এবার বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন আয়াতুল্লার

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২, ০২:০৬ দুপুর
আপডেট: ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২, ০২:০৬ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

রোজিনা সুলতানা রোজি, রাজশাহী: বাসা থেকে পাঠানো টাকা থেকে কিছু অংশ জমিয়ে পুরো দেশভ্রমণ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ। এবার স্বপ্ন দেখছেন বিশ্বভ্রমণের। স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর দিনাজপুর জেলা দিয়ে শুরু করে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলা ভ্রমণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ শেষ করেছেন তিনি।
ভ্রমণের শুরুর গল্পে আয়াতুল্লাহ জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অত্যন্ত ঘরকুনো ছিলাম। এতদিনে নিজ জেলা বরিশাল ব্যতীত অন্যকোথাও ভ্রমণ করিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে সর্বপ্রথম ঢাকায় আসি। পরবর্তীতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে কয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রথম বর্ষের শেষের দিকে সর্বপ্রথম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দিনাজপুরে যাই। মূলত দিনাজপুর ভ্রমণের নানা সুখকর এবং কষ্টময় স্মৃতিই আমাকে ভ্রমণের দিকে আকৃষ্ট করে তোলে। এরপরই পুরো দেশভ্রমণের মিশনে নামি।
ভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতার গল্প শোনায় আয়াতুল্লাহ। তিনি বলেন, বাসায় বাবা-মা, বড় এবং ছোটভাই আজ অবধি জানেন না যে আমি পুরো দেশভ্রমণ করে ফেলেছি। জানবেই বা কি করে! ভ্রমণের জন্য তো কোনোদিনও বাসা থেকে অতিরিক্ত টাকা নেইনি।
কম খরচে কিভাবে পুরো দেশভ্রমণ করা হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ভ্রমণে বের হলে যে জায়গায় যেতাম সে জায়গার বন্ধুদের সহযোগিতা পেতাম। তাদেরই বাসায় থাকতাম। অনেক সময় দোকানে বসে চায়ের আড্ডায়, কখনও লঞ্চঘাটে আবার কখনও মসজিদে, রেলস্টেশনে কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলের উপজাতিদের সঙ্গে ঘুমিয়েও রাত কাটিয়েছি। ভ্রমণের পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাসহ দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের মাঝে সন্তান শিক্ষার গুরুত্ব, মাদকের ভয়াবহতা, ভ্রমণের গুরুত্ব, শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতেও কাজ করেছি।
আয়াতুল্লাহ জানান, সম্প্রতি টেকনাফ টু তেতুলিয়া বাইসাইকেল চালিয়ে ভ্রমণের উদ্যোগও নিয়েছিলাম। এই ভ্রমণে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করার প্রবল ইচ্ছাও ছিল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে এই ভ্রমণ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো সহযোগিতা পেলে অবশ্যই ভ্রমণটি সমাপ্ত করবো। আর পড়াশোনা শেষ করেই আমি পা বাড়াবো বিশ্বভ্রমণের স্বপ্নপূরণে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়