জমাদিউল আউয়াল মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০৯, ২০২১, ০৮:৫৮ রাত
আপডেট: ডিসেম্বর ০৯, ২০২১, ০৮:৫৮ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

মাওঃ ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম মীর: হিজরী সালের ৫ম মাস জমাদিউল আউয়াল। মু’মিন আমল থেকে খালি থাকে না। প্রতিটি মুহূর্ত তার আমলে কাটে। একজন মুসলমানের সব চেয়ে বড় আমল হলো মৃত্যু পর্যন্ত ঈমানের ওপর অটল থাকা। সময়ের দিকে লক্ষ্য করে এই মাসে বিশেষ কোন আমল না থাকায় মু’মিনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস ঈমান-আক্বীদার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।তাওহীদ-রিসালাতের হাক্বীকত ও তাৎপর্য ঃ ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহি ওয়াল লাজিনা মা’আহু আশিদ্দাউ আলাল কুফফারি রুহামাউ বাইনাহুম’ অর্থ-হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহ তা’আলার রসুল এবং তাঁর সাথীগণ কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং নিজেদের মাঝে পরস্পর সহানুভূতিশীল। [সুরা ফাতহ্]
কালেমা তায়্যিবা ও তার দাবি ঃ আয়াতে প্রথম অংশটুকু কালেমায়ে তায়্যিবা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ) এর দ্বিতীয় অংশ বটে। আর কালেমা তায়্যিবার প্রথম অংশ বিভিন্ন আয়াতের মধ্যে উল্লেখ আছে। প্রথম অংশের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার সাথে আমরা ওয়াদাবদ্ধ হয়ে যাই যে, আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কোন মা’বুদ নেই। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য নয় বা অন্য কাউকে ইবাদত করার কোন সুযোগ নেই। কারণ স্পষ্ট একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা তিনিই আমাদের কল্যাণার্থে যা কিছু দরকার সবকিছুই সম্পন্ন করে দিয়েছেন। তিনি সমস্ত উত্তম গুণের পরিপূর্ণ অধিকারী। কোন দোষ-ত্রুটি তাঁর ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাঁর ফয়সালা ব্যতীত অন্য কারো হাতে আমার উপকার বা অপকারের সামান্যতম ক্ষমতাও প্রদান করা হয়নি। সৃষ্টজীব দ্বারা বাহ্যিকভাবে আমাদের কোন কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধিত হলে সেটা মূলতঃ আমাদের কর্মফলের ভিত্তিতে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলার সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। মাখলুক ও সৃষ্টজীবের নিজেস্ব কোন ক্ষমতা নেই। তার যে ক্ষমতা বা তাছির আমরা লক্ষ্য করি তা মূলত আল্লাহ তা’লারই দেওয়া ক্ষমতা এবং সে ওই ক্ষমতা প্রকাশ করতেও আল্লাহর হুকুমের মুখাপেক্ষী। এই কারণেই আগুনের জ্বালানোর ক্ষমতা সর্বক্ষণ জারি থাকা সত্ত্বেও হযরত ইব্রাহীম (আঃ)কে আগুন জ্বালাতে পারেনি। বরং আরাম ও শান্তি পেয়েছিল। ধারালো ছুরির ভিতরে সবসময় কাটার ক্ষমতা লক্ষ্য করা গেলেও ঐ ছুরি ইসমাঈল (আঃ)কে কাটেনি। পানির ভিতরে ডুবানোর ক্ষমতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ঐ পানি হযরত মুসা (আঃ) এর বাহিনীকে ডুবাইনি। এ সবের একটাই কারণ মাখলুক বা সৃষ্টজীব তার ক্ষমতা প্রকাশ করতে হলেও ক্ষমতাদানকারী আল্লাহ তা’আলার নির্দেশের মুহতাজ হয়। তিনি নিষেধাজ্ঞা জারি করলে, কোন মাখলুকের কোন ক্ষমতা প্রকাশ পেতে পারে না।
উপকার বা অপকার করার মালিক একমাত্র আল্লাহ! এ জন্য নবীয়ে কারিম (সাঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)কে বললেন, হে ইবনে আব্বাস সমগ্র দুনিয়ার মাখলুকাত যদি তোমার কোন কল্যাণ বা ক্ষতি করতে চায় অথচ আল্লাহ তা’আলা যদি না চান, তাহলে মাখলুক তোমার বিন্দুমাত্র উপকার বা ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ তা’আলা যদি তোমার উপকার বা ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাহলে সমগ্র মাখলুক একত্র হয়ে তা বন্ধ করতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ তা’আলা আমাদের উপকার বা অপকার সাধনে কারো মুখাপেক্ষী নন। কিন্তু মাখলুক কারো উপকার বা অপকার করতে আল্লাহ তা’আলার মুখাপেক্ষী। এই জন্য আমাদেরকে সমস্ত প্রকার শিরক, কুফর ও বেদ’আত থেকে মুক্ত হয়ে ঈমানের ওপরে অটল থাকতে হবে। তাই আসুন আমরা শিরক মুক্ত ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারি আল্লাহ তা’আলা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক : ইমাম ও খতীব, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
বৃন্দাবনপাড়া, বগুড়া
০১৭১৯-৫৩৭৪০২

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়