বাজেটে উপেক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা হতাশ উত্তরাঞ্চলের মানুষ

বাজেটে উপেক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা হতাশ উত্তরাঞ্চলের মানুষ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: তিস্তার পাড়ে বসবাসকারী মানুষের কাছে প্রতি বছরের জাতীয় বাজেট যেন নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসে। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো পরিবার, শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার করা কৃষক কিংবা বন্যার আতঙ্কে থাকা মানুষজন অপেক্ষায় থাকেন, হয়তো এবার শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা বা বরাদ্দ না থাকায় হতাশ উত্তরাঞ্চলের মানুষ।

তিস্তা নদীকে ঘিরে রংপুর বিভাগের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা। বর্ষায় ভয়াবহ ভাঙন, আবার শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা, দুই বিপরীত সংকটের সাথে বছরের পর বছর লড়াই করে বেঁচে আছেন তারা। রংপুরের গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিবার শুনি তিস্তার কাজ হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না। পানি না থাকলে ফসল হয় না, আবার বর্ষায় নদী ঘরবাড়ি নিয়ে যায়। আমরা কবে এর সমাধান পাব জানি না।

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু বাজেটে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না থাকায় মানুষ হতাশ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম, প্রয়োজনে তিস্তা বন্ড চালু করে, কাজ শুরু হওয়ার পর বালু ও পাথর বিক্রি করে নিজস্ব অর্থায়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। বিদেশি বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীলতা নয়, আমরা চাই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক।

রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নদী, প্রকৃতি ও নদীপাড়ের মানুষ। তিনি আরো বলেন, বাজেটে সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রংপুর। রংপুর বিভাগকে বাংলা মায়ের সতিন হিসেবে পরিচিত না করে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172648