নীরব কর্তৃপক্ষ
রাজশাহীর তানোরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সার, নীরব কর্তৃপক্ষ

মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় কৃষি বিভাগের যোগসাজশে সার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি’র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকার নির্ধারিত দাম থেকে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন ডিলার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এভাবে সারের অতিরিক্ত দাম নিলেও, দেওয়া হচ্ছে না কোন রশিদ। কখানোবা দিলেও সেখানে সরকার নির্ধারিত দাম লেখা হচ্ছে না। কেউ এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে চাহিদা মতো দেওয়া হচ্ছে না সার। একারণে প্রতিবাদ করারও কেউ সাহস পাচ্ছেন না। এ সুযোগে চৌবাড়িয়া বাজারের জয়নব টেড্রার্স, তালন্দ বাজারের কাজল, গণেশ ও মনিরুল পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট, ধুরইল ও মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এবং চৌবাড়িয়াহাট থেকে চোরাপথে প্রতিদিন ট্রলি করে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার পানির স্রোতের মতো তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে সিন্ডিকেট চক্র।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানা গেছে, খোলা বাজারে এমওপি ১ হাজার টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা সরকার নির্ধারিত দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিলাররা সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ দামে সব ধরণের সার বিক্রি করছেন। তারা কোথায় পাচ্ছেন এসব সার। সার বিপণন নীতিমালা অনুয়ায়ী এক এলাকার সার অন্য এলাকায় বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল শনিবার তানোর সদরের সার ব্যবসায়ী সৈয়ব আলী, প্রণাব সাহা ও তালন্দ বাজারের সুমন ও বাবুর ছেলের দোকানে কৃষক-চাষিদের মধ্যে হট্টগোল, ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তবে, এসব বিক্রিত সারের কোনো ক্রয় রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আসল-নকল না নিম্নমানের ভেজাল সেটা বোঝার ক্ষমতা নেই। আবার এসব সার কিনে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কিছু করার নেই সাধারণ কৃষকের।
প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে সরকার অনুমোদিত বিসিআইসি ডিলারগণ এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি সার দিতে পারছে না, সেখানে তারা চোরাপথে এসব সার দিচ্ছেন কীভাবে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গেল দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর তানোরে এমওপি (পটাশ) ও টিএসপি সার দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলাররা।
আরও পড়ুনতবে, এব্যাপারে বিসিআইসি ডিলাররা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আমদানিকারক নোয়াপাড়ার ফায়েজ ট্রেডিং কর্তৃপক্ষের ‘সিন্ডিকেট’কে দায়ী করছেন পাঁচন্দর ইউপির মেসার্স প্রাইম ট্রেডার্সের প্রোপাইটার প্রণব কুমার শাহ্। উপজেলায় ৯ জন বিসিআইসি ডিলার নিযুক্ত রয়েছেন। এসব ডিলাররা যশোহর নোয়াপাড়ার আমদানীকারক ফায়েজ ট্রেডিং এর মাধ্যমে সব ধরণের সার পেয়ে থাকেন। কিন্তু নোয়াপাড়ার ফায়েজ ট্রেডিং কর্তৃপক্ষ প্রভাবিত হয়ে কালো টাকার গন্ধে সিরিয়াল অজুহাতে চলতি মাসের শুরু থেকে সবধরণের সার সরবরাহে বিলম্বিত করছেন। ফলে সেখান থেকে চলতি মাসে এটুকু সার পাননি ডিলাররা।
তানোর পৌর এলাকার তালন্দ বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার প্রয়াত মোহাম্মাদ আলী বাবুর নামে রয়েছে। তালন্দ বাজারে অবস্থিত তার ছেলের দোকানে ও বাড়িতে একাধিকবার গেছেন। সেখানে তার গুদাম ঘরে সার দেখছেন। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে তাকে সার না দিয়ে সপ্তাহ ধরে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান ওমর হাজী। এনিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও এখনো কোন সার পাওয়া যায়নি।
তবে, এ ব্যাপারে বাবুর ছেলে ও প্রণাব সাহা বলেন, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের বরাদ্দ কম। আমরা না পেলে কৃষকদের কাছে বিক্রি করব কীভাবে? তবে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ ব্যাপারে এড়িয়ে গেছেন এই দুই সার ডিলার।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, সরকারিভাবে এবার টিএসপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ কমিয়ে ডিএপি সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তাতে সারের সংকট হওয়ার কথা নয়। তবে, কৃষকরা না বুঝে টিএসপি সারের প্রতি ঝুঁঁকেছেন। আমরা কৃষকদের টিএসপি’র বদলে ডিএপি ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কোন ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন