সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলনবিলে বাইচের নৌকা ও বরযাত্রীবাহী নৌকার সংঘর্ঘে নিহত ২

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : চলনবিলের সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া অংশে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শ্যালোচালিত বিয়ের নৌকার সাথে বাইচের নৌকা ‘মায়ের দোয়া এক্সপ্রেস’ এর সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহতরা বাইচের নৌকার বাইচাল।
নিহতরা হলেন- উপজেলার চলনবিল পাড়ের চাকসা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে রহিচ উদ্দিন (৪৩) এবং নরসিংহপাড়া গ্রামের কোবাদ আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩৭)। গুরুতর আহত ২ বাইচাল হলেন- শাহাদত হোসেন ও আব্দুল আলীম। তাদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ গতকাল শনিবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলার চলনবিল পাড়ের নরসিংহপাড়া এলাকা থেকে শ্যালোইঞ্জিন চালিত বরযাত্রীবাহী নৌকাটি আটক করেছে। ঘটনার পর অবস্থা বেগতিক দেখে বরযাত্রীবাহী শ্যালো নৌকার মাঝিমাল্লারা বিলের নিরাপদ জায়গায় বর-কনেসহ বরযাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে নৌকা বিলের ওই স্থানে রেখে পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, রাতে অন্ধকারে বরযাত্রীবাহী নৌকার যাত্রীরা প্রচন্ড আওয়াজে বক্সে গান বাজিয়ে নেচে গেয়ে বর-কনে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় উভয় নৌকার হালের মাঝি অন্ধকারে কোন সংকেত ও অবস্থান বুঝতে না পারায় ওই দুঘর্টনা ঘটে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. মামুন ও বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শওকত আলী জানান, রাত ৮টার দিকে চাকসা দক্ষিণপাড়া মায়ের দোয়া এক্সপ্রেস নামের একটি বাইচের নৌকা চলনবিলের শুকলাই নামক স্থানে বাইচে (প্রতিযোগিতা) অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে বিলে মহড়া (অনুশীলন) করছিল।
আরও পড়ুনমহড়ার এক পর্যায়ে ওই সংঘর্ষ হয়। বিয়ের নৌকাটি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর রতনকান্দি এলাকার বলে জানা গেছে। তবে বর-কনে ও বরযাত্রীদের শনাক্ত করা যায়নি। সংঘর্ষে বাইচের নৌকাটি সাথে সাথে ডুবে যায়। বাইচের নৌকায় ৫০ জন বাইচাল ছিল। তারা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে বিলের পানিতে সাঁতারাচ্ছিল। এ সময় বিলে অবস্থানকারী জেলেদের মাছ ধরা ও যাত্রীবাহী কয়েকটি নৌকা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
দুঘর্টনার প্রায় ৬ ঘন্টা পর গভীর রাতে বিলে উল্লেখিত রহিচ উদ্দিন ও নূর মোহাম্মদের লাশ ভেসে ওঠে। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
নিহত দুই ব্যক্তির লাশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে নিহত নুর মোহাম্মদের ভাই নুরুল ইসলাম উল্লাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সংঘর্ষে সম্পৃক্ত শ্যালো নৌকাটি আটক করা হয়েছে। সেই সাথে পালিয়ে যাওয়া দোষী মাঝিমাল্লাদের ধরতে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন