ভিডিও শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়তংতার্নের বরখাস্তে শিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনীতিতে আবারও ধ্বস

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়তংতার্নের বরখাস্তে শিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনীতিতে আবারও ধ্বস,ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ের থাই প্রধানমন্ত্রী পায়তংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করেছে দেশটির আদালত।  আরও একবার বড় ধাক্কা খেলো থাইল্যান্ডের শিনাওয়াত্রা রাজনৈতিক গোষ্ঠী।  স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটি সাংবিধানিক আদালত তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

৩৯ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পায়তংতার্ন। তিনি শিনাওয়াত্রা পরিবারের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী যিনি সামরিক অভ্যুত্থান বা বিচার বিভাগের রায়ে পদচ্যুত হলেন। তার বাবা থাকসিন শিনাওয়াত্রা ২০০৬ সালে এবং খালা ইংলাক শিনাওয়াত্রা ২০১৪ সালে একইভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন। গত ১৭ বছরে পাঁচ জন প্রধানমন্ত্রীকে সাংবিধানিক আদালত সরিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় শিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

রয়টার্স, বিবিসিসহ এককাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়ছে, প্রধানমন্ত্রী পায়তংতার্ন শিনাওয়াত্রাকে একটি ফাঁস হওয়া টেলিফোন কলের কারণে নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কলটিতে তিনি কম্বোডিয়ার প্রভাবশালী সাবেক নেতা হুন সেনের সাথে কথা বলেছিলেন, যখন দুই দেশ সীমান্ত সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে ছিল। আদালতের ভাষ্য, পায়তংতার্ন জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং থাইল্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন।

জুন মাসে ফাঁস হওয়া এই কলে পায়তংতার্ন হুন সেননের কাছে একজন থাই সেনা কমান্ডারের সমালোচনা করেন, যা থাইল্যান্ডে জাতীয়তাবাদী উত্তেজনাকে উসকে দেয়। তিনি বলেছিলেন, হুন সেন যা চান, তিনি তা পূরণ করবেন, যা সমালোচকদের কাছে জাতীয় স্বার্থের সাথে আপস করার মতো মনে হয়েছে। এই কলের কয়েক সপ্তাহ পর দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাতে ৩৮ জন নিহত হয়, যার বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক, এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পায়তংতার্ন দাবি করেছেন, তিনি যুদ্ধ এড়াতে এবং সৈন্য ও বেসামরিকদের জীবন রক্ষার জন্য কথোপকথনটি করেছিলেন।

আরও পড়ুন

এদিকে আদালতের রায়ের পর পায়তংতার্নের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া ভুমজাইথাই পার্টির নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল নতুন সরকার গঠনের জন্য সমর্থন সংগ্রহ করছেন। তার দাবি, তিনি ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ভোট পেয়েছেন। তিনি চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফিউ থাই পার্টি তাদের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী, ৭৭ বছর বয়সী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল চাইকাসেম নিতিসিরিকে মনোনয়ন দেবে। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা, যিনি ২০১৪ সালে ফিউ থাই সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ ৩-৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে, তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি।

এই রায় থাইল্যান্ডকে আরও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফিউ থাইয়ের জোট এখন দুর্বল, এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। বিশ্লেষক স্টিথর্ন থানানিথিচোতের মতে, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ “কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ” হবে। অর্থনৈতিকভাবে, থাইল্যান্ড ইতিমধ্যে স্থবির রপ্তানি, উচ্চ গৃহস্থালী ঋণ এবং দুর্বল ভোক্তা ব্যয়ের সমস্যায় জর্জরিত। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা সংস্কারের প্রক্রিয়াকে আরও বিলম্বিত করতে পারে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে, যা বিক্ষোভের আকার নিতে পারে। বিরোধী দল, বিশেষ করে জনপ্রিয় সমর্থনপুষ্ট প্রগতিশীল দলগুলো, এই সুযোগে তাড়াতাড়ি নির্বাচনের দাবি জোরদার করতে পারে।

শিনাওয়াত্রা পরিবার, বিশেষ করে থাকসিন শিনাওয়াত্রা, দুই দশক ধরে থাই রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি ছিলেন। কিন্তু বিশ্লেষক নাপন জাতুস্রিপিতাকের মতে, শিনাওয়াত্রা ব্র্যান্ড অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পায়তংতার্নের রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা এবং অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা জনসমর্থন কমিয়েছে। থাকসিন এখনও ফিউ থাইয়ের পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে রয়েছেন, কিন্তু তার প্রভাব কমে যাওয়ায় এবং সম্ভাব্য নতুন জোটে ফিউ থাইয়ের জুনিয়র পার্টনার হওয়ার সম্ভাব্যতা কম।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খুলনায় জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর

এশিয়া কাপ শুরুর সময়ে পরিবর্তন

অজ্ঞান পার্টির সদস্য নিজেই অজ্ঞান

পাগলা মসজিদের দানবক্সে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলেছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা

রংপুরে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সার সংরক্ষণে গুদাম ঘর সংকট

ঠাকুরগাঁওয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক