বগুড়ার ধুনটে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে বহুতল ভবন

বগুড়ার ধুনটে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে বহুতল ভবন

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট পৌরসভার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র বহুতল ভবন গড়ে উঠলেও ভবন নির্মাণে কেউ পৌর আইন মানছে না। বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণের কারণে শহরের বাসিন্দারাই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব ভবনে এখনো অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই। তবে এ বিষয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ধুনট পৌরসভার আয়তন ৪.৮৫ বর্গকিলোমিটার এবং বর্তমান এটি ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা। এখানে প্রায় ২২ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে ভবন নির্মাণের জন্য নকশার অনুমোদন দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুই ক্যাটাগরিতে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণে পৃথক অনুমোদন নিতে হয় ফায়াস সার্ভিস থেকে।

এছাড়া বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে হোল্ডিং নম্বর ও ট্রেড লাইসেন্স দেয় পৌরসভা। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে এসব অনুমোদনের আবেদন করতে হয়। কিন্তু এই পৌর এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পৌরসভার অনুমোদনের তোয়াক্কা করেন না ভবনের মালিকেরা। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২২ মে বিধিমোতাবেক কয়েকটি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে আর কোন ভবন নির্মাণে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আর ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন নেয়ার আগ্রহ নেই ভবন মালিকদের। গত এক বছরে নীতিমালা লঙ্ঘন করে পৌর এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে শতাধিক ভবন।

অপরিকল্পিতভাবে পৌরসভার অনুমোদনহীন এসব বহুতল ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে ভবনের সামনে প্রশস্ত রাস্তা থাকতে হবে। এই শহরে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ ভবনের সামনে ওই পরিমাণ রাস্তা নেই।

এতে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে বহু প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। দুর্ঘটনা ও দুর্যোগকালীন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার জন্য এসব বহুতল ভবনের সামনে প্রশস্ত রাস্তা নেই। বিধিমোতাবেক বাসার পেছনে ও উভয় পাশে ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি করে জায়গা ছাড়তে হয়। অর্থাৎ দু’টি বাসার মাঝে দূরত্ব থাকবে ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি। আর ভবনের সম্মুখভাগে ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি জায়গা ছাড়া থাকতে হবে। কিন্তু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এ কোড মানা হচ্ছে না।

ধুনট পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী সাজিদি হক বলেন, অনুমোদন ছাড়া কতগুলো ভবন নির্মাণ হয়েছে এ হিসেব পৌরসভায় নেই। ইতিমধ্যে বেশকিছু নির্মাণ হচ্ছে। তবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে কেউ আবেদন করলে তাকে বিধি মোতাবেক অনুমোদন দেওয়া হয়।

পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনুমোদন না নিয়ে যে কয়টি ভবনের কাজ চলছে তাদের প্রতি পৌর নির্বাহী অফিসার ও প্রকৌশলীকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিত ভবনগুলো চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/171234