আদর্শ মানুষ ও জাতি গঠনে সুশিক্ষার ভূমিকা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২০

ওসমান গনি: দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার গুণগত মান ও মানসম্মত শিক্ষা একান্ত দরকার। শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো খুবই জরুরি। দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পাসের হার প্রতি বছর বাড়লেও শিক্ষার্থীর মেধা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দেশের ও সমাজের অনেকেরই। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র /ছাত্রী ও অভিভাবক মহলের মধ্যে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয় তাহলো জিপিএ -৫। ছাত্র/ ছাত্রী ও অভিভাবক মহলের দাবি একটাই যেকোন মূল্যে চাই পরীক্ষায় জিপিএ-৫। তাদের ধারণাটা এমনই যে, পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মানে মহাকাশ জয় করা। আসলে ধারণাটা এমন হওয়া উচিত না। আপনাকে আমাকে এটি স্মরণ রাখতে হবে যে, ছেলেমেয়েরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে কিনা। তাদের মেধা বা প্রতিভা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে কিনা? প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত বা প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে না পারলে শুধু জিপিএ-৫ দিয়ে কিছুই হবে না। লোক দেখানো জিপিএ-৫ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশ ও জাতি একদিন গভীর সামাজিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বা পড়বে। তাই জিপিএ-৫ মন থেকে ঝেড়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।

 শিক্ষার্থীদের কে যুগোপযোগী প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীর ও অভিভাবকদের  মন থেকে জিপিএ-৫ নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ পরিবারেই এসবের বীজ প্রোথিত হয়। এছাড়া সামাজিক পরিবেশ দেখে শিশুরা অনেক কিছু শেখে। এজন্য সমাজকে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। সামাজিক কৃষ্টি-কালচার, রীতি-নীতিও শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে। তাই প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সকল স্তরে নিয়মিত দেশের কৃষ্টি-কালচার বিষয়ক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি শক্ত ভিত গড়ে উঠবে। ফলে তারা বিপথগামী হওয়া থেকে বিরত থাকবে। সেই সঙ্গে তাদের মননশীলতার বিকাশ ঘটবে। এছাড়া মূল্যবোধ সৃষ্টিতে ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ধর্মের প্রকৃত পাঠই শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এক্ষেত্রে ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে কেউ যাতে শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।   

শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের বিষয়টি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের ত্রিভুজ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের একটি ‘বৃক্ষ’ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, যার সুন্দর ও যথাযথভাবে বেড়ে উঠা নির্ভর করে পরিচর্যার ওপর। পরিচর্যা যেমন হবে তার বেড়ে উঠাও তেমন হবে অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে বিকাশের বিষয়টি তাদের যথাযথভাবে দেখাশোনা এবং পরিচর্যার ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে হবে কোন চাকরির জন্য নয়। উদ্দেশ্য হওয়া চাই আদর্শ মানুষের মতো মানুষ হওয়া। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ হতে পারলে তার কর্ম ও ভবিষ্যৎ জীবন উজ্জ্বল হবে। তখন কর্ম বা চাকরি তাকে খুঁজবে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তার নৈতিক ও মানবিক দিকগুলোর প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের নানামুখী সামাজিক কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করতে হবে।

আমাদের একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, শুধু পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ততটা হয় না। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে পারিপার্শ্বিক ও সামাজিক অবস্থা। শিক্ষার্থীরা তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকেই মূলত নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির শিক্ষা পায়। পরিবারের ভূমিকা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে। আর নৈতিক গুণাবলির বিকাশের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের চারপাশটা কেমন তা গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল সমাজে নেতিবাচক বিষয়গুলোর প্রভাব খুব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেহেতু নৈতিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে মূলত পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে তাই এক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবাইকে সমভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। বস্তুত এই সুশিক্ষা শব্দটির মধ্যেই সব প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর সন্নিবেশিত থাকছে। আমরা নৈতিক শিক্ষার কথাই বলি বা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার কথাই বলি সবকিছুর একটা সহজ সরল মেলবন্ধন হবে সুশিক্ষা।
লেখক ঃ সাংবাদিক-কলামিস্ট
[email protected]
০১৮১৮-৯৩৬৯০৯