ভিডিও শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:২০ দুপুর

ফরিদপুরের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত, মহাসড়কেই দুপুরের খাবার খেয়েছেন আন্দোলনকারীরা

ফরিদপুরের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত, মহাসড়কেই দুপুরের খাবার খেয়েছেন আন্দোলনকারীরা, ছবি: সংগৃহীত।

মফস্বল ডেস্ক: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে নগরকান্দা ও সালথার সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেটের প্রতিবাদে অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

বুধবার সকাল থেকে ইউনিয়নবাসী ভাঙ্গা উত্তরপাড়, হামিরদী, মুনসুরাবাদ ও পুখুরিয়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে। আন্দোলনকারীরা জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

অবরোধে দূরপাল্লার যান চলাচল কম থাকায় বড় ধরনের ভোগান্তি হয়নি, তবে স্থানীয়রা হেঁটে কর্মস্থলে গেছেন। আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও অংশগ্রহণ আগের তুলনায় কমেছে।

যদিও মঙ্গলবার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মম ছিদ্দিক মিয়া রেলপথ অবরোধের ঘোষণাও দেন, তবে রেললাইনে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজকের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কিছুটা কমেছে। ভাঙ্গা দক্ষিণ পাড় বাসস্ট্যান্ডে বিএনপি নেতা খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, ‘জনগণের অধিকার ও দুই ইউনিয়নের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে বিএনপি সর্বদা পাশে থাকবে।’

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগে সাবেক সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাসদস্যরা মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন

এদিকে আবার,  আন্দোলনকারীরা সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন। দুপুর গড়িয়ে গেলে তারা মহাসড়কেই খাবারের ব্যবস্থা করেন।বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ এলাকায় আন্দোলনকারীরা সামিয়ানা টানিয়ে সড়কের ওপর বসে দুপুরের খাবার হিসেবে খিচুড়ি খান। এতে শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সকলে অংশ নেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ স্পষ্টভাবে জানাতে চাই— ভাঙ্গাকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে অন্য আসনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা কোনোভাবেই মানি না, মানবো না। এই সিদ্ধান্ত আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অস্তিত্বকে আঘাত করেছে। প্রয়োজনে আমরা রক্ত দেব, জীবন দেব, কিন্তু ভাঙ্গার মাটি কখনো কাউকে ছাড়বো না। ভাঙ্গা ভাঙ্গার কাছেই থাকবে, অন্য কোথাও যাবে না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে, রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান উঠবে, মানুষ অবরোধে থাকবে। ভাঙ্গা বাঁচাতে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়বো।ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা কাজী আরিফ (২৯) বলেন, ভাঙ্গা শুধু মানচিত্রের একটি ইউনিয়ন নয়, এটা আমাদের শিকড়, আবেগ আর অস্তিত্বের অংশ। প্রশাসন যদি মনে করে আমরা চুপচাপ মেনে নেব, তাহলে ভুল করছে। আমরা জানি- আন্দোলন মানে ভোগান্তি, কিন্তু ভাঙ্গা রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। রাস্তায় বসে থাকতে হবে, বসবো। তিনি বলেন, স্লোগান তুলতে হবে, তুলবো। প্রয়োজনে রাত কাটাবো মহাসড়কে। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, কিন্তু অবিচার হলে প্রতিবাদ করবই। আলগী আর হামিরদী ভাঙ্গার ছিল, ভাঙ্গারই থাকবে— এটাই আমাদের শেষ কথা।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, এত মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তারা বলেছে, দাবি মানা না হলে রাস্তা ছাড়বে না।

জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের গেজেটে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী আন্দোলন শুরু করে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেঁচে আছেন খামেনির স্ত্রী— ইরানি গণমাধ্যম

উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি

শুক্রবারও মধ্যপ্রাচ্যের ২৪ ফ্লাইট বাতিল

পাবনায় চায়ের দোকানে দুর্বৃত্তদের গুলি, আহত ২

ঈদে ৬ দিন ট্রাক কাভার্ডভ্যান-লরি চলাচল বন্ধ

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির