সুনামগঞ্জে নেই কর্মসংস্থান ছুটছে মানুষ শহরে

Online Desk Online Desk
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিলেট প্রতিনিধি: করোনা আর সম্প্রতি বন্যার প্রভাবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তবর্তী মানুষসহ হাওর এলাকার লোকজনের মধ্যে অভাব দেখা দিয়েছে। এ উপজেলার বড়ছড়া, ছাড়াগাও, বাগলী কয়লা শুল্কষ্টেশন, যাদুকাটা নদীতে বালি পাথর ও ভাসমান কয়লা উত্তোলনসহ শ্রমিকদের কাজের স্পটগুলো বিভিন্ন আইনি জটিলতায় মাসের পর মাস বন্ধ থাকায় এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাতের অভাব। একদিকে ভাতের অভাব, অন্যদিকে সুদের চাপ। ফলে দিশেহারা হয়ে এলাকার অধিকাংশ মানুষ কাজের সন্ধানে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটছেন শহরের দিকে। করোনার কারণে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরাও ছুটছেন তাদের সঙ্গে। এলাকায় কাজ নেই, করোনার কারণে শহরেও কাজ সীমিত। এমন তথ্য পাওয়া গেছে সদ্য শহরে যাওয়া ও ঢাকা ফেরত কয়েকজন খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলে।

শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বানিয়াগাও গ্রামের সুজন মিয়া জানান, প্রতিদিন মহনগঞ্জ ও কমলা কান্দার ট্রলার দিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকা শহরে যাচ্ছেন গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ। কেউ যাচ্ছেন গার্মেন্সসহ বিভিন্ন কল কারখানায় কাজ করতে, আবার কেউ যাচ্ছেন চাকরির আশায়। ইসলাম উদ্দিন নামের এক যুবক জানান, সুনামগঞ্জ বা তাহিরপুরে যদি কোন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠতো তাহলে এখানকার শ্রমিকসহ মানুষজন ঢাকা শহরে কাজের জন্য যেত না। বালিয়াঘাট গ্রামের সুফিয়া নামের এক নারী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মরণ ছাড়া কোন পথ নাই। বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে এখন মহাবিপদে আছি। এনজিওর লোন কোন ভাবেই শোধ করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়েই স্বামী সন্তান ঢাকা শহরে কাজের জন্য গেছেন। 

এদিকে করোনা আর বিভিন্ন আইনি জটিলতায় তাহিরপুর সীমান্তের কয়লা শুল্কষ্টেশনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সীমান্ত এলাকাসহ উপজেলার নদীগুলোতে বালি, পাথর, ওপার থেকে ভেসে আসা মরা পাথর ও কয়লা খেটে খাওয়া মানুষজন উত্তোলন করতে না পারায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে শহরের দিকে ছুটে যাচ্ছেন।


আরও পড়ুন