গুগলের কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্ট আগের অবস্থায় জনসমাগম

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ১৮ জুলাই ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বে করোনা সংক্রমণ কমাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্টের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষের অবস্থানগত তথ্য উন্মুক্ত করেছে গুগল। প্রতিবেদনে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে ও পরে ট্রানজিট স্টেশন, খুচরা ব্যবসা, বিনোদনকেন্দ্র, কর্মক্ষেত্র, মুদি দোকান, ফার্মেসি, পার্ক ও বাসা-বাড়িতে মানুষের অবস্থানের তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে এ বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের তথ্যকে ভিত্তি হিসেবে ধরে এর সঙ্গে ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল গুগল। এরপর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে তারা।


গুগলের প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদন অনুসারে এ বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহের তুলনায় ২৯ মার্চ বাংলাদেশের বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালের মতো ট্রানজিট স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি কমেছিল ৬৬ শতাংশ। এরপর ১৭ এপ্রিল এসে স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি কমে দাঁড়িয়েছিল ৭২ শতাংশ। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য বলছে, ১২ জুলাইয়ে স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি কমেছে ৩৩ শতাংশ। এর অর্থ মার্চ ও এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে এসে স্টেশনে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।

একইভাবে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, শপিং সেন্টার, থিম পার্ক, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ও সিনেমা হলের মতো খুচরা ব্যবসা ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় মার্চে ৬৮ শতাংশ জনসমাগম কমেছিল, যা এপ্রিলে এসে ৭৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। সর্বশেষ ১২ জুলাই রিটেইল ও বিনোদনকেন্দ্রে জনসমাগম কমেছে ৩৪ শতাংশ।
বাংলাদেশে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না এখন পর্যন্ত। উল্টো নমুনা পরীক্ষায় কভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্তের হার বেড়ে চলেছে দিন দিন। এ অবস্থার মধ্যেও দিব্যি ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে মানুষ। অনেকটা আগের অবস্থায় ফিরে আসছে জনসমাগম। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও দেখাচ্ছে ঢিলেমি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে ঘরে থাকা। আর নিতান্তই যদি বাইরে যেতে হয় তাহলে সেক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কিন্তু তাদের এ পরামর্শ মানছে না অধিকাংশ মানুষ। গুগলের কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্ট বলছে, দেশে আগের তুলনায় সবক্ষেত্রেই মানুষের চলাচল বেড়েছে।

এদিকে কর্মক্ষেত্র, দোকানপাট ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোয়ও আগের চেয়ে মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। গুগলের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে কর্মক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি কমেছিল ৬০ শতাংশ। আর এপ্রিলে এর হার ছিল ৩৮ শতাংশ। সর্বশেষ ১২ জুলাই কর্মক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি কমেছে ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে মুদি দোকান, ফার্মেসি ও বাজারে মার্চে ৪৬ শতাংশ জনসমাগম কমেছিল এবং এপ্রিলে এটি ছিল ৫৪ শতাংশ। সর্বশেষ এ বছরের ১২ জুলাই এসব স্থানে মানুষের উপস্থিতি কমার হার দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে। পার্ক ও জনসমাগমের জন্য নির্ধারিত উন্মুক্ত স্থানে এ বছরের মার্চে মানুষের চলাচল কমেছিল ২৬ শতাংশ। আর এপ্রিলে এ স্থানগুলোতে মানুষের চলাচলের কমার হার ছিল ৩৬ শতাংশ। সর্বশেষ ১২ জুলাই পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের চলাচল কমেছে ২২ শতাংশ।

করোনার আতঙ্কে এ বছরের মার্চে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঘরে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছিল ২৪ শতাংশ। তবে এপ্রিলে এটি কিছুটা কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। সর্বশেষ এ বছরের ১২ জুলাইয়ের তথ্য বলছে, আগের তুলনায় মানুষের ঘরে থাকার হার বেড়েছে ১২ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে করোনার সংক্রমণ বাড়া সত্তে¡ও মানুষের মধ্যে ঘরে থাকার প্রবণতা ক্রমেই কমছে।

কমিউনিটি মবিলিটি রিপোর্টের বিষয়ে গুগল বলছে, তারা মানুষকে কোনো স্টোর বা পরিষেবা বন্ধ কিংবা খোলার বিষয়ে প্রতিনিয়ত তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছে। ট্রানজিট স্টেশন, খুচরা ব্যবসা, বিনোদনকেন্দ্র, কর্মক্ষেত্র, মুদি দোকান, ফার্মেসি ও পার্কের মতো পরিষেবার ক্ষেত্রে এ বছরের মে মাসের আগে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল সেগুলোতে ১১ থেকে ১৮ এপ্রিলের পর থেকে ধারাবাহিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এ সময়ে কোথাও আক্রান্তের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে, আবার কোথাও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।