পাবজি-ফ্রি ফায়ার বন্ধের বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ২২ আগষ্ট ২০২১

সব অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে অবিলম্বে পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ ক্ষতিকর গেম বন্ধে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) লিখিত আদেশ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদেশে তিন মাসের জন্য এসব গেম অনলাইনে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এদিকে এ আদেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন ই-স্পোর্টস স্পেশালিষ্ট ওয়ালিউর রহমান সোহান।
পাবজি-ফ্রি ফায়ার বন্ধের বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা রোববার (২২ আগস্ট) ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
 
ফেসবুক পোস্টে ওয়ালিউর রহমান সোহান বলেন, আনন্দের সাথে সবাইকে জানাতে চাই যে আমি মোহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান, ই-স্পোর্টস এর পক্ষে দেশে পাবজি মোবাইল ও ব্যাটেল গ্রাউন্ড গেমস বন্ধের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কাজে আমাদেরকে আইনি সহায়তা দেবেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক এবং অ্যাডভোকেট আরেফা পারভীন তাপসী। আমরা একজোট হয়ে এ ব্যাপারে লড়াই করব বলে আশা করছি।
 
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, আমি দেশের সকল পাবজি প্লেয়ার ও ফ্রি ফায়ার গেমস লাভারদের ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ তারা আমাদের প্রতিনিয়ত সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছেন। আশা করি শেষ পর্যন্ত আপনাদের সবার এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
 
এর আগে গত ১৬ আগস্ট ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো জনপ্রিয় সব বিপজ্জনক অনলাইন গেম বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে টিকটক, বিগো লাইভ ও লাইকির মতো সব ধরনের অ্যাপস বন্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

গত ২৪ জুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ’ ফাউন্ডেশনের পক্ষে গেম এবং অ্যাপগুলোর ক্ষতিকারক দিক তুলে জনস্বার্থে একটি রিটটি করেন সুপ্রিমকোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মোহাম্মদ কাউছার।

গত ১ জুলাই এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য ১৬ আগস্ট দিন ঠিক করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই সময়ের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের কপি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে বলা হয়।
 
এর আগে ফ্রি ফায়ার ও পাবজির আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এটি বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে সুপারিশ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারও আগে পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও পরে আবার চালু করা হয়েছিল।
 
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ওই সময় জানিয়েছিল, ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে।  কিন্তু হঠাৎ করে বন্ধ করতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। তাই ধীরে সুস্থে বিকল্প পদ্ধতিতে গেম দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
বন্ধ করলেও তরুণরা ভিপিএন দিয়ে গেমটি খেলবে এমন প্রশ্নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যারা এ ধরনের গেমে আসক্ত তারা ভিপিএনসহ নানা বিকল্প উপায়ে গেমটি খেলতে পারে। আমরা সেসবও বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।

সম্প্রতি নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করে দেশটির আদালত। একই কারণে ভারতের গুজরাটেও এ গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।
 
দক্ষিণ কোরিয়ার গেম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ব্লু হোয়েলের অনলাইন ভিডিও ২০১৭ সালে চালু হয়। এরপর থেকে এই গেমটি দ্রুত বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১৮ সালে অ্যাঙ্গরি বার্ড, টেম্পল রান, ক্যান্ডি ক্রাশের মতো গেমগুলোকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন গেমের তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নেয় পাবজি।
 
অন্যদিকে চীনা প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালে তৈরি করা যুদ্ধ গেম ফ্রি ফায়ার একইভাবে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে করোনা মহামারির ফলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা এসব গেমে আসক্ত হচ্ছে।