দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে জাগো বাহে

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:৫০ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

সিজুল ইসলাম : নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রতিদিনের নিত্য নৈমিত্যিক ঘটনা। আগেও ঘটতো হয়ত কিন্তু এখন তথ্য প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতার যুগে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসছে বেশি। নিজের মেয়েকে বাড়িতে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা কি শুধুই একজন বাবার বিকৃত মন মানসিকতাকেই বুঝাবেন? এটা পুরো সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিকৃতি। কোন আইনই কাজে লাগবে না যদি না আমরা সেসব আইন মানি। ধূমপান বন্ধে তো আইন হয়েছে কয়জন মানছে?
ধর্ষণ এবং বলাৎকার এমন এক মস্তিষ্কবিকৃত ব্যাধি যা শুধু নিজে সচেতন হলে চলবে না অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। অনেক ধর্ষণ মামলায় আমরা প্রথমে পুলিশ কিংবা র‌্যাবকে দোষ দিলেও তারা আসামী ধরেছে কিন্তু রাজনৈতিক বিতর্ক তুলে কিংবা আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে অপরাধীরা বেরিয়ে যাচ্ছে লঘু শাস্তি পাচ্ছে। ফলে নির্যাতিতা সামাজিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধর্ষণ হলেই কথা উঠে মেয়েটি পর্দা করলে এমন হতোনা, ঘর থেকে বের না হলে এমন হতো না, সন্ধ্যার পর বের না হলে এমন হতোনা কিন্তু মাদ্রাসার কিছু শিক্ষক যে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ছেলে শিশুদের নিজ ঘরে বলাৎকার করে চলেছে দিনের পর দিন সেখানে কি পোশাক কোন সমস্যা ছিল? অল্প কিছুদিন আগেও মেয়ে বড় হলে বিয়ে দিয়ে কন্যার বাবা মা দায় সাড়তেন। কিন্তু আদৌ কি এখন শুধুমাত্র বিয়ে দিয়ে পাড় পাওয়া যাচ্ছে? দুই বছরের শিশু, কিশোরী, যুবতী, বিবাহিতা, মধ্যবয়স্কা কিংবা বৃদ্ধা কেউ ধর্ষণ থেকে বাদ যাচ্ছে না। নিজ ঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা কোন নিরাপদ স্থানই কি নিরাপদ আজ? ধর্ষণের উপযুক্ত বিচারের নজির না থাকার কারণে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্র এসব ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না। দেশের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারীরা থাকা সত্ত্বেও কেন ধর্ষণের উপযুক্ত বিচার বিঘিœত হচ্ছে? শুধু আইন প্রণেতাদের কন্যারা নিরাপদ থাকলে চলবে না সকল নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতে পরিবারকে মৃতদেহ না দিয়েই পুলিশ দাহ করেছে ধর্ষণের শিকার নারীকে। সেই গ্রামে ফুসে উঠা কোন রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না। এমন ঘটনার নিন্দা জানাই। একইভাবে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সকল ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানাই। সরকার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশের সকল নাগরিক আসুন একসাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। যেদিন নিজ ঘরে একজন ধর্ষণ হবে সেদিন দাঁড়ালে হবে না। আমরা একটি কথিত সভ্য অন্ধকার যুগের অসভ্য নাগরিক হয়ে গেছি। দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। ধর্ষকের একমাত্র পরিচয় ধর্ষক। কোন দলীয় কিংবা গোষ্ঠীগত ছত্রছায়ায় সে যেন পার না পায়। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ বেকার তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করুন সকল শিশুর অধিকার রয়েছে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক শিক্ষা ও কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণের। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে যদি সেই শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে কাজেই লাগানো না যায় তবে সেই শিক্ষালয় বন্ধ রাখাই ভাল। বেকারত্ব বাড়লে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, খুন, ধর্ষণসহ নানান অপরাধ বেড়ে যাবে।
সংসদে একসাথে বলেন এদেশের কোথাও ধর্ষণ কিংবা বলাৎকার হতে দিব না, এদেশের একটি টাকাও অসৎ শিক্ষিত কুলাংগারদের হাতিয়ে নিতে দেবনা, এদেশের কোন রাজনীতিবিদ অপরাধ করবো না অপরাধীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেবনা, এদেশের কোন নাগরিককে কর্মহীন রাখবো না, কাউকে অনাহারে রাখবো না। নইলে পঞ্চাশ বছর পরে আজ থেকে শত বছর পরের প্রজন্ম ইতিহাসে আপনাদের অসফল এবং ব্যর্থ আইন প্রণেতাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে। সেদিন ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে না। রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদেরই সকল ভাল এবং মন্দের দায় নিতে হবে। এদেশে কিন্তু ধর্ষণের সেঞ্চুরি করা ছাত্রনেতা তৈরি হচ্ছে। দলীয় পরিচয় নয় ধর্মীয় পরিচয় নয় অপরাধীদের যেন অপরাধী হিসেবেই সম্বোধন করা হয় বিচার করা হয়। সব ধর্ম সব দল ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ, চোর, খুনি, দখলবাজদের আইনের হাতে তুলে দিক বিচার হোক।
দেশের রাস্তায় রাস্তায় পরে থাকা প্রতিটি পাগলীই মা হচ্ছে শুধু বাবা হিসেবে দায় নেই কারো। প্রতিটি পাগলীর মা হওয়া, সিন্দুকের কালো টাকা, প্রতিটি শিক্ষিতের বেকার হওয়া, অমানুষ কিংবা ধর্ষক তৈরি হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতাই দায়ী। আরবের আইন, আমেরিকার আইন, পাকিস্তানের আইন, ভারতের আইন কিংবা রাশিয়ার আইন যেটাই অন্তর্ভুক্ত করেন না কেন মানুষ যেন শান্তিতে নিরাপদে মৃত্যুবরণের নিশ্চয়তা পায় তিনবেলা খাবারের নিশ্চয়তা পায় ইজ্জত বাঁচানোর নিশ্চয়তা পায় সেই আইন করুন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “ধর্ষিত মেয়ের বাবার জায়গায় আমার নাম লিখে দিও, আর বাড়ির ঠিকানা দিও ধানমন্ডি ৩২”। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি প্রত্যেকটি বীরঙ্গনা এবং ধর্ষিতার বোন তাই আমার চেয়ে ব্যথা আপনার বেশি হওয়ার কথা। আপনি নিরবে না কেঁদে আন্দোলনকারী অনুজদের সামনে পুলিশকে ঢাল না বানিয়ে ওদের সাথে নিয়ে আপনার প্রত্যেকটি বোনের ধর্ষণের বিচার করুন, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। নুরলদীনের স্লোগানে বলতে চাই “জাগো বাহে, কোনঠে সবাই”।
লেখক ঃ নাট্যকর্মি-উন্নয়নকর্মি
[email protected]
০১৭৩৮-১৬২১৫৬