ভিডিও রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫

এক গাছেই ফলেছে এক মণ!

বগুড়ার শাজাহানপুরে জি-নাইন কলার বাম্পার ফলন : ২০ শতকেই লাখ টাকার স্বপ্ন 

বগুড়ার শাজাহানপুরে জি-নাইন কলার বাম্পার ফলন : ২০ শতকেই লাখ টাকার স্বপ্ন। ছবি : দৈনিক করতোয়া

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শাজাহানপুরে উচ্চ ফলনশীল জাতের জি-নাইন কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। অত্যধিক ফলন পেয়ে উজ্জীবিত হয়েছেন বামুনিয়া চাঁদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ফয়েজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা মোকছেদ আলী। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে কলার বড় বড় কাদি। এক গাছেই ফলেছে ১ মণ কলা। ২০ শতক জমিতে ১৮০টি কলার চারা রোপণ করে স্বপ্ন বুনছেন লাখ টাকা উপার্জনের।

কৃষক পরিবারের সন্তান মোকছেদ আলী ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে মাঠে কৃষি কাজ করতেন। লেখাপড়ায় মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোতে পারেননি। একপর্যায়ে ঢাকা গিয়ে কাঁচামালের ব্যবসা শুরু করেন। ১৭ বছর পর ব্যবসা ছেড়ে ফের কৃষি কাজে ফিরে আসেন এবং ছয় বছর যাবত ফসল চাষ করছেন।

মোকছেদ আলী জানান, ২০২৩ সালে টিএমএসএস’র আয়োজিত কৃষি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণে অংশ নেন তার চাচা সাইফুল ইসলাম। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি নার্সারিতে যান সাইফুল ইসলাম। সেখানে উপহার হিসেবে তাকে দেওয়া হয় জি-নাইন জাতের তিনটি কলার চারা। ওই চারা লাগিয়ে অবাক করার মতো ফলন পান সাইফুল।

সেই ফলন দেখেই জি-নাইন জাতের কলা চাষে উদ্বুদ্ধ হন মোকছেদ আলী। ২০২৪ সালে মিঠাপুকুরের ওই নার্সারিতে যোগাযোগ করে জি-নাইন কলার চারা সংগ্রহ করেন এবং সেপ্টেম্বরে ২০ শতক জমিতে চারা রোপণ করেন। এরপর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিনের পরামর্শ ও নিবির পরিচর্যায় গাছগুলো তর তর করে বেড়ে উঠেছে। ঘন সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে পুরো বাগান।

আরও পড়ুন

মোকছেদ আলী আরও জানান, কলার সাথে সাথী ফসল হিসেবে তিনি কয়েক দফা পেঁয়াজ ও ফুলকপি লাগিয়ে ছিলেন। সাথী ফসলের আয় দিয়েই কলা চাষের খরচ উসুল হয়েছে। সাথী ফসল তোলার পর এখন পুরো বাগানজুড়ে শোভা পাচ্ছে কলার বড় বড় কাদি।

প্রতি কাদিতে ফলেছে ১৪-১৫টি করে কলার ছড়া। এতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে মোকছেদ আলীর কলার বাগান। প্রতিটি কাদির বাজার মূল্য ৬ থেকে ৭শ’ টাকা। সে হিসেবে ২০ শতক জমি থেকে মোকছেদ আলীর আয় হবে লাখ টাকা। মোকছেদ আলী নিজেও এ বছর আরও অতিরিক্ত ২০ শতক জমিতে জি-নাইন কলা চাষ করবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন জানান, সচরাচর কলার চেয়ে জি-নাইন জাতের কলার ফলন অনেক বেশি। টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করায় এই ফসলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ একেবারেই কম। সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর যথেষ্ট চাহিদাও রয়েছে। ফলে জি-নাইন কলা চাষে তরুণ উদ্যোক্তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলির সড়কে জলাবদ্ধতা 

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১২ দিনেও পরিচয় মেলেনি লরির চাপায় নিহত দুই নারীর, চালক-হেলপার গ্রেফতার

বগুড়ার ধুনট পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার জমির ধান গাছ কেটে জমি দখলের চেষ্টা

লালমনিরহাটের কাঁচাবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা

পাবনার সুজানগরের পদ্মা নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

রংপুরে হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান