খাগড়াছড়ির হেরিটেজ পার্ক প্রকৃতির সাথে আধুনিকতার প্রলেপ

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০

মো. ইব্রাহিম শেখ, পার্বত্য অঞ্চল প্রতিনিধি: ধিরে ধিরে বদলে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির বহুল আলোচিত হেরিটেজ পার্ক। একের পর এক তিলত্তোমা করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি পরতে পরতে লেগেছে নান্দনিকতার ছাপ। এক সময়ের অবহেলিত জীর্ণশির্ন পরিত্যাক্ত পাহাড়ে এখন পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলা। প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে গড়ে তোলা নৈসর্গিক হেরিটেজ পার্ক কপোত-কপোতিদের নতুন ঠিকানা। এখানে এখন অনেকের জন্য একখন্ড সময় কাটে প্রকৃতির খুব কাছে। তাদের হৃদয়, মন ছুঁয়ে যায় এখানকার নৈসর্গিক রূপ-লাবন্যে। হেরিটেজ পার্কে নতুনভাবে স্থাপিত হবে ছোট্ট একটি জাদুঘর। যেখানে নৃ-তাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন-ধারা স্ব-যতেœ সাজানো হবে। এখানে মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা উপজাতিদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও বসত ঘর তৈরি করে প্রকৃতির সাথে আধুনিকতার প্রলেপ দিয়ে সাজানোর মহা পরিকল্পনা দ্রুত এগুচ্ছে। তখন শুধু দেশী নয় বিদেশী পর্যটকদের জন্যও নতুন মাত্রা এনে দেবে। তার ওপর তাঁবু বাসের মধ্যে রাত্রী যাপনের বিশেষ সুযোগ পেতে এখানে আসলে নিজেকে যুদ্ধের মাঠে অগ্র সৈনিক মনে হবে। যা এ পার্কের নতুন সংযোজন। 

দূর পাহাড়ের কোল ঘেষে সর্পিল প্রবাহ নিয়ে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীর পারে জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক এখন অনেকের নতুন ঠিকানা, নতুন পর্যটন কেন্দ্র।  খাগড়াছড়িতে স্থাপিত হেরিটেজ পার্ক প্রকল্প একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করছে। যেখানে পাহাড়ি-বাঙালি সকলের মিলন মেলায় স¤প্রীতির সেত‚বন্ধন রচিত হয়েছে। এ পার্কটি স্থাপনে  খাগড়াছড়ি রিজিয়ন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহায়তা ও উৎসাহে এর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা প্রদান করেছে।

১০ একর ভূমিতে হেরিটেজ পার্কটি গড়ে ওঠেছে। আনসার ও ভিডিপির জেলা খাগড়াছড়ি কমান্ডেন্ট ডক্টর মো. দিদারল আলমের উদ্যোগে এ পার্কটি গড়ে ওঠেছে। তিনি দেশে এই প্রথম কৃষি পর্যটন ধারণায় এই হেরিটেজ পার্ক গড়ে তুলেছেন। যা একেবারেই নতুন ধারণায়, নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যান তত্তে¡র ওপর এমএস পাশ করে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অলংকারিক উদ্যান তত্ত¡ বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করে বাস্তবে জীবনে শিক্ষালব্ধ জ্ঞান বিকাশের অভিপ্রায়ে এ হেরিটেজ পার্ক গড়ে তুলেছেন। যা ছিল তার জীবনের স্বপ্ন। আজ সে স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। তার দেখা স্বপ্ন পূরণে আনসার ও ভিডিপির তৎকালীন ডিজি বর্তমান বিডিআরের ডিজি মেজর জেনারেল মো. রফিকুল ইসলাম এনডিসি, পিএসসি স্বপ্ন পুরুষ হিসেবে খাগড়াছড়িতে আসেন। হেরিটেজ পার্ক উদ্বোধন করে এর পূর্ণতা ও স্বীকৃতি প্রদান করেন।

খাগড়াছড়িতে এমন অনেক আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাই এসেছিলেন, নিজ নিজ দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে আবার ফিরেও গিয়েছেন অন্য কর্মস্থলে। তখনও আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এই পাহাড়টি ছিল। ছিল সম্ভাবনা, ছিল বদলে দেয়ার সুযোগ। কিন্তু পরিত্যাক্ত অবহেলিত পাহাড়টিকে তিলোত্তমা করে সাজিয়ে এই পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কেউ কাজে লাগানোর কথা ভাবতে পারেননি। তিনিই প্রথম পরিত্যাক্ত সবুজ পাহাড়ের লাল মাটির গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে বদলে দিলেন এর দৃশ্যপট। ধিরে ধিরে বদলে গেল আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জীর্ণশির্ণ পাহাড়টি। যে পাহাড়ের নাম এখন হেরিটেজ পার্ক। যেখানে এখন প্রতিদিনিই বসে পাহাড়ি-বাঙালির মিলন মেলা।