লালমনিরহাটে মাঠজুড়ে সোনালি ধান তবুও অনিশ্চয়তায় কৃষকরা

লালমনিরহাটে মাঠজুড়ে সোনালি ধান তবুও অনিশ্চয়তায় কৃষকরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে একদিকে মাঠজুড়ে সোনালি ধান, অন্যদিকে আকাশজুড়ে কালো মেঘ। ধান ঘরে তোলার এমন সময়ে কৃষকের হতাশা আরও বাড়িয়েছে বাজারদর। কৃষকেরা বলছেন, এই দামে ধান বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে ৪৮ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১০ হেক্টর বেশি। এর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু অনিশ্চিত আবহাওয়া সেই সোনালি স্বপ্নকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে। কৃষকরা ধান কাটতে সাহস পাচ্ছেন না, আবার কোথাও কাটা ধান আচমকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি মণ ধানে উৎপাদন খরচ হয়েছে সাড়ে ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা মণ। ফলে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।  আদিতমারী ভাদাই গ্রামের কৃষক সবুর মণ্ডল বলেন, এক সপ্তাহ আগে ধান পেকে গেছে। কিন্তু এখন কেটে ফেললে যদি বৃষ্টি হয়। শুকাতে না পারলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

কালীগঞ্জের চলবলা গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ধানের দাম কম, আর খরচ অনেক বেশি। এর আগে আলু আর তামাকেও লোকসান হয়েছে। এখন ধানেও লোকসান। দুহুলী কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ধানে ফলন ভালো হয়েছে ঠিকই তবে দাম নেই। বাজারে গেলে ধানের দামই বলে না। উৎপাদন খরচ পড়ছে ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকা। বিক্রি করতে হচ্ছে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা মণ।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। মাড়াই মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ধান বাঁচাতে ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কর্তন করে নিতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ধান শুকানোর পরে সরকারি গুদামে বিক্রি করলে কৃষকদের লাভ হবে। কৃষকদের ধান কিনতে খাদ্য বিভাগে আমরা কৃষকদের তালিকা দিয়েছি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168296