নেশাতে ভয়ংকর রকমের ক্ষতি রয়েছে

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২০

আলহাজ¦ হাফেজ মাও: মুহাম্মদ আজিজুল হক: মহান আল্লাহ যে সকল জিনিস নেশা সৃষ্টিকারক যেমন মদ, গাজা, ভাং, আফিম, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ইত্যাদি নেশাকর দ্রব্য সম্পূর্ণ হারাম করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে শরীরিক, আত্মিক, নৈতিক, আর্থিক ও জাগতিক বিভিন্ন রকমের ক্ষতি। নেশার অন্ধকারে কেউ জড়িয়ে পড়লে তা ছাড়ানো বেশ কঠিন ও কষ্টকর। তাইতো আল্লাহ তায়ালা হঠাৎ করেই মদপান করাকে নিষেধ করেননি। বরং মদ্যপানকে পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, এত দু’য়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতার চেয়ে অনেক বড়”। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২১৯) সাধারণ মানুষও এ দুটি বস্তুর শুধু বাহ্যিক উপকারিতার প্রতি লক্ষ্য করেই এতে মত্ত ছিল। কিন্তু এগুলোর অন্তর্নিহিত অকল্যাণ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। মদের ব্যাপারে দ্বিতীয় আয়াতটি নাজিল করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! নেশাগ্রস্ত  অবস্থায় তোমরা নামাজের ধারের কাছেও যেও না। যতক্ষণ তোমরা যা কিছু বলছ বুঝতে সক্ষম না হও । (সূরাঃ নিসা, আয়াত-৪৩) এরপর নাযিল করেন “হে ইমানদারগণ! নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসবগুলোই শয়তানের নিকৃষ্ট কাজ। কাজেই এগুলো থেকে সম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা মুক্তিলাভ ও কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিতে এবং আল্লাহর জিকির ও নামাজ থেকে তোমাদের বিরত রাখতে।

তবুও কি তোমরা তা থেকে বিরত থাকবে না? (সূরাঃ মায়িদা, আয়াতঃ ৯০-৯১) এভাবে আল্লাহ তায়ালা পর্যায়ক্রমে আয়াত নাজিল করে বান্দাকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, নেশাজনিত অভ্যাস হঠাৎ ত্যাগ করা মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর, তাই নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে মন্থর গতিতে অল্প অল্প করে তা থেকে বেরিয়ে আনতে হবে। প্রথমত, নেশাগ্রস্ত  ব্যক্তির সামনে নেশার মন্দ ও ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরতে হবে এবং তার মনে নেশার ঘৃণা জাগিয়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধীরমন্থর গতিতে বের  করে আনতে হবে। তৃতীয়ত, নেশার উপকরণ, পাত্র ইত্যাদি তার থেকে দূরে রাখতে হবে। চতুর্থত, তাঁর মনে সদিচ্ছা ও সাহস জোগাতে হবে। পঞ্চমত, শক্তভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। রাসূল (সাঃ) বলেন, আল্লাহপাক নিজে কসম করে বলেছেন, যে ব্যক্তি এক ঢোক মদ পান করবে, আমি নিশ্চয় তাকে অনুরূপ দোযখীদের পঁচা পুঁজ পান করাব। (মিশকাত) হযরত আনাছ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবীজি (সাঃ) মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর ব্যক্তির উপর লানত করেছেন।

 (১) যে লোক নির্যাস বের করে, (২) প্রস্তুতকারক, (৩) পানকারী, (৪) যে পান করায়, (৫) আমদানী কারক, (৬) যার জন্যে আমদানী করা হয়, (৭) বিক্রেতা, (৮) ক্রেতা, (৯) সরবরাহকারী, (১০) এর লভ্যাংশ ভোগকারী, (তিরমিজি) তিনি আরও ইরশাদ করেন, শরাব হচ্ছে সর্বপ্রকার অপকর্ম এবং অশ্লীলতার জন্মœদাতা। এটি পান করে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হতে পারে। (মাআরিফুল কুরআন) আবু মুসা আশআরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা তিন শ্রেণীর লোকদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন্ (১) মদ্যপায়ী, (২) আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী, (৩) জাদু-টোনার প্রতি বিশ^াস স্থাপনকারী। আর শরাব এবং ঈমান কখনো একত্রিত হতে পারে না। (মুসনাদে আহমদ) মিশকাত শরীফে আছে, নবীজি (সাঃ) বলেন, নিত্য মদ্যপায়ী অবস্থায় যার মৃত্যু ঘটবে, সে কিয়ামতের দিন মূর্তিপূজকের মত আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ২১৯ নং আয়াতে মদ্য পানের ও জুয়া সম্পর্কে বলেছেন, এতে কিছু উপকারিতাও রয়েছে তবে উপকারিতার তুলনায় অপকারিতার মাত্রা অনেক বেশি। কিন্তু এ সামান্য উপকারিতার তুলনায় ক্ষতির দিকটা অনেক বিস্তৃত ও গভীর। মদ্যপানের প্রতিক্রিয়ায় হজমশক্তি বিনষ্ট হয়ে যায়, চেহারা বিকৃত হয় এবং মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। মদ্যপানে যেহেতু বুদ্ধি-বিবেচনা থাকে না, তাই পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও তিক্ততা সৃষ্টি হয়। মদ্যপান করে জঘন্যতম কাজ যেমন হত্যা, ধর্ষণ করতেও দ্বিধা করে না। আর আত্মিক ক্ষতি তো কুরআনেই বর্ণিত হয়েছে। “মদ্যপান তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখে”। আর শরাবখানায় এলাকার সমস্ত টাকা পয়সা লুটে নেয়া হয়, একথা সর্বজনবিদিত।
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক-ইসলামী গবেষক
০১৭৩৪-৭১৮৩৬০