মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ বাড়ছে

BoguraProdip BoguraProdip
প্রকাশিত: ০৬:০৪ এএম, ০৪ জুন ২০২১


অনলাইন ডেস্ক: দেশি মোবাইল হ্যান্ডসেট শিল্পের বিকাশে ফিচার ফোন আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। ফলে তা পাস হলে বিদেশি ফিচার ফোনের দাম বাড়বে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোবাইল সিম ব্যবহার করে সেবা গ্রহণের বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আগামীতে মোবাইল ফোনে কথা বলা, বার্তা পাঠানো এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেন।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে, চলতি বছর জানুয়ারি নাগাদ দেশে ১২টি মোবাইল ফোন কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সব কারখানাই উৎপাদন ও সংযোজন শুরু করেছে। বাংলাদশে মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি হ্যান্ডসেট মার্কেট রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী দেশীয় কম্পিউটার ল্যাপটপ ও আইসিটি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষণে আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও আইসিটি শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। প্রিন্টার, ডিজিটাল ঘড়ি, সিসিটিভি ও মনিটরসহ কম্পিউটার যন্ত্রাংশ স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি। তথ্য প্রযুক্তি সেবা হিসেবে ই-লার্নিং এবং ই-বুককে ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবল সার্ভিস (আইটিইএস) সেবার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেলুলার ফোন উৎপাদন, সংযোজন ও পশ্চাদ সংযোগ শিল্পের প্রসারে মোবাইল শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা আরও বিনিয়োগবান্ধব ও যৌক্তিকীকরণ এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণে ফিচার ফোন আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। বিদেশি ফিচার ফোনে শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদকদের ভ্যাট ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিংহভাগ এখানেই উৎপাদন ও সংযোজন হয়। স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও দুই বছরের জন্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি। অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বিএমপিআইএ।
বিএমপিআইএর সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শাহিদ বলেন, দেশীয় শিল্পের জন্য এটি ভালো উদ্যোগ। বর্তমানে (ফিচার ফোনের) চাহিদা যতটুকু আছে তার বেশিরভাগই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়লেও দেশে মোট গ্রাহকের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। ফিচার ফোন আমদানিতে বর্তমানে ৩৫ শতাংশের বেশি আমদানি শুল্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।