চাই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, চাই সহায়ক পরিবেশ

RezaDhaka RezaDhaka
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

আতাউর রহমান মিটন: শ্লোগানটা সত্যিই হৃদয় ছোঁয়া - ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’ ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’! এটি ছিল এবারের বিশ^ খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য। গত ১৬ই অক্টোবর এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গোটা বিশে^র সাথে সাথে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে। দিবস পালন কোন আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এগিয়ে যাবার লক্ষ্যে নতুন প্রত্যয় গ্রহণের সূবর্ণ সুযোগ। দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের দেখতে হয় কতদূর এলাম এবং আরও কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে! সেই খাদ্য দিবসে আমাদের মূল আলোচনা বা বিবেচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ‘সকলের খাদ্য নিরাপত্তা’। ‘খাদ্য’ বলতে কেবল পেট পুরে কিছু খাওয়াকে বোঝায় না। খাদ্যের কথা বললে পুষ্টির কথাও বলতে হবে। কারণ পুষ্টিমান না থাকলে সেই খাদ্য মানুষের কোন কাজে আসে না। 
আমরা সকলেই জানি, সরকারের পক্ষ থেকে এখন প্রায় সর্বত্রই দাবি করা হয় যে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিশ^ খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেছেন, ‘বর্তমানে আমরা চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে তৃতীয়, শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।’ বাংলাদেশের কৃষি নিঃসন্দেহে অদম্য। আমাদের পরিশ্রমী কৃষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে এতদূর এগিয়েছে। এই সাফল্যের জন্য আমাদের কৃষক এবং সরকারের কৃষি ও খাদ্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বাজারে এখন খাবারের কোন ঘাটতি বা সংকট নেই। যদিও দাম আকাশ ছোঁয়া। গত সপ্তাহেও পেয়াঁজের ঝাঁঝ ছিল প্রায় অসহনীয়। তেলের দাম অস্থির, কাঁচামরিচসহ সব্জির বাজারে আগুন আর অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও উর্র্ধ্বমুখী। মূল্যের উত্তাপে ভীত হয়ে সাধারণ ক্রেতারা খাদ্য ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। অথচ উৎপাদক কৃষকেরা বলছেন, তারা তাদের উৎপাদিত কষ্টের ফসলের নায্য দাম পাচ্ছেন না। তাহলে এই বেশি দাম কে নিচ্ছে? বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের উপায় কী! 
উত্তাপ ছড়ানো খাদ্যের বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের অভিগম্যতা সঙ্গত কারণেই কম। এর সাথে জড়িয়ে আছে অসচেতনতা। যার ফলে দেশের মানুষের মধ্যে অপুষ্টির মাত্রা বেড়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা থেকে জানা যায়, গড়ে ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ পুষ্টিকর ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার তুলনামূলক কম খাচ্ছে। পরিমাণ ও পুষ্টিগুণ বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে পারে না। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ভাত, চিনি, আলু ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণের পরিমাণ বেশি। খাদ্যের বৈচিত্র্য বাড়লেও শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবারের ঝোঁক এখনও বেশি। এর ফলে আমাদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘অনুপুষ্টির ঘাটতি’ বিশে^র অনেক দেশের তুলনায় এখনও বেশি। যদিও বিশ^ ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯.১ যা ‘সহনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত। গত এক দশকে এ খাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৮.৬ যা ‘গুরুতর’। সুতরাং গুরুতর থেকে সহনীয় পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার এই সূচকটা আমাদের অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। এর জন্য সরকারকে অনেকগুলো ক্ষেত্রে আইনী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। কখনও কখনও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্মোহভাবে আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে। শুধু ‘পিঠ চুলকানো’ মার্কা সভা সেমিনার দিয়ে সকলের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশ^ ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে অনেকের মধ্যেই আনন্দের সীমা নেই। নিজের দেশের এই সাফল্যে আনন্দিত আমি নিজেও। তবে আমি এটাও বিবেচনায় রাখতে চাই যে, ১৯.১ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুধা সূচকে নেপাল এর সমকক্ষ এবং বিশে^ ৭৬ তম। আর এই সূচকে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৬৫তম, স্কোর ১৬, মিয়ানমারের অবস্থান ৭১তম, স্কোর ১৭.৫। দ্িক্ষণ এশিয়ার দুটি দেশ ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াও বৈশি^ক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। তাদের অবস্থান ৬৮ ও ৭৩ তম। উল্লেখ্য, বৈশি^ক ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান ১০১ তম, স্কোর ২৭.৫ আর পাকিস্তানের অবস্থান ৯২তম, স্কোর ২৪.৭। 
একদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে। অন্যদিকে অগ্রগতি সত্ত্বেও আমরা এখনও বেশ দূরে রয়েছি। প্রশ্ন হচ্ছে, সমস্যাটা তাহলে আসলে কোথায়? কী করা দরকার? অনেকেই বলে থাকেন, প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনগুলো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ অনেকের গবেষণা পদ্ধতির মধ্যেই গুরুতর কিছু ত্রুটি বিদ্যমান। আর তা ছাড়া অনেক সময় সরকারকে বিব্রত করার জন্যেও কিছু কিছু প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশ করা হয়। তাই ঢালাও মন্তব্য করার আগে আমাদের অবশ্যই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। 
যতটুকু জানি, কোন দেশের জনগণের মধ্যে বিরাজমান অপুষ্টির মাত্রা, ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বৃদ্ধি-হ্রাস এবং শিশুমৃত্যুর হার হিসাব করে শূন্য থেকে ১০০ স্কোরে ক্ষুধার মাত্রা বিশ^ ক্ষুধা সূচক নির্ধারণ করা হয়। এ সূচকে স্কোর শূন্য মানে ক্ষুধা নেই। স্কোর যত বেশি ক্ষুধার মাত্রাও তত বেশি। বৈশি^ক ক্ষুধা সূচক অনুযায়ী বিশে^ সবচেয়ে নিচে বা খারাপ অবস্থায় রয়েছে ইয়েমেন ও সোমালিয়া, স্কোর যথাক্রমে ১১৫ ও ১১৬তম। সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি’স অনুসারে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ^কে ক্ষুধামুক্ত করার কথা। বিশ^ নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে সম্মিলিত অঙ্গীকার ঘোষণা করলেও করোনা অতিমারি এবং অন্যান্য সংকটের কারণে বিশে^র ৪৭টি দেশ এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। এই অবস্থায় বিশ^ নেতৃবৃন্দকে আবারও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি ও কৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। গবেষণায় জোর দিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে কৃষি খাতে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। কৃষিতে মানবিক অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণ এখন খুবই জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ পুনরায় ব্যক্ত করেছেন, কৃষি জমির সুরক্ষার নিশ্চয়তার কথা বলেছেন কিন্তু সেই জমিতে উৎপাদন করবে যে কৃষক সেই কৃষকের কী প্রয়োজন, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য কী ধরণের ‘সহায়ক পরিবেশ’ গড়ে তুলতে হবে সেটা সরকারকে বুঝতে হবে এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
কৃষিতে করার আছে অনেক কিছু। জাত উন্নয়ন থেকে শুরু করে ফসলের বহুমুখীকরণ, মানসম্পন্ন ফল ও ফসল উৎপাদনে উৎসাহ যোগানোসহ মানুষের মধ্যে খাদ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পরিচিতি তুলে ধরা খুবই প্রয়োজন। রাষ্ট্রকেই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের ক্ষুদ্র চাষীদের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। কৃষি ব্যবস্থাপনাকে কর্পোরেট আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। কৃষি আধুনিকীকরণে পুঁজির ঘাটতি পূরণে সরকার এগিয়ে আসলে কর্পোরেটদের দৌরাত্ম হ্রাস পাবে, তাতে সুরক্ষিত হবে ক্ষুদ্র কৃষকের স্বার্থ। যদিও ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে। গরীব মানুষের নাম ভাঙিয়ে, কাগুজে সমিতি গঠন করে একদল প্রভাবশালী এখনও বহু এলাকায় সরকারের ঘাসজমি, জলাশয়, বনভূমি ভোগ দখল করছে। দশকের পর দশক ধরে এটা চলছে। সবাই সব কিছু জানে আবার কিভাবে যেন সবাই ম্যানেজও হয়ে নিশ্চুপই থেকে যাচ্ছে! এবারের বিশ^ খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যের একটা অংশে বলা হয়েছে, ‘ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’, কিন্তু আমরা আসলে পরিবেশের প্রতি কতখানি সংবেদনশীল। আমরা কি পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে কাজ করি নাকি আমাদের মনোজগত জুড়ে থাকে ব্যক্তিগত লাভের অঙ্ক? আমাদের কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে কমে গেছে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ ও জলজ জীব-বৈচিত্র্য। আমাদের দেশে মৌমাছির সংখ্যা কমে যেতে শুরু করেছে তাদের খাদ্য সঙ্কট এবং কীটনাশক ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে। আমরা ভূগর্ভের পানি এমন নির্বিচারভাবে ব্যবহার করছি যে মাটির নীচে থাকা পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানিতে বেড়েছে আয়রন। বেড়েছে আর্সেনিকসহ অন্যান্য খনিজ পদার্থের দূষণ। আমরা নদী, খালে বিষ ঢেলে দিয়ে মাছ মারছি! সমুদ্রে অপরিকল্পিতভাবে মাছ মারতে গিয়ে ছোট ছোট মাছগুলো নষ্ট করে ফেলছি অকাতরে! আবার উপকূলীয় অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত প্রকল্পসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প হাতে নেয়ায় সেখানকার পরিবেশ এখন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। হালদা নদীতে ইলিশ এর পরিমাণ কমেছে। উত্তরবঙ্গে পরিবেশ বিধ্বংসী ইউক্যালিপটাস বৃক্ষের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সেখানে পাখির আবাস নষ্ট হওয়াসহ প্রাণ-বৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে তো চলতে পারে না। তাই সকলের কাছে সবিনয় অনুরোধ, আসুন আমরা পরিবেশ নিয়ে ভাবি, সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ করি। 
সরকার ১০০ বছরের উন্নয়ন চিন্তা মাথায় রেখে ডেল্টা প্লান করেছে। ডেল্টা পরিকল্পনার মূল উপজীব্য পানি ও বাংলাদেশের ব-দ্বীপ বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা। এটা শুভ চিন্তা। পানির উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য আমাদের ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে হবে। পানি ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা হবে না। সুপেয় পানি ধরে রাখার ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। পুকুর ও জলাধার সংরক্ষণ করার ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। ডেল্টা প্লান নিয়ে বেশি বেশি কথা বলতে হবে। তরুণ বন্ধুদের কাছে অনুরোধ তোমরা নিজেরা ডেল্টা প্লান ভালভাবে বোঝ এবং তারপর ছোট ছোট স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দেশের মানুষকে বোঝানোর উদ্যোগ নাও। পরিকল্পনায় কোন অংশে আপত্তি থাকলে তা তুলে ধরো। নিজেদের ভবিষ্যত সুরক্ষায় নিজেরাই দায়িত্বশীল হও। আমরা তোমাদের পাশে না থাকলেও তোমরা যেন হতাশ হয়ো না। কারণ, আমরা বড়রা আসলে তোমাদের মত করে জীবনকে ভালবাসতে ভুলে গেছি। আমরা এখন চোখ বন্ধ করে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি! তাই আমাদের কাছে বেশি কিছু প্রত্যাশা না করে তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো। সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত কিভাবে হবে! 
উন্নয়ন করতে হবে পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষা করেই। জীবন ও জীবিকায়নের নিশ্চয়তা সুষ্টি করতে হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা না বাড়িয়ে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতি অতি মনোযোগ ফলপ্রসু হবে না। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ঢাকার এলিট শ্রেণির জন্য একের পর এক যেভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে তার খুব সামান্য অংশ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিনিয়োগ করা হলে দেশের মানুষ যারা এখন পুষ্টিহীনতার শিকার তারা পুষ্টি উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হতে পারে। তাই সরকারকে হলিষ্টিকভাবে একটু চিন্তা করতে হবে। খাদ্য অনঅপচয়ের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি অপচয় কমাতে যথাযথ আইনী কাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কারণ, দিনের শেষে পেটে ভাত আছে নাকি নাই, সেটাই মানুষের মূল জিজ্ঞাসা। 
লেখক : সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭১১-৫২৬৯৭৯