ভিডিও রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

পাগলা মসজিদের দানবক্সে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলেছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা

পাগলা মসজিদের দানবক্সে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলেছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ১০টি লোহার সিন্দুক ও ৩টি ট্রাঙ্কের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সকাল থেকে গণনা শুরু হয়েছে দানবক্সে পাওয়া টাকা ও অলংকার। সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাড়ে ১১ কোটি টাকা গণনা করার খবর পাওয়া গেছে।

৪ মাস ১৮দিন পর আজ  শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খুলে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দুপুর আড়াইটা বিরতির সময় পর্যন্ত ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা গণনা করা হয়। সব টাকা গণনায় আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তাগণ। এছাড়া এবার রেকর্ড পরিমাণ টাকা মিলবে বলেও আশা প্রকাশ করছেন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ চার শতাধিক মানুষের একটি দল টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন। তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলার কথা থাকলেও মাদ্রাসা-কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাজনিত কারণে এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর দানবাক্স গুলো খোলা হয়। এ কারণে এবার নতুন করে বসানো হয়েছে আরও ৩ টি দানবাক্স।

এর আগেও অনিবার্য কারণে ৪ মাস ১২দিন পর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, আমরা দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকায় পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি নির্বাহের পাশাপাশি অন্য মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এমনকি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকজনকে সহায়তা করে থাকি।

তবে, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের সর্বাধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স তৈরির মাস্টারপ্ল্যানও হাতে নিয়েছি। এজন্য পাগলা মসজিদের তহবিলে ইতোমধ্যেই ৯১ কোটি টাকা জমা আছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝপথ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী সংলগ্ন হারুয়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় দু'শ বছরের অধিক সময়ের পুরোনো এ পাগলা মসজিদ। শহরের হয়রত নগর জমিদার বাড়ির পূর্ব পুরুষ আধ্যাত্মিক সাধক-পাগল হিসাবে পরিচিত জিল কদর খান এক সময় নরসুন্দা নদীর মাঝপথে জেগে ওঠা উঁচু টিলাতে তার আস্তানা গড়ে তুলেন। তার দেহাবসানের পর আস্তানাটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মসজিদটি এ কারণে সারা দেশের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবিদেশের মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের শেষ ঠাঁই হিসেবে বিবেচিত হয়ে উঠেছে এ মসজিদ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলির সড়কে জলাবদ্ধতা 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১২ দিনেও পরিচয় মেলেনি লরির চাপায় নিহত দুই নারীর, চালক-হেলপার গ্রেফতার

বগুড়ার ধুনট পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার জমির ধান গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা

লালমনিরহাটের কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা

পাবনার সুজানগরের পদ্মা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

রংপুরে হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান