ভিডিও রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

আপেলের বীজ খেলে কি মৃত্যু হয়?

আপেলের বীজ

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আপেল নিয়ে অনেক পুরোনো একটি প্রবাদ হলো- “প্রতিদিন একটি আপেল আপনাকে ডাক্তারের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারে।” মূলত রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে আপেলের উপকারী দিক বোঝাতেই এই প্রবাদটির অবতারণা।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী হওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন অন্তত একটি আপেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

হেলথ লাইন ডটকমের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে আপেল সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পানি রয়েছে। সেই সঙ্গে আপেলে রয়েছে পলিফেনল, যা রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া, ফলটিকে হৃৎপিণ্ডের জন্যও উপকারী বলে থাকেন অনেকে।

এছাড়া, আপেল টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। পাশাপাশি পেকটিন নামে এক ধরনের প্রিবায়োটিক উপাদানের উপস্থিতির কারণে মিষ্টি স্বাদের ফলটি অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতেও সহায়তা করে।

এত গুণের পরেও আপেল খাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। আর এই ভীতির প্রধান কারণ, বীজ। আপেলের বীজে বিষাক্ত উপাদান থাকায় এই ভীতির সৃষ্টি।

বাস্তবতা হলো, আপেলের বীজ বিষাক্ত হলেও সেটির ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি শরীরে পড়ে না। আপেল বীজের খোলসের ভেতরে থাকে অ্যামিগড্যালিন। এটি আমাদের শরীরের বিশ্লেষিত হয়ে হাইড্রোজেন সায়ানাইডে (এইচসিএন) পরিণত হয়। আর এইচসিএন হলো এক ধরনের মারাত্মক বিষ, যা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, আপেলের বীজ থেকে অ্যামিগড্যালিন তখনই নির্গত হয়, যখন এটি চূর্ণ করে খাওয়া হয়। অর্থাৎ আপেলের বীজ না চিবিয়ে শুধু গিলে ফেললে এ থেকে অ্যামিগড্যালিন নির্গত হবে না, তাই এটির কোনো প্রভাব মানবদেহে পড়বে না।

আরও পড়ুন

 

আবার একটি র্নিদিষ্ট মাত্রার এইচসিএন ছাড়া শরীরের ক্ষতি হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। চিকিৎসকরা বলছেন, ঠিক কতগুলো আপেলের বীজের চূর্ণ ক্ষতিকারক হতে পারে তা নির্ভর করে শরীরের ওজনের ওপর। সাধারণত ০.৫ থেকে ৩.৫ মিলিগ্রাম সায়ানাইডই মানুষের শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, ১ গ্রাম আপেল বীজ গুঁড়োর মধ্যে ০.০৬-০.২৪ মিলিগ্রাম সায়ানাইড থাকে।

সেই হিসেবে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০টি আপেলের বীজ বেটে বা চূর্ণ খেলে (১ কাপ) খেলে তা শরীরের পক্ষে ভয়াবহ হতে পারে। এতে বলা হয়, সায়ানাইড আমাদের হার্ট ও মস্তিষ্ককে অচল করে দেয়। কোমায় চলে যাওয়া, এমনকী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। বেঁচে থাকলেও এর প্রভাবে হার্ট ও মস্তিষ্ক কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সায়ানাইড শরীরে গেলে হার্ট অ্যাটাক, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। অল্প পরিমাণ পেটে গেলে মাথা ধরা, বমি, পেট ব্যথা, দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

 

সাধারণত একটি আপেলে ৫-৮টি বীজ থাকে। অর্থাৎ মারাত্মক ক্ষতি তখনই হতে পারে, যখন কারো পেটে প্রায় ২৫টির মতো আপেলের বীজের চূর্ণ ঢুকবে। তাই আপেলে খাওয়ার সময় এর বীজে কামড় পড়ে গেলেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আর বীজ আস্ত অবস্থায় পেটে ঢুকে গেলেও একদমই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আপেল খাওয়ার সময় এর বীজ ফেলে দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ করে শিশুদর আপেল খাওয়ার সময় বীজ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

আপেল ছাড়াও অ্যাপ্রিকট, চেরি, প্লাম, পিচের মতো ফলের বীজের শক্ত খোলসের মধ্যেও অ্যামিগাডলিন থাকে। তাই এসব ফলের বীজও ফেলে দেওয়া ভালো।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলির সড়কে জলাবদ্ধতা 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১২ দিনেও পরিচয় মেলেনি লরির চাপায় নিহত দুই নারীর, চালক-হেলপার গ্রেফতার

বগুড়ার ধুনট পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার জমির ধান গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা

লালমনিরহাটের কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা

পাবনার সুজানগরের পদ্মা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

রংপুরে হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান