শ্রীমঙ্গলে রিমনের হত্যাকান্ড নিয়ে এএসপির হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস

Online Desk Saju Online Desk Saju
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পাঁচ বছরের শিশু রিমন'কে চা বাগানের ভেতর ছড়ার পাশে নিয়ে নির্মমভাবে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ও অকালে একটি শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়া নিয়ে মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) এর হৃদয় নিংড়ানো ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হল। যে স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

"বিলাস ছড়ার দুঃখগাথা। "বিলাস ছড়া চা বাগানের সিএনজি চালক শিবু গড়ের একমাত্র সন্তান পাঁচ বছর বয়সী রিমন গড় । সন্তান নিয়ে কে  সুখেই চলছিল শিবু গড়ের  সংসার। পেশায় সিএনজি চালক শিবু গড় ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে একটি সিএনজি ক্রয় করে। নিজের একমাত্র সন্তানের নামে সিএনজির নাম দিয়েছিল রিমন পরিবহন।এই সিএনজির ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে একই এলাকার ইউনুছ উল্লাহর সাথে শিবু গড়ের  সম্পর্কের অবনতি ঘটে। স্থানীয় বিচার সালিশে ইউনুছ উল্লাকে ব্যাটারি চুরির দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে। কিন্তু ইউনুছ উল্লাহ  টাকা দিতে অস্বীকার করে এনিয়ে শিবু গড়ের সাথে তার মনোমালিন্যতা বাড়তে থাকে। টাকা না দিলে শিবু গড় তার নামে মামলা করবে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ইউনুছ উল্লাহ।

মঙ্গলবার দুপুরে ছোট্ট শিশু রিমন গড় পাশের ঘর থেকে দুধ আনতে গেলে ছড়ার পাশে ইউনুছ উল্লাহর সাথে তার দেখা হয়। ইউনুছ উল্লাহ রিমন  কে ময়না পাখির বাচ্চা দেওয়ার কথা বলে চা বাগানের ৪ নং সেকশনের ছড়ার পাশে নিয়ে যায়।
ছোট্ট শিশু ইমন ময়না পাখির বাচ্চা পাবে জেনে পুলকিত হচ্ছিল। সে কি জানত? ময়না পাখির বাচ্চা খোঁজা তার মৃত্যুর কারণ হবে। ইউনুছ উল্লাহ তাকে ছড়ার দিকে ইশারা করে বলে যে ওইখানে ময়না পাখির বাচ্চা। ছোট্ট সোনামনি রিমন ময়না পাখির বাচ্চা দেখার জন্য যেই না মাথা নিচু করে ঘুরে তাকালো ঠিক তখনই হিংস্র ইউনুছ উল্লাহ রিমনের গলার ডান দিকে দা দিয়ে কোপ  মারে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি চা বাগানের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি ছড়া কুলু কুলু ধ্বনি এর মাঝেই এ পৃথিবী থেকে হিংস্রতার বলি হয়ে বিদায় নিল শিবু গড়ের আদরের ধন ছোট্ট শিশু রিমন।
খুনি  ইউনুছ উল্লাহ  মৃত্যু নিশ্চিত করে রিমনের দেহ ছড়ার নিচে ঝোপের মধ্যে ফেলে চলে যায়। সময় বয়ে যায় রিমন ঘরে ফিরে না শুরু হয় রিমন কে খোঁজাখুঁজি রিমনের বাবা শিবু গড় খবর শুনে বাসায় ফিরে এলাকার লোকজনকে নিয়ে ছোট্ট সোনামণিকে খুঁজতে বের হয়। খুঁজে খুঁজে যখন সবাই দিশেহারা তখনই ছড়ার মাঝখানে কিছু ছোট্ট গাছের ডালপালা কাটা দেখে থমকে দাঁড়ায় সবাই, ঝোপের নিচে উঁকি দিয়ে দেখতে পায় ছোট্ট শিশুর রিমনের  মৃতদেহ। আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয় রিমনের মা-বাবার আর্তচিৎকারে, প্রতিবেশীদের হাহাকারে ভারী হয়ে ওঠে বিলাস ছড়া গাঙ পাড়ের  বাতাস। 
পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে পুরো বিলাস ছড়া তখন শোকে কাতর।শিশু রিমনের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড কেউই মেনে নিতে পারছে না। অপরদিকে সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীমঙ্গল সার্কেল আশরাফুজ্জামান ওসি শ্রীমঙ্গল আব্দুস ছালেক সহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাননীয় পুলিশ সুপার মৌলভীবাজার জনাব ফারুক আহমেদ পিপিএম বার স্যারের নির্দেশে সম্ভাব্য অপরাধীকে খুঁজতে থাকে। পুলিশ  প্রতিবেশী লোকজনের সাথে কথা কথা বলে  ঘটনা সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করতে পারে। এক পর্যায়ে জানা যায় ইউনুছ উল্লাহ কে দুপুর দুইটার দিকে চার নম্বর সেকশনে ডিউটি করতে দেখেছে অনেকে শুরু হয় ইউনুছ উল্লাহ কে খুঁজা। এক পর্যায়ে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় রাতে ইউনুছ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শুরু হয় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ,   জিজ্ঞাসাবাদে   ইউনুছ উল্লাহ  স্বীকার করে সিএনজির ব্যাটারি চুরির সালিশের জের ধরে শিবু গড়ের উপর প্রতিশোধ নিতে ছোট্ট শিশু রিমন কে দা দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করেছে ইউনুছ উল্লাহ। পরবর্তীতে ইউনুছ উল্লাহ কে আদালতে প্রেরণ করলে সে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে রিমনকে হত্যার দায় স্বীকার করে।  ইউনুছের আক্রোশের বলি হল ছোট্ট সোনামণি রিমন। সে পৃথিবীর রূপ দেখে নি,  দেখে নি ভালোবাসা কিন্তু মানুষের হিংস্রতা দেখেছে। এই হিংস্রতাই কেড়ে নিয়েছে নিষ্পাপ শিশু রিমনের জীবন। ওপারে ভালো থাকুক রিমন, আমরা রিমন কে বাঁচাতে পারিনি কিন্তু রিমনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইনশাল্লাহ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ।


আরও পড়ুন