিনিয়ত এসব রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখছি।

হাসপাতালের শিশু ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নুসরাত জামান বলেন, ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গেলে একেকটি পরিবারের থাকার খাওয়ার খরচসহ মোট ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অনেকে মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হন। ফলে রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেমথ্যারাপি মেশিন ১৫বছর ধরে নষ্ট হয়ে পরে আছে। এতে করে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. এরশাদুল হক রোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, এই অঞ্চলে স্ক্রিনিং সুবিধা কম হওয়ায় ক্যান্সার আগেভাগে শনাক্ত হয় না। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বা জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা না করার প্রবণতা ব্যাপক।

মুখে ঘা, অস্বাভাবিক ব্যথা, ক্ষত না শুকানো, রক্ত ওঠা বা ওজন কমে যাওয়ার মতো প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন অনেকে। ফলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রংপুরের গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

শিশু ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নুসরাত জামান জানান, আমরা চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রংপুর অঞ্চলে অত্যাধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রয়োজন।

চিকিৎসকরা তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ, গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতা ক্যাম্প, স্কুল-কলেজভিত্তিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। রোগটি নিরাময় যোগ্য যদি সময়মতো ধরা পড়ে। তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা 

নারী বিপিএল আয়োজনের ঘোষণা দিলেন বিসিবি সভাপতি

তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের পাঁচ হাফেজকে উপহার দেয়া হলো বাইসাইকেল

ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৩৬

বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় অভিনেত্রী চমকের প্রার্থনা

গাইবান্ধায় ৩১২৫৫ মে. টন পেঁয়াজ রসুন ও মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা