ভিডিও শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৫৭ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আমনক্ষেতে পোকা দমনে পাখির ওপর ভরসা কৃষকের

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আমনক্ষেতে পোকা দমনে পাখির ওপর ভরসা কৃষকের

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আমন ধানের ক্ষেতে পোকামাকড় দমনে প্রাকৃতিক উপায়ের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে ধানক্ষেতে গাছের ডালপালা, বাঁশের কঞ্চি ও ধইঞ্চাগাছ লাগিয়ে পাখি বসার ব্যবস্থা করছেন তারা। এসব ডালে ও গাছে বসে পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলছে। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের ক্ষেত ঘুরে পার্চিং পদ্ধতির এমন চিত্র দেখা যায়। কোথাও ধানের সারির মধ্যে গাছের ডালপালা পুঁতে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সারি করে লাগানো হয়েছে ধইঞ্চাগাছ। কৃষকেরা বলছেন, ধানক্ষেতে পাখি বসার ব্যবস্থা থাকলে পোকামাকড় দমনে সহায়তা পাওয়া যায়।

এতে বারবার কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন কমে আসে। কোলকোন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রামের কৃষক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ধানক্ষেতে পোকা দেখা দিলেই আগে কীটনাশক ছিটাতাম। এতে খরচ বাড়ত। এবার ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল পুঁতে রাখছি। পাখি এসে সেখানে বসে পোকামাকড় খাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় কীটনাশক কম ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পার্চিং পদ্ধতি দুই ধরণের ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। ডেড পার্চিংয়ে ধানক্ষেতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে লাইভ পার্চিংয়ে ধইঞ্চা বা পানিতে টিকে থাকতে পারে এমন গাছ লাগানো হয়। এসব গাছে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খায়। পাশাপাশি ধইঞ্চাগাছের পাতা পচে মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ হয়, যা জমির উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন

ধানের মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা ও ঘাসফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি সহায়ক ভূমিকা রাখে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়ায় ১৯ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ধানক্ষেতে কৃষকেরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং-দুই পদ্ধতিতেই পোকামাকড় দমনের চেষ্টা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, পার্চিং পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব ও বিজ্ঞানসম্মত। এ পদ্ধতিতে পাখি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। ফলে কীটনাশকের ব্যবহার কমে, উৎপাদন খরচ সাশ্রয় হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। কৃষকদের এ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেহেরপুরের গাংনীতে শিয়ালের কামড়ে নারীসহ ১১ জন আহত

১

কীর্তি সুরেশের অভিষেক

২

টঙ্গীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

৩

রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ও মেধায় এগিয়ে রাজশাহী, দ্বিতীয় বগুড়া 

৪

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ব্লাক স্পট তিশিগাড়ী বাঁকে দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু স্বামী আহত

৫

বাড়িতে ডিজে পার্টি, পুলিশের অভিযান: সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

৬