লালমনিরহাটে মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের এক মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। লোমহর্ষক এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- অভিযোগটি তদন্তের পাশাপাশি ওই মানব পাচারকারীকে আটকের চেষ্টাও চলছে।
জানা যায়, ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে ওই মানব পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর চার ব্যক্তি লিবিয়ায় বর্তমানে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। একটি চক্র ওই চারজনকে জিম্মি করে চালাচ্ছে নির্যাতন এবং দেশে থাকা পরিবারের লোকজনের কাছে দফায় দফায় টাকা দাবি করছে।
এই চক্রের অন্যতম হোতা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার মো. সুজন নামের এক ব্যক্তি বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেও এক সময় লিবিয়া গিয়ে জিম্মি হন। পরে মুক্ত হয়ে এই মানব পাচার বাণিজ্যে নামেন। হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ধুবনী (হাজীর মোড়) গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে সুজন।
তিনি এক সময় লিবিয়ায় ছিলেন। পরে দেশে এসে ‘আদম পাচার’ কারবারে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে ঢাকায় থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ‘জিম্মি কারবার’ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লিবিয়ায় জিম্মিকৃত চারজন হলো- খুলনার রূপসা উপজেলার রামনগর গ্রামের ইসরাফিল মোল্লার ছেলে রাকিব হাসান, চর রূপসা গ্রামের রোকন হাওলাদারের ছেলে মুসফিকুর রহমান ইমন, ঢাকার সাভারের বাবুল আহমেদের ছেলে পলাশ হোসেন এবং রাজশাহী সিটির চন্দ্রিমা থানার হাফিজুল খাঁ।
আরও পড়ুনতারা ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে কয়েক মাস ধরে লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, মাদারীপুর সদর থানার দক্ষিণপাড়া গ্রামের হালিম চৌকিদারের ছেলে মো. জিসানের সাথে পাচার হওয়া চারজনের পরিচয় হয়। পরে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুজনসহ তিনি তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন।
কিন্তু ওই চারজনকে ইতালি না পাঠিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে জিম্মি করে রেখেছেন।
হাতীবান্ধা থানার ওসি রমজান আলী বলেন, সুজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার চারটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন





_medium_1775047625.jpg)

