রবিউস সানি মাসের করণীয় ও বর্জনীয়

RezaDhaka RezaDhaka
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০২১

মাওঃ ডাঃ শফিকুল ইসলাম মীর: এ মাসের বিশেষ কোন আমল না থাকলেও আমাদের দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষেরা নিজের ইলম এর অভাব এবং হক্কানী আলেমদের সাথে সম্পর্ক না থাকার দরুন এমন কিছু কাজ করে যা তাদের নজরে আমল মনে হলেও আসলে তা ঈমান বিধ্বংসী কাজ। অথচ আমলের চেয়ে ঈমানের গুরুত্ব অনেক বেশী। কারণ, শুধু সহীহ ঈমান দ্বারা জান্নাত লাভ করা (যদিও তা প্রথম অবস্থায় না হোক) কিন্তু সহীহ ঈমান ব্যতীত হাজারো আমল দ্বারা নাজাত পাওয়ার সুরত নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে চরম ফিৎনার যুগে অনেক মানুষ সকালে মু’মিন থাকলেও বিকালে ঈমান হারা হচ্ছে, আবার কেউ বিকালে মু’মিন থাকলেও সকালে ঈমান নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু মানুষের ঈমান আক্বীদা সংরক্ষণের জন্য যথার্থ ব্যবস্থা সমাজে নেই। অথচ বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার দরুন এতদসম্পর্কিত অধিক সংখ্যক কিতাব পত্র রচনা ও আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত থাকা ছিল একান্ত জরুরি। তাই এ মাসে যে কাজের দ্বারা মানুষ তার ঈমানের ক্ষতি করছে তা উল্লেখ করে যথার্থ আমলের সুরত যা কুরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ আমাদের সুন্নত তরীকায় পুরো যিন্দেগী চলার তওফিক দান করেন। আমীন।
ফাতিহা ইয়াযদহম :  
ফাতিহা বলতে বুঝানো হয়, কোন মৃতের জন্য দোয়া করা, ইছালে ছওয়াব করা। ইয়াযদহম শব্দটি ফার্সি। এর অর্থ হলো একাদশ। ৫৬১ হিজরী মোতাবেক ১১৮২ খ্রিঃ ১১ই রবিউস সানি তারিখে বড়পীর শায়খ আব্দুল কাদির জিলানী (র.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু উপলক্ষে রবিউস সানি ১১ তারিখে যে মৃত্যু বার্ষিকী পালন, উরস ও ফাতিহাখানী করা হয় তাকে বলা হয় ফাতিহা ইয়াযদহম। ইসলামে জন্ম বার্ষিকী বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও উরস করা শরীয়াত সমর্থিত অনুষ্ঠান নয়। তবে তিনি অনেক উ”ু দরের অলী ও বুযুর্গ ছিলেন, তাই এই নির্দিষ্ট তারিখে অনুসরণ না করলে অন্য যে কোনো দিন তাঁর জন্য দোয়া করা এবং জায়িয তরীকায় তাঁর জন্য ইছালে ছওয়াব করলে তাঁর রুহানী ফয়েজ ও বরকত লাভের ওসীলা হবে এবং তা ছওয়াবের কাজ হবে। নি¤েœ সংক্ষিপ্তভাবে এর বিবরণ দেওয়া হলো-
(ক) কবর যিয়ারত : হাদীস শরীফে কবর যিয়ারতের নির্দেশ ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে সন্তানের জন্য প্রতি শুক্রবার পিতা-মাতার কবর যিয়ারত।  যিয়ারতের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সম্ভব হলে এটা করা উচিত। প্রতি শুক্রবার সম্ভব না হলে যখনই সুযোগ হয়, তখনই পিতা-মাতা ও অন্য মুরুব্বীদের কবর যিয়ারত করবে। এতে আখিরাতের কথা স্মরণ হয় এবং পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা সহজ হয়।
(খ) কবর পাকা করা :কবরকে পাকা করা বা কবরের উপর গম্বুজ তৈরী করা শরীয়াতের দৃষ্টিতে নিষেধ ও গুনাহের কাজ। সুতরাং কঠোরভাবে এর থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। তবে গোরস্থানের চতুস্পার্শ্বে দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া যায় বা কবরের চারপার্শ্বে বাঁশের বেড়া দিয়ে কবরকে হিফাযত করা যায়। যাতে গরু, ছাগল কবরের উপর চলাচল করে বা পেশাব পায়খানা করে বেহুরমতী করতে না পারে।
(গ) ইছালে সাওয়াবের তরীকা
মুর্দা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য সওয়াব রেছানী করা তাদের হক এবং এটা জীবিতদের কর্তব্য। জীবিতগণ মুর্দা পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের ব্যাপারে যতটুকু করবে, তারা মৃত্যুর পর তাদের জীবিত আত্মীয়দের থেকে সেরুপ আচরণ পাবে। কুরআনে কারিমে আল্লাহ তা’আলা পিতা-মাতার জন্য আল্লাহর দরবারে কিভাবে দোয়া করতে হবে তার শব্দগুলো শিখিয়েছেন এবং দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা কবুল করার ওয়াদাও করেছেন। সুতরাং পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনের জন্য ইছালে সাওয়াব বা সওয়াব রেসানী করা খুবই দরকার। হাদীস শরীফে এসেছে মানুষকে যখন কবরে দাফন করা হয়, তখন তার অবস্থা ডুবন্ত মানুষের ন্যায় হয়ে যায়। নদীতে বা সাগরে যদি জাহাজ তলিয়ে যায়, তখন মানুষ যেমন দিশেহারা হয়ে চতুর্দিকে হাত মারতে থাকে এই ধারনায় যে, হাতে কোন কিছু আসে কিনা। যা আঁকড়ে ধরে সে জানে বাঁচতে পারে। মুর্দারও সে অবস্থায় হয় এবং সে জীবিতদের সওয়াব রেসানীর অপেক্ষা করতে থাকে। তখন তার আপনজন আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব যদি কিছু সওয়াব রেসানী করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা সেটাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে তাদের খেদমতে জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়া হিসাবে পৌঁছে দেন। (বাইহাকী শরীফ)। অতএব, আসুন আমরা সবাই মিলে এগুলির উপর আমল করে কবরে যেতে পারি, আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক ঃ ইমাম ও খতীব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
বৃন্দাবনপাড়া, বগুড়া
মুহতামিম, দারুল ইসলাম আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) নুরানী মাদ্রাসা
দক্ষিণ বৃন্দাবনপাড়া, বগুড়া
০১৭১৯-৫৩৭৪০২