সুশিক্ষা জীবন একটি বিদ্যাপীঠ

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৬:৫০ পিএম, ০৯ জুলাই ২০২১

মোঃ জিয়াউর রহমান: সুশিক্ষায় শিক্ষিত না হলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। যার মাঝে সুশিক্ষার আলো প্রবেশ করেনি সে কখনো তার শিক্ষা লাভের সার্থকতা হাসিল করতে পারেন না। এই জাতীয় শিক্ষা তাঁকে কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের পথে নিয়ে যায়। প্রতিটি জাতি কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের কবলে পড়ে আগাছার জন্ম দেয়। যে আগাছা পরবর্তিতে আরও বেশি আগাছা তৈরীতে সাহায্য করে। অন্ধকারে ঠেলে দেয়। এর থেকে আমাদের পরিত্রাণ দরকার। প্রকৃত শিক্ষার অভাব আমাদের মূল্যবোধের দীক্ষা দিতে পারে না। বুদ্ধি ও হৃদয়বৃত্তি সমৃদ্ধ না হলে সে শিক্ষা শুধু অন্ধ মানসিকতাই তৈরী করে। শিক্ষা একটি শিশুকে প্রশিক্ষণ দিবে, কিভাবে সে শরীর প্রতিপালন করবে, কিভাবে মনের উৎকর্ষ সাধন করবে, কিভাবে দৈনন্দিন বিবিধ সমস্যাকে যুক্তি ও বুদ্ধির সহায়তায় সমাধান করতে হবে, কিভাবে পরিবারের তথা পরিজনের ভরণ-পোষণ বা রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে এবং সর্বোপরি কিভাবে নিজেকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষা হলো জীবন-দর্শন। জীবনকে সুপথে, সুকাজে এগিয়ে নিয়ে যাবার বিশল্যকরণী। বিখ্যাত ইউরোপীয় শিক্ষাবিদ তথা লেখক জর্জ বার্নার্ড শ তার এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন- খরভব রং ধ নরমমবৎ ংপযড়ড়ষ’। অর্থাৎ জীবন একটি বড় স্কুল। 
আমার নিয়মিত একটি কাজের অংশ হিসেবে এক সরকারি কর্মকর্তার নিকটে একটি ফাইল উপস্থাপন করি। বহু ঘোরাফেরার পর হাদিয়ার বিনিময়ে শেষমেষ আমার কাজটি দয়ার বসে করে দিয়েছেন। শুধু আমার নিকটে নয়, অনেক মানুষই তার ব্যবহারে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। প্রায় দু’বছর পরে জেলা ট্রেজারী অফিসের সামনে দেখা। কুশল বিনিময়ের পরে বিরক্তি স্বরে উনি বললেন আজকাল সরকারি অফিসগুলো যেন কেমন হয়ে গেছে। জিজ্ঞাসা করলাম আবার কি হল। উনি উত্তর দিলেন, ‘আমি একজন সরকারি বড় কর্মকর্তা ছিলাম। তিন মাস হলে ঘুরছি আজ পর্যন্ত আমার পেনশনের ফাইলটি ঠিক করতে পারছি না। এবিষয়ে আমি আর কিছু লিখতে চাই না। শুধু বলতে চাই ভদ্রলোকটির মাঝে সুশিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যথার্থই বলেছিলেন, ‘আমলা নয় মানুষ সৃষ্টি করুন। জ্ঞান লাভ ও সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। শুধু গ্রেড পাওয়ার জন্য নয়, আমাদের প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত জ্ঞান ও বৈদগ্ধ লাভের জন্য। বিশেষ কিছু হৃদয়ঙ্গম না করেও একজন ভালো ‘ডিগ্রি’ পেতে পারেন। আমরা মনে করি একটি শিশুর কাঁধে পাহাড়সম ভারী ব্যাগ তুলে দিতে পারলেই শিশুটি শিক্ষায় পন্ডিত হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষাদানের পদ্ধতি সর্বদা সহজ, সরল ও প্রকৃতিনির্ভর হওয়া প্রয়োজন। আমরা ক্রমশ নিজেদের সমর্পিত করে ফেলেছি প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঁদুর দৌড়ে। তাই অভিভাবকদের আজ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে তারা কি ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে চান তাদের ছেলেমেয়ে বা নতুন প্রজন্মকে। 
নতুন প্রজন্মকে আজ সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তুলতে হবে। জীবনকে দক্ষ গতিশীল, আকর্ষণীয়, গ্রহণযোগ্য ও কল্যাণকামী করতে সুশিক্ষার কোন বিকল্প নাই। সরকারকে এখনই কল্যাণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একটি জাতির অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কুতি, গৌরব,আশা আকাঙ্খা, রাজনৈতিক দর্শন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে অক্ষুন্ন রাখতে এবং জাতি গঠনে সামগ্রিক স্বার্থে নিয়োজিত হতে সুশিক্ষা তথা প্রকৃত শিক্ষাই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। সার্বিক অর্থে একটি সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সুশিক্ষা। 
লেখক ঃ পরিবেশ কর্মী ও প্রাবন্ধিক
[email protected] 
০১৭২৮-৪২৬০৮৬