সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক তীর এলাকায়
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। তীরবর্তী এলাকায় বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ২০ দিন আগে থেকে যমুনার পানি বাড়তে শুরু করে। ঈদের পর থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে যমুনার পূর্বপাড়ে চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, চরবিনানুই, কাঁঠালিয়া ও হিজুলিয়া এবং ঘোরজান ইউনিয়নের মুরাদপুর ও ধীতপুর এলাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ১৪ মে থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করলেও গত মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজিপুর পয়েন্টে নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইসময়ে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় পানি ২৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনপানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকার নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে।
এছাড়া খাসকাউলিয়াসহ দুইটি স্থানের বাঁধে ভাঙন দেওয়ায় সেখানে ইতোমধ্যে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু স্থানে বাঁধ নেই। এসব এলাকাসমূহে বাজেট স্বল্পতার কারণে এখনই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মন্তব্য করুন







