ভিডিও মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:২৯ রাত

নির্বাচনে কেউ মেকানিজম করার চিন্তা করলে তারা পালাতে বাধ্য হবে : জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত, নির্বাচনে কেউ মেকানিজম করার চিন্তা করলে তারা পালাতে বাধ্য হবে : জামায়াত আমির

আগামী নির্বাচনে কেউ কোনো ধরনের মেকানিজম করার চেষ্টা করলে তারা পালাতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সম্মানে ‘ইন রিকগনিশন অফ সার্ভিস অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস: অ্যা স্যালুট টু আওয়ার ডিস্টিংগুইশড ভেটেরানস’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, তারা বিগত তিন বা চারটি নির্বাচনের মতো কোনো নির্বাচন আর দেখতে চান না। বোঝাপড়ার কোনো নির্বাচনও জামায়াত গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, বোঝাপড়া কোনো অথরিটির সঙ্গে নয়, সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটারদের সঙ্গে হতে হবে। অন্য কারো সঙ্গে নয়। জামায়াত এমন একটি নির্বাচন চায়, যেখানে জনগণের ভোটের মাধ্যমেই প্রতিনিধিত্ব নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, সবাই যদি সচেতন থাকে, তাহলে কেউ যদি কোনো ধরনের কারসাজি করার চিন্তা করে, তারা পালাতে বাধ্য হবে। জাতি বর্তমানে একটি ক্রস রোডে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন কোনো গণতান্ত্রিক ফরম্যাটেই পড়ে না। বর্তমানে যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৩৬ বছর, তাদের অনেকেই জীবনে একবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

জামায়াত এমন একটি নির্বাচন চায়, যেখানে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে এবং কোনো ভয় বা প্রশ্ন থাকবে না। তিনি বলেন, যদি সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।

আগামী নির্বাচনকে একটি আইকনিক নির্বাচন হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশন যে বক্তব্য দিয়েছে, জামায়াত তা শুধু কথায় নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেখতে চায়। এ জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত করতে হবে এবং প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রয়োজন। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এ বিষয়ে অনিচ্ছা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এর বাইরে আরও কত টাকা লুট হয়েছে, তার সঠিক হিসাব জানা নেই। দেশ আসলে গরিব নয়। চুরি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ৫০০ বা ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও তা করা উচিত। কারণ সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবল স্বল্পতা থাকলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে। কিন্তু সেই ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। এখন পর্যন্ত তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। কেউ যদি দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজ করতে না পারে, তাহলে তার সরে যাওয়াই উচিত। দায়িত্ব নিয়ে কাজ না করা শুধু অবহেলা নয়, এটি দায়িত্বের লঙ্ঘন।

জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে সাবেক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কোনো বেসামরিক ব্যক্তির কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়নি; তা প্রচারিত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কণ্ঠে। এই ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ন থাকবে। কেউ তা ম্লান করার চেষ্টা করলে তা হবে অন্যায়। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি সে সময় দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে সেনাবাহিনীর একজন অফিসারকে এগিয়ে আসতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গনি উসমানীর যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। একইভাবে স্বাধীনতার পতাকা প্রথম উত্তোলনকারী আসম আব্দুর রবের নামও যথাযথভাবে উচ্চারিত হয় না। যার যেখানে অবদান, তার স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো বীর জন্ম নেবে না।

চব্বিশের আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, শুধু বর্তমান কর্মরত সদস্য নয়, অবসরপ্রাপ্ত কিংবা জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো সদস্যদের ভূমিকাও ছিল সাহসী ও দায়িত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, রাওয়া ক্লাবে সাবেক কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন এবং মিরপুর ডিওএইচএসে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল মাহবুব উল আলম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল বাতেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন।

এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইনসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সাড়ে তিনশ থেকে চারশ সাবেক সদস্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনে কেউ মেকানিজম করার চিন্তা করলে তারা পালাতে বাধ্য হবে : জামায়াত আমির

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ

ভারতে বাংলাদেশ দলের জন্য নিশ্চিত কোনো হুমকি নেই, জানালো আইসিসি

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে গণভোট : আলী রীয়াজ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর নিখোঁজ সুকুমারের পথ চেয়ে ৯০ বছরের মা

গাইবান্ধার বোনারপাড়া স্টেশনে কলেজ ট্রেনের বগি থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার