এক অতীন্দ্রিয়বাদী ধর্মতাত্ত্বিক সুফি সম্রাট

জালালউদ্দিন রুমির জন্ম বা বেড়ে ওঠা যেখানেই হোক না কেন তিনি প্রমাণ করেছেন মানবশিশু শূন্য অবস্থায় জগতে আসে বটে কিন্তু পূর্ণতা নিয়ে গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে নিজের মধ্যে।

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২২, ০১:৩১ দুপুর
আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২২, ০৪:২৩ দুপুর
আমাদেরকে ফলো করুন

মো. খবির উদ্দিন : 

কোনো কোনো আগমন হয়ে ওঠে প্রমোদ তরীর মতো আনন্দময়। মোহনীয় আবেশ ছড়ায় বৃক্ষরাজির পাতায় পাতায়। নক্ষত্ররা সারি বেঁধে অভিনন্দন জানায়। ঠিক তেমনিভাবেই সুফি জগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মাওলানা জালালউদ্দিন মোহাম্মদ রুমির আগমন ঘটেছিল। মধ্যযুগের ফার্সি সুন্নি মুসলিম মরমী কবি, আইনজ্ঞ, ইসলামি ব্যক্তিত্ব, ধর্মতাত্ত্বিক, দার্শনিক, অতীন্দ্রিয়বাদী, সুফি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি ১৩শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ৩০ সেপ্টেম্বর ১২০৭ সালে বর্তমান আফগানিস্তানের বালখ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যিনি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ বালখী, মাওলানা রুমি, মৌলভী রুমি এবং শুধু রুমি নামেও পরিচিত। রুমি শব্দটি মূলত আরবি যার অর্থ রোমান। তিনি ‘মোল্লা-ই রুম’ (রুমের মোল্লা) নামেও পরিচিত ছিলেন। তবে তিনি ইরানে তাঁর উপনাম ‘মাওলানা’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। মাওলানা একটি আরবি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে শিক্ষক। কেউ কেউ তাঁকে ফার্সিতে মৌলভী বলেও ডাকত। মৌলভী অর্থও শিক্ষক। এই দু’টি উপনাম তাঁর নামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হত। রুমির আগমনী বার্তা আজও বিশ্বলোকে গোলাপের ন্যায় সুরভিত। রুমির পিতা মাওলানা বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী, ধর্মতাত্ত্বিক ও আইনজ্ঞ ছিলেন। একইসাথে একজন অতীন্দ্রিয়বাদী এবং যিনি রুমির অনুসারীদের কাছে “সুলতান আল-উলামা” নামে পরিচিত। মাওলানা বাহাউদ্দিনের মাতা ছিলেন তৎকালীন খোরাসানে শাহজাদি বাদশা আলাউদ্দিনের কন্যা। বাহাউদ্দিনের পিতা আহমাদুল হোসাইন। তিনিও ছিলেন সেই সময়ের প্রজ্ঞাবান আলেম অতুলনীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক। জানা যায়, মাওলানা রুমির পিতা আবুবকর সিদ্দিকের (রা.) এর বংশধর এবং মাতা হযরত আলী (রা.) এর বংশধর। তবে ইতিহাসবিদরা এ বিষয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারেননি। এ বিষয়ে গবেষকরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। রুমির মা ছিলেন মুইমিনা খাতুন। তাঁর পারিবারিক কাজ ছিল কয়েক প্রজন্ম ধরে ইসলাম ধর্মের হানাফী মাজহাবের প্রচারণা চালানো। পরিবারের এই ঐতিহ্যকে রুমি এবং সুলতান ওয়ালাদ অব্যাহত রেখেছেন। যারা প্রাচ্যের অতীন্দ্রিয়বাদ, বিশেষত  সুফিবাদ সম্পর্কে আগ্রহী তাদের কাছে মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বিদিত। সর্বকালের সেরা একজন সুফিগুরু হিসেবে ইতিহাসে তাঁর আসন। কবিতার একনিষ্ঠ পাঠক, বিশেষ করে ফার্সি সাহিত্যের গুণগ্রাহীরা তাঁর কাব্যকে উচ্চমানের কাব্য হিসেবে মর্যাদা দিয়ে থাকেন। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তাঁর অন্তর্ভেদী প্রেমময় দৃষ্টিভঙ্গি যেকোনো কালের মানুষের বোধ ও চিন্তার উৎকর্ষ সাধনে প্রাসঙ্গিক।

মতান্তরে ১২২০ সালে যখন বাহাউদ্দিন ওয়ালাদ তাঁর পুরো পরিবার এবং একদল শিষ্যসহ পশ্চিমাভিমুখে রওয়ানা হন তখন ইরানিয়ান ‘নিশাপুরে’ রুমির সাথে পারস্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় রহস্য কবি আত্তার এর দেখা হয়। আত্তার সাথে সাথেই রুমির আধ্যাত্মিক বৈশিষ্ট্য চিনতে পেরেছিলেন। আত্তার দেখতে পেলেন রুমি তাঁর পিতার পিছনে পিছনে হেঁটে যাচ্ছেন। আত্তার বললেন, ‘একটি হ্রদের পিছনে একটি সমুদ্র যাচ্ছে’। তিনি বালক রুমিকে ‘আসরারনামা’ নামে একটি বই প্রদান করলেন। এই সাক্ষাৎ আঠারো বছরের রুমির উপরে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং পরবর্তীতে তাঁর কাজের উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে। নিশাপুর থেকে ওয়ালাদ এবং তাঁর লোকজন বাগদাদের দিকে রওয়ানা হন এবং অনেক পণ্ডিত ও সুফিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বাগদাদ থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং মক্কায় হজ পালন করেন। অতঃপর অভিযাত্রী কাফেলা দামেস্ক, মালাতোয়া, এজিকান, শিবাস কায়সেরি এবং নিগদি পাড়ি দেয়। তাঁরা কারামান এ সাত বছর থাকেন। রুমির মা এবং ভাই সেখানে মারা যান। ১২২৫ সালে কারামানে রুমি বিয়ে করেন গওহর খাতুনকে। তাঁদের দুটো ছেলেঃ সুলতান ওয়ালাদ এবং আলাউদ্দিন চালাবী। ১২২৮ সালের ১ মে, আনাতোলিয়ার শাসক আলাউদ্দিন কায়কোব তাঁদের আমন্ত্রণ জানান। বাহাউদ্দিন আনাতোলিয়া আসেন এবং আনাতোলিয়ার কনিয়াতে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন যেটি রুমি সালতানাতের পশ্চিমাঞ্চল। বাহাউদ্দিন মাদ্রাসা এর প্রধান শিক্ষক হন এবং যখন তিনি মারা যান তখন রুমির বয়স পঁচিশ বছর। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ইসলামিক মৌলভী হিসেবে পিতার পদ লাভ করেন। পিতা বাহাউদ্দিন এর ছাত্র সৈয়দ বুরহান উদ্দিন মোহাক্কিক তিরমিযী রুমিকে শরীয়াহ এবং তরীকা সম্পর্কে শিক্ষা দিতে থাকেন। বিশেষ করে তাঁর পিতার দিকগুলো। তিনি বুরহান উদ্দিনের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর নিকট মতান্তরে ১২৪১ পর্যন্ত সুফিবাদ শিক্ষা গ্রহণ করেন।

এরপর শুরু হয় রুমির জনজীবন। তিনি একজন ইসলামী ফকিহ্ বা আইনজ্ঞ হন। ফতোয়া প্রকাশ করেন এবং তিনি কনিয়ার মসজিদে নৈতিকতা সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে থাকেন। ইতিহাসের বর্ণনা মতে তিনি ১৫ নভেম্বর ১২৪৪ সালে দামেস্কে ভ্রমণকালে দরবেশ শাম্স তাবরিজ এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। যেটি তাঁর জীবন সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয়। অন্য এক তথ্যে পাওয়া যায় কনিয়ায় মাওলানা রুমি শুক্রবারে জুমার নামাজের বয়ান ও জুমা আদায় শেষে যখন ঘোড়ায় চড়ে রওয়ানা হন ঠিক তখন অচেনা এক পাগলপ্রায় লোককে দেখতে পান। রুমি মুহূর্তেই অচেনা লোকের চোখ দেখে বুঝতে পারেন এ কোন সাধারণ লোক নয়। রুমি ঘোড়া থেকে নেমে গেলেন অচেনা লোকটিও এগিয়ে আসলেন। দু’জনের মধ্যে আত্¥ার যোগসূত্র শুরু হতে লাগল। উপস্থিত জনতা বুঝে উঠতে পারছিলনা কি হতে চলছে। শাম্স তাবরিজ মনে মনে ভাবতে লাগল যাকে আমার হৃদয়ের ভার দেয়ার জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসেছি আজ সেই প্রাপ্তির তৃপ্তি অনুভব করছি। সাগরেদের খোঁজে পিপাসার্থ আত্মার শিল্পী নির্জনতাপ্রিয় পরিব্রাজক আধ্যাত্মিক সম্রাট শাম্স তাবরিজ। শাম্স তাবরিজ হয়ে গেলেন মাওলানা রুমির শিক্ষক। শাম্স তাবরিজের সংস্পর্শে আস্তে আস্তে মাওলানা রুমি একজন সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষক এবং আইনজ্ঞ থেকে সাধুতে রূপান্তরিত হয়ে গেলেন। শাম্স এর জন্য রুমির ভালোবাসা এবং তাঁর মৃত্যুতে তিনি শোক প্রকাশ করেছেন “দেওয়ান-এ শামস তাবরিজী” কাব্যগ্রন্থে।

রুমি গজল রচনা শুরু করলেন। সেগুলো “দেওয়ান-ই কবির” বা দেওয়ান শামস তাবরিজীতে সংগৃহীত করা হয়। রুমির প্রিয় ছাত্র হুসাম এ চালাবি রুমির সঙ্গীর ভূমিকা পালন করেন। একদিন তাঁরা কনিয়ার বাইরে একটি আঙ্গুরক্ষেতে বিচরণ করছিলেন তখন হুসাম রুমিকে একটি ধারণা দিলেন: ‘যদি আপনি একটি বই লিখেন যেমন সাই এর “এলাহিনামা” বা আত্তার এর “মাতিক উত-তাইর” যেটি অনেকের সঙ্গ দেবে। তারা আপনার কাছ থেকে হৃদয়পূর্ণ করবে এবং সংগীত রচনা করবে। রুমি মুচকি হাসলেন এবং এক টুকরো কাগজ বের করে তাঁর “মসনবী” এর প্রথম আঠারো লাইন লিখলেন, যার প্রথম লাইন দুটো হলো-

বাঁশের বাঁশি যখন বাজে, তখন তোমরা মন দিয়ে শোন, সে কি বলিতেছে,

সে তাহার বিরহ বেদনায় অনুতপ্ত হইয়া ক্রন্দন করিতেছে......

হুসাম রুমিকে মিনতি করতে লাগলেন আরো লেখার জন্য। রুমি তাঁর পরের বারটি বছর আনাতোলিয়ায় তাঁর সেরা কাজ “মসনবী” এর ছয়টি খন্ডের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। রুমির প্রভাব দেশের সীমানা এবং জাতিগত পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে পড়ে। ফার্সি তাজাকিস্তানি, তুর্কি, গ্রিক, পশতুন, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানরা বিগত শতকগুলোতে বেশ ভালভাবেই তাঁর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে যথাযথভাবে সমাদৃত করে আসছে। তাঁর কবিতা সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিভিন্ন ধারায় রূপান্তরিত হয়েছে। রুমিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি’ এবং ‘সর্বাধিক বিক্রীত কবি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর ফার্সি ভাষায় লেখা মসনবীকে সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়। বৃহত্তর ইরান এবং বিশ্বের ফার্সি ভাষা ভাষী জনগোষ্ঠী এখনও তাঁর লেখাগুলো ব্যাপকভাবে মূল ভাষায় পড়ে থাকে। অনুবাদসমূহও খুব জনপ্রিয়, বিশেষ করে তুরস্ক, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ায়। তাঁর কবিতা ফার্সি সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে। শুধু তাই নয় তুর্কি সাহিত্য, উসমানীয় তুর্কি সাহিত্য, আজারবাইজানি সাহিত্য, পাঞ্জাবের কবিতা, হিন্দি সাহিত্য, উর্দু সাহিত্যকেও অনেক প্রভাবিত করেছে। এছাড়াও তুর্কীয়, ইরানীয়, ইন্দো-আর্য, চাগাতাই, পশতু এবং বাংলা সাহিত্যকেও প্রভাবিত করেছে। তাঁর জীবনদর্শনের উপর শিবলী নোমানীর রচিত ‘সাওয়ানেহে মাওলানা রুম’ অন্যতম। 

এটা অনস্বীকার্য যে রুমি ছিলেন একজন মুসলিম পন্ডিত। তাঁর আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা ছিল বিশাল। “পবিত্র কোরআন অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে আল্লাহ পাঠিয়েছেন সকল সৃষ্টির জন্য। যার মধ্যে মানবজাতি রয়েছে।” এ সম্পর্কে রুমি বলেন: “মুহাম্মদের আলো কোনো অগ্নিপূজারী বা ইহুদিকে পরিত্যাগ করে না। তাঁর সৌভাগ্যের ছায়া যেন সবার উপর উজ্জ্বল হয়। তিনি সুপথে নিয়ে আসেন যারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল মরুভূমিতে।

রুমি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমার প্রাণ আছে আমি কোরআনের দাস। আমি মুহাম্মদের রাস্তার ধূলিকণা, নির্বাচিত ব্যক্তি। যদি কেউ আমার বলা বাণী ছাড়া অন্য কিছু আমার নামে চালায়, আমি তাকে ত্যাগ করব সেসকল শব্দের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে। রুমি আরো বলেন- “আমি আমার দুই চোখকে ‘বিরত’ রেখেছি, এই পৃথিবী আর আখিরাতের অভিলাষ থেকে যা আমি মুহাম্মদ (সা.) থেকে শিখেছি।

সাইদ হুসাইন নাসের বলেন- ‘রুমির সময়কার একজন মহান জীবিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন হাজি হাজরী, তিনি রুমির দেওয়ান এবং মসনবীতে অপ্রকাশিত প্রায় ৬০০০ এর মতো পদ্য তুলে ধরেন, যা কবিতার মাধ্যমে কোরআনের আয়াতের সরাসরি ফার্সি অনুবাদ।’ রুমি দেওয়ান এ বলেন, সুফী হচ্ছে মুহাম্মদকে আবু বকর এর মত আঁকড়ে ধরা।

ইরান এবং আফগান সংগীতের ভিত্তি গঠন করে রুমির কবিতা। তাঁর কবিতার সমসাময়িক সর্বোত্তম অনুবাদ করেন মোহাম্মদ রেজা সাজারিয়ান, শাহরাম নাজেরি, দাবুদ আজাদ এবং উস্তাদ মোহাম্মদ হাশেম চিশতী। পশ্চিমা বিশ্বে শাহরাম শিবা প্রায় বিশ বছর ধরে রুমির কবিতা শিক্ষা, প্রতিপাদন, পরিবেশন এবং অনুবাদ করে আসছেন এবং যেটি রুমির ইংরেজি ভাষী দেশসমূহে রুমির তাৎপর্য বিস্তারে সহায়তা করছে। পাকিস্তানের জাতীয় কবি মোহাম্মদ ইকবাল রুমির কাজ দ্বারাই অনুপ্রাণিত। তিনি রুমিকে আত্মিক পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখেন এবং তাঁকে পীর রুমি বলে সম্বোধন করেন। তাঁর কবিতাগুলোতে সম্মানার্থে পীর শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যার অর্থ প্রতিষ্ঠাকারী শিক্ষক কিংবা পথপ্রদর্শক। শাহরিন শিবা দাবি করেন ‘রুমি উচ্চ ব্যক্তিসত্তাসম্পন্ন এবং মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত বৃদ্ধি এবং উন্নতির জগতকে গুলিয়ে ফেলেন একটি স্পষ্ট এবং সরাসরি ছন্দে। রুমির কবিতা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে যার মধ্যে রুশ, জার্মান, উর্দু, তুর্কি, আরবি, বাংলা, ফরাসি, ইতালীয় এবং স্প্যানিশ। সোলেমান  বার্খসের করা রুমির কবিতার ইংরেজি অনুবাদ সারা বিশ্বে পাঁচ লাখেরও বেশি বিক্রি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পঠিত কবির নাম রুমি। শাহরাম শিবার বই “রেন্ডিং দ্য ভেইল: লিটারাল এন্ড পয়েট্রিক ট্রান্সলেশন অব রুমি (১৯৯৫) বইটি বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন পুরস্কার লাভ করে। রুমির কবিতার রেকডিং যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ডের সেরা ২০ এর তালিকায় প্রবেশ করে।

কার জন্ম কোথায় হয়েছে সেটা কেউ মনে রাখে না। কিন্তু কার কর্ম কতটা মহৎ কতটা কল্যাণমুখী সেটিই স্মরণীয় হয়ে থাকে পৃথিবীতে। জালালউদ্দিন রুমির জন্ম বা বেড়ে ওঠা যেখানেই হোক না কেন তিনি প্রমাণ করেছেন মানবশিশু শূন্য অবস্থায় জগতে আসে বটে কিন্তু পূর্ণতা নিয়ে গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে নিজের মধ্যে। মাওলানা রুমির পরমতসহিষ্ণুতা, ইতিবাচক যুক্তি, ধার্মিকতা, দানশীলতা শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু শিক্ষাদান বা উপদেশ সকল ধর্মের মানুষের অন্তর স্পর্শ করেছে। ১২৭৩ সালের ডিসেম্বরে রুমি অসুস্থবোধ করতে লাগলেন। তিনি তাঁর নিজের মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং অনেক জনপ্রিয় হওয়া গজল রচনা করেন। ১৭ ডিসেম্বর ১২৭৩ সালে রুমি কনিয়ায় মারা যান। তাঁকে তাঁর পিতার কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়। যা বর্তমানে মাওলানা মিউজিয়াম। তাঁর কবরের উপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁর সমাধিফলকে লেখা : আমি যখন মৃত, পৃথিবীতে আমার সমাধি না খুঁজে, আমাকে মানুষের হৃদয়ে খুঁজে নাও।

লেখক : কলামিস্ট

[email protected]

০১৭১১-২৭৩২৮০

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়