সুন্নাতের গুরুত্ব ও ফজিলত

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৪:১৩ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০২০

আলহাজ¦ হাফেজ মাওঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক: সারা দুনিয়া যখন মূর্খতা ও অজ্ঞতায় নিমজ্জিত ছিল। ঠিক সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতে দুনিয়ার বিদঘুটে অন্ধকার দূর করতে পবিত্রতার নূর বিচ্ছুরিত করে জন্মগ্রহণ করেন নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)। তিনি সকল ধরনের মূর্খতা খতম করে সুন্নাত তথা উত্তম আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই আবির্ভূত হয়েছিলেন এই জগতে। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেই সব মূর্খতাÑঅজ্ঞতার ভিত্তি চূর্ণÑবিচূর্ণ করেছিলেন। আবার সুন্নাতের পরিপূর্ণ অনুশীলনের মাধ্যমে সাহাবিগণের জীবনাচার ও সমাজ ব্যবস্থাকে পূর্ণ মাত্রায় এ আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছিলেন। পাশাপাশি এই বিষয়েও তীক্ষ¥ দৃষ্টি রেখেছিলেন যে, আমার উম্মত যে কোন অবস্থাতেও সুন্নাতের এই আলোকজ¦ল মহাসড়ক থেকে বিচ্যুত হয়ে জাহালত অথবা বিদআতের অতল গহ্বরে হারিয়ে না যায়।

 মুসলমানদের জীবনে প্রতিটি অধ্যায়ে নবীজি (সাঃ) এর সুন্নাত বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, আন্তর্জাতিক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন এবং সাংস্কৃতিক জীবনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সাঃ) এর সুন্নাত তথা উত্তম আদর্শ রয়েছে। সুন্নাতে নববীতে রয়েছে উম্মতের জন্য হেদায়ত, হেফাজত, রহমত, বরকত, তথা উন্নতিÑঅগ্রগতির ভান্ডার। কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমরা আজ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মনোনীত এবং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রদর্শিত সুন্নাত হতে বহু দূরে। আমাদের দায়িত্ব ছিল সর্বাবস্থায় নবীজী (সাঃ) এর আদর্শ কে আঁকড়ে ধরা এবং পরিপন্থী সব কিছু বর্জন করা। যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, (হে ঈমানদারগণ) রাসুল (সাঃ) তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা আঁকড়ে ধরো এবং যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা বর্জন ও পরিহার করো”। (সূরা হাশর, আয়াতঃ ৭) অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, হে নবী! আপনি বলে দিন যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাসতে  চাও, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদের কে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মাফ করে দিবেন। (সূরা আল ইমরান, আয়াতঃ ৩১) অর্থাৎ সুন্নাত তরিকা আনুসরণ করলে  আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ভালোবাসবেন।

 আর আল্লাহকে ভালোবাসলে তার সৃষ্টি চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির আবাসস্থল জান্নাত আমাদের হবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি ফিতনা-ফাসাদের যামানায় সুন্নাতের ওপর অর্বিচল থাকবে, সে শত শহীদের নেকি লাভ করবে। (বায়হাকী) অন্যত্র বলেন, যে আমার সুন্নাত কে ভালোবাসে সে যেন আমাকে ভালোবাসলো। আর যে আমাকে ভালোবাসলো সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। (মিশকাত) সুন্নাতের তাগিদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বিদায় হজে¦র ভাষণে বলেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের কাছে দুটি জিনিস রেখে গেলাম, যদি তোমরা সে দুটি জিনিস শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখো তাহলে তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব আরেকটি হলো আল্লাহর রাসূলের সুন্নাত। (আল মুসতাদরাক) অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা:) ফরমান, আমার খলিফাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার রহমত। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন হে রাসূল ! আপনার খলিফা কারা ? জবাবে বললেন, যারা আমার সুন্নাতকে (নিজে আমল করার মাধ্যমে) যিন্দা করে এবং মানুষদেরকে শিক্ষা দেয়। (কানযুল উম্মাল) তাই একজন মুমিন হিসাবে দৈনন্দিন জীবনে সর্বক্ষেত্রে সুন্নাতের অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য নবীজির তরীকাকে মাপকাঠি রূপে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

 ইশরাদ করেছেন,“ বলুন তোমরা আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করো”। (সূরা আল ইমরান, আয়াত ৩২) বুঝা যাচ্ছে, যে কোন আমল তখনই নেক আমল রূপে সাব্যস্ত হবে যখন তা আল্লাহর আদেশ এবং রাসূল (সা:) এর সুন্নাত মোতাবেক হবে। হযরত সালমা ইবনে তাকওয়া (রা:) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা:) এর সামনে বামহাত দিয়ে খাবার খাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা:) তাকে বললেন তুমি ডান হাত দিয়ে খাও। সে বলল, আমি ডান হাত দিয়ে খেতে পারি না। অথচ সে অহংকারের কারণেই বাম হাত দিয়ে খাবার খাচ্ছিল। তখন রাসূল (সা:) বললেন তুমি আর পারবেও না। বর্ণনাকারী বলেন, ঐ ব্যক্তি আর কখনো তার ডান হাত মুখে উঠাতে পারেনি। (মুসলিম) বুঝা গেল, কোনো সুন্নাতকে অবজ্ঞা করলে রাসূল (সা:) পছন্দ করতে না। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহপাক বলেন, আমার বান্দারা যদি আমার আদেশ নিষেধ মেনে চলে এবং রাসূলের অনুসরণ করে তাহলে রাতের বেলা আমি তাদেরকে রহমতের বৃষ্টি দেব। যাতে কোন রকম বজ্রপাত হবে না। আর দিনের বেলা সূর্যের আলো দিব। (মিশকাত)।
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক-ইসলামী গবেষক
০১৭৩৪-৭১৮৩৬০