বাঁচার জন্য কত টাকা চাই

ওসমান গনি

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২২, ১০:৪৮ রাত
আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২২, ১০:৪৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

আমাদের দেশে প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে-অর্থই অনর্থের মূল, তার মানে হলো আমরা অর্থ বলতে বুঝি টাকা। মানুষের চলার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই টাকার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সে টাকাটা অবশ্যই সৎ পথে কষ্টার্জিত হতে হবে। কিন্তু মানুষের চাহিদার শেষ নেই। তাই সব সময় টাকার চিন্তায় দৈনন্দিন জীবনের নাওয়া খাওয়া ভুলে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে টাকার পিছনে দৌঁড়ায়। কিন্তু আমরা কি একটিবার চিন্তা করে দেখছি এই টাকা দিয়ে আমাদের জীবনে কি হবে?

আমাদের জীবনে বেঁচে থাকারও তো একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা আল্লাহ বেঁধে দিয়েছেন। ঐ নির্দিষ্ট সময়ের পর প্রাকৃতিক নিয়মেই আমাদের চলে যেতে হবে দুনিয়া ছেড়ে। তখন এই টাকা কি কাজে লাগবে? তখন এ টাকা জীবনে দু:খ কষ্ট বয়ে আনা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না। একটা মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কি পরিমাণ টাকার প্রয়োজন। সে পরিমান টাকাটাই রোজগার করা উচিত সৎ পথে থেকে। কিন্তু টাকা রোজগার করার জন্য মানুষ বেহুশ হয়ে পড়ে। চাহিদার শেষ নেই। জীবনে অতিরিক্ত টাকা রোজগার করতে গিয়ে কতই না মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিন্তু আমাদের তো একটা কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, এ দুনিয়াতে আমরা যতকিছুই করি না কেন পরকালে আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবটুকু সময়ের হিসাবে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দিতে হবে। মানুষ কি একবার চিন্তা করে দেখছে যে, জীবনের শেষান্তে অর্থাৎ পরকালে সে হিসাব আল্লাহর নিকট দিতে পারবে কিনা?

এমন কি পরকালে মানুষের কি হবে সে চিন্তাটুকুও মানুষ করে বলে বাস্তব জীবনে মনে হয় না। যদি পরকালের কথা মানুষ একবার চিন্তা করতো তাহলে এ দুনিয়াতে টাকার জন্য মানুষ এতো কিছু করতো না। কালো টাকা রোজগার করতে গিয়ে এ দুনিয়াতেই কতই না অপরাধমূলক কাজে জড়ায় মানুষ তার কোন হিসাব নেই। আর এ কালো টাকাতো জীবনে সুখ বয়ে আনে না। এ টাকা জীবনে অশান্তির সৃষ্টি করে। জীবন কে করে তোলে বিষময়। যে অবৈধপথে কালো টাকা রোজগার করে থাকে, তা কি একবার চিন্তা করে দেখছে যে, পিছন থেকে মানুষ তাকে কি বলে, আর তাকে নিয়ে কি সমালোচনা করে? মানুষ কখনও এ কথা একবারও চিন্তা করে না। অবৈধ পথে যে টাকা রোজগার করে সমাজে তথা দেশের মানুষ তাকে দেখলে ছিঁ ছিঁ করে। তাকে নিয়ে রাস্তাঘাটে সমালোচনা করে থাকে। এটাতো মানুষের জীবন না। তাই কবি বলেছেন, এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরণে কাঁদিবে সবাই হাসিবে ভূবন। আমরা কি এমন জীবন গঠন করতে পেরেছি? পারি নাই। তার একটাই কারণ আমাদের মাত্রাতিরিক্ত লোভের কারণে। অবৈধ পথে টাকা পয়সা রোজগার করে ছেলে/মেয়েদের জন্য বিশাল বিশাল আকৃতির সুউচ্চ দালানকোঠা নির্মাণ করে যাই। কিন্তু আমাদের মৃত্যুর পর ছেলে/মেয়েরা সেই অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে খুনাখুনি করে থাকে।

আমরা বাস্তবজীবনে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি বাবা,মার মৃত্যুর পর কমবেশি অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে বাবার লাশ কবর দিতে দেয়নি ছেলে/মেয়েরা। তাহলে এই অর্থ এখানে কি নিয়ে আসল? বাবা মার মৃত্যুর পর যেখানে তারা ছেলে/মেয়েদের দোয়া পাওয়ার কথাছিল সেখানে এই কারণে মা বাবা মরেও শান্তি পেল না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার তাঁর এক বক্তৃতায় বলেছিলেন যে, মানুষ খালি টাকা টাকা করে। একটা মানুষ চলতে গেলে কত টাকার প্রয়োজন? যে পরিমান টাকা না হলেই নয় সেই পরিমাণ টাকা রোজগার করুন। অবৈধ পথে টাকা রোজগার করবেন না। অবৈধ পথে যারা কালো টাকা রোজগার করে মানুষ তাদেরকে পেছন থেকে গালি দেয়। কথাটা পুরোপুরি সত্য।

তাছাড়া আপনার নিকট যখন চলার মতো টাকা থাকবে তখন মানুষ আপনাকে নিয়ে কোন সমালোচনা করবে না। আপনার জীবনে কোন চোর ডাকাতের ভয় থাকবে না। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। আপনার কোন চিন্তাভাবনা থাকবে না। হার্ট এ্যাটাকের ভয় অনেকটা কম থাকবে। মনের শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারবেন। কিন্তু যখন আপনার অতিরিক্ত টাকা হবে তখন মানুষ আপনাকে নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনায় মশগুল থাকে। আপনার মনে চোর ডাকাতের ভয় আসবে। টাকার চিন্তায় রাত্রে আপনার ভালো ঘুম হবে না। আর ভালো ঘুম না হলে টাকার চিন্তায় হার্ট এ্যাটাকের ভয়ও থাকবে বেশি।

টাকার জন্য অতিরিক্ত চিন্তায় আপনাকে কবরেও যেতে হতে পারে। অতিরিক্ত চিন্তা থেকে বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষ হার্ট এ্যাটাকের মারা যাচ্ছে। আর আপনার অতিরিক্ত টাকার কারণে সংসার জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হবে। এদেশে যারা কালো-রোজগার করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ উপার্জন করেছেন তারা তো কেউ এ দুনিয়ায় টিকে থাকতে পারেননি। টাকাতো তাদের মৃত্যুকে ঠেকাতে পারেনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়