প্রাথমিক শিক্ষায় পদোন্নতি

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্বপ্নীল রায় : যেকোনো চাকরিতেই পদোন্নতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি যুক্তিযুক্ত বেতন কাঠামোর পাশাপাশি পদোন্নতির সুযোগ সেই চাকরিতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করে। শিক্ষকতার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষাস্তরের প্রাথমিক স্তর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তরে মেধাবী থেকেও মেধাবীদের প্রবেশ করা দরকার। এখন ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই যোগ্যতা ¯œাতক করা হয়েছে। সুতরাং একদল মেধাবী উচ্চশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষায় আসবে যারা মন থেকে প্রাথমিক শিক্ষাকে কিছু দিতে চাইবে। কিন্তু এসবের সাথে সাথে প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষকদের পদোন্নতির সুযোগ প্রশস্ত করলে আরও অধিক মেধা সম্পন্নরা এখানে আবেদন করবে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষকদের কয়েকটি বিষয়ও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রাথমিক শিক্ষাসহ শিক্ষার সব স্তরে মেধাবী এবং আন্তরিক মানুষ প্রয়োজন যারা কেবল শিক্ষকতাকেই নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে দেখে থাকেন। এমন এক সময় আসবে যখন একজন তার মেধাকে সরকারি অন্য উচ্চ শ্রেণির চাকরিতে না দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োজিত হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করবে। এটা হয়তো অনেক দূরের কল্পনা। কিন্তু শিক্ষার জন্য উত্তম। একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে যখন কেউ যোগদান করেন তখন তাদের ভেতর পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক বা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বা শিক্ষা কর্মকর্তা বা তার থেকেও বড় পদে চাকুরির আশা করতে পারে। কারণ অন্য সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির সুযোগ যতটা রয়েছে এখানে ততটা নেই। সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকে উন্নীত হলেও সেই প্রক্রিয়াও খুব দীর্ঘ। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, এখন থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। বিষয়টি শিক্ষকদের জন্য আনন্দদায়ক।
এমন একটি সুযোগ থাকা খুব প্রয়োজন যেখানে মেধাবী শিক্ষকরা চাকুরি শুরু থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বা ইনষ্ট্রাকটর পর্যন্ত যেতে পারে। এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষাই সমৃদ্ধ হবে না বরং যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত আছেন তাদের মাঝেও নিজের মেধা প্রকাশের সুযোগ পাবেন। অন্যথায় সারা জীবন সহকারী শিক্ষক হয়েই যদি অধিকাংশ শিক্ষক অবসরে যান তাহলে আবেদনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মেধাবীদের আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় কথা সহকারী শিক্ষকরা বঞ্চনার শিকার হবে। এই স্তর থেকে শিশু যেভাবে গড়ে উঠবে তার ভবিষ্যতেও তার প্রভাব থাকবে। তার লেখাপড়া থেকে আচরণিক বৈশিষ্ট্য সবই এ স্তর থেকে গড়ে ওঠে। এ স্তরের পরিবেশ এবং শিক্ষকদের দক্ষতা, আন্তরিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিনিয়তই প্রাথমিক স্তরকে উন্নয়নের জন্য, কাঙ্খিত ফল লাভের জন্য,শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সময়ের সাথে সাথেই সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।     
মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে শিক্ষকদের মনের কথা শুনতে হবে। দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩ করা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১ গ্রেড। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা দাবি ১০তম গ্রেড। কোনো শিক্ষকই কেন তৃতীয় শ্রেণিতে চাকরি করবেন?  সহকারী প্রধান শিক্ষকদের একটি পোষ্টে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।  কেবল বেতনের জন্যই সবাই চাকরি করে না। পদোন্নতির আশা মনের ভেতর লুকিয়ে রাখে সবাই। অন্যান্য সরকারি চাকরির মতো প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরিতে পদোন্নিতর সুযোগ থাকা উচিত এবং এটা তাদের পেশাগত দক্ষতা, কাজের প্রতি স্পৃহা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর তার মেধা এবং দক্ষতা, কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উৎসাহ এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পার হলেও সেই পদ থেকে পদোন্নতি না হয় তখন তার মনে হতাশা বিরাজ করে। আর সেটাই স্বাভাবিক। প্রত্যেকেই তার কাজের মূল্যায়ন চায়। সেই মূল্যায়ন যে কেবল বেতন বৃদ্ধির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে এমন ধারণা ঠিক নয়। চাকরিতে পদোন্নতি থাকা তাই একান্ত আবশ্যক। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে এটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি কাজ চলছে এমন খবর শোনা গেছে। সেটা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক এটা প্রত্যাশা করি। একজন সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর নির্দিষ্ট সময় শেষে সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ থাকে তাহলে শিক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ সঞ্চার হবে। তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সচেতন হবে। কারণ এই পদোন্নতির মাপকাঠি যদি শিক্ষকদের মেধা,দক্ষতা ইত্যাদি বিবেচনায় হয় তাহলে তারা তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করবে। তারা তাদের কাজে অসন্তুষ্টি থাকবে না এবং সর্বোচ্চ সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দেয়ার কাজটি করে যাবে।
লেখক ঃ সাংবাদিক  
sopnilroy1985@gmail.com
০১৮৩৭-১২৬০০৭