জয়পুরহাটের কালাইয়ে রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট
কালাই প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাইয়ে নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চলাকালীন অফিস কক্ষে হামলা-ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ ওঠেছে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কালাই পৌরশহরের আঁওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শান্ত করার পাশাপাশি ভাযচুর করা ঘরের তালা খুলে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। হামলার ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে।
পুলিশ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫ সালে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে মোছা. হুমায়রা নামে এক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর বিজ্ঞান বিভাগে রেজিস্ট্রেশনও হয়। বই বিতরণের সময় ওই শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগের বইও নেয়। সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ে অর্ধবাষিকী পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করে। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই জাহিদ বিদ্যালয়ে এসে তার বোনের রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে জানতে চান। এসময় অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ তাকে রেকর্ডপত্র দেখান। এরপর তিনি রেজিস্ট্রেশন বিজ্ঞান বিভাগ নয় মানবিক বিভাগ হবে বলে তর্কে জড়ান। ওই সময় তিনি বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালিন ওই শিক্ষার্থীর বাবা আঁওড়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গির হোসেন, ভাই জাহিদ, চাচাতো ভাই মোর্শেদুলসহ ৬-৭ জন হাতে লাঠি, মাটি কাটা কোদাল, রড ও হাঁসুয়া নিয়ে অফিস কক্ষে অফিস সহকারী মামুনুর রশিদের ওপর হামলা করে। তখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে আতঙ্কিত হয়ে বের হয়ে যায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা অফিস সহকারী মামুনুর রশিদকে মারপিট করে এবং কক্ষের ভিতরে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টার, টেবিল, আলমিরা, চেয়ার ভাঙচুর করে। এরপর বিদ্যালয়ের সততা স্টোরের মালপত্র ও বাক্সে থাকা টাকা এবং বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে সবাইকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে চলে যান। কেউ যদি এই ঘর খোলার চেষ্টা করেন, তাহলে তারও খবর আছে বলে হুমকি দেন হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ঘরের তালা কেটে প্রবেশ করেন এবং ভাঙচুরকৃত মালামাল দেখেন।
অফিস সহকারী মামুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থী হুমায়রা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ত। তার রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এখন সে মানবিক বিভাগে ক্লাস করবে। আজ সকালে তার ভাই এসে জানতে চায়, মানবিক বিভাগের ছাত্রী হয়ে বিজ্ঞান বিভাগে রেজিস্ট্রেশন কেন করা হয়েছে। তারপরও বলা হয়েছে, যদি বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে না চায় তাহলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এরপর ওই শিক্ষার্থীর বাবা, ভাই ও তাদের সহযোগীরা এসে আমাকে মারপিট, অফিস ভাঙচুর, কাগজপত্র লুট ও সততা স্টোরের মালামাল ও টাকা নিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে চলে যায়। তারা যাওয়ার সময় সবাইকে হত্যার হুমকিও দেয়।
ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই অভিযুক্ত জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম এটা সত্য, তবে কাউকে মারধর বা ভাঙচুর করিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তফা খান বলেন, হুমায়রার বাবা অনেক আগে থেকেই স্কুলের বিরোধিতা করে আসছে, যা এই এলাকার সবাই জানেন। রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে, তারপরও তারা কয়েকজন মিলে অফিস কক্ষে হামলা, মারপিট, কাগজপত্র ও সততা স্টোরের মালামাল ও টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে সবাইকে অবগত করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কালাই থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/168032