করোনাময় ঈদ সঞ্চালন ও অনুপ্রেরণা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:৪৭ পিএম, ২১ মে ২০২০

নার্গিস জামান:তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে! আমরা ক’জন নবীন মাঝি হাল ধরেছি রে। এই গানটি অসম্ভব রকম উজ্জীবিত করতে পারে আপনাকে। যুদ্ধের গান এটি, যুদ্ধের কি শেষ আছে! জীবন যুদ্ধ সর্বদা চলমান,আসুন গান শুনি,যে গান আপনাকে সঞ্চারিত করতে পারে, অনুপ্রাণিত করতে পারে। বিধ্বস্ত অবস্থায় নিজেকে একটু আলাদা সময় দিন,মনেরও একটু স্পেস দরকার হয়। আয়নার সামনে দাঁড়ান কিংবা কদমতলে দু’দন্ড বসে বুক ভরে শ্বাস নিন কদম ফুলের,”অল কোয়ায়েট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট”বইয়ের নায়ক পল বুমারের মতো। দেখবেন যুদ্ধে জয় করার মনোবল ফিরে পেয়েছেন। ভালো লাগবে। কখনো কখনো ভালো লাগার একটা শীতল মিষ্টি শিহরণ বয়ে যাবে আপনার হৃদয়ে এমনকি শরীরেও। তখন নিঃসন্দেহ ধরে নিতে হবে এটুকু ঘাটতি ছিলই আপনার পাওয়ার খাতায়, এই পাওয়াটা; খাতায় যে যোগ হলো এটা আপনি ডিজার্ভ করেন।এটা আপনার পাওনা ছিল। কোন কিছুই এ পাওয়ার পথে বাধা হতে পারেনা,তুচ্ছ বাধাগুলো অতিক্রম করেই জয় করতে হয় নিজস্বতাটুকু। আসলে স্বকীয়তা না থাকলে বা আপনার নিজস্বতায় প্রতিবন্ধকতা থাকলে আপনি নিজের নন, অন্যের ইচ্ছের দাস কেবল! আর মস্তিষ্কে দাসত্বের ভার চাপানো থাকলে আপনার দ্বারা সৃজনশীলতা সম্ভব নয়।
সেক্ষেত্রে আপনি শুধু মনিবের সুখটুকুই কেবল দিতে পারেন, মহাবিশ্বে রচনা করতে পারেন না কোন মানব কল্যাণকর সুকুমারবৃত্তিয় কোন সৃষ্টিশীল কর্ম! অথচ আপনি চাইলেই পারেন সমষ্টিগত কল্যাণকর কোন অধ্যায়ের সূচনা করতে। নির্দিষ্ট সংকীর্ণ  বলয় থেকে বেরিয়ে আসুন এবং স্নেহের দৃষ্টিতে চারদিকে তাকিয়ে দেখুন,আপনার করণীয় পেয়ে যাবেন যা এতদিন পড়ে ছিল আপনার সুদৃষ্টির অপেক্ষায়। কাজ করুন সৃষ্টির কল্যাণ হোক,মরেও বেঁচে থাকুন সৃষ্টির মাঝে। এতসব বলার পিছনে একটাই কারণ রয়েছে, আপনাকে উজ্জীবিত করা। জয় করার স্বপ্ন দেখা ও সৎকাজ বা কল্যাণকর কাজ করা। কাজ করুন সৃষ্টির কল্যাণে। সৃষ্টি আপনাকে খুঁজবে, স্বাক্ষর থেকে যাবে ইতিহাসে, মানুষের হৃদয়ে। আপনি যতটুকু পরিসর, ক্ষমতা বা কাজের সুযোগ পেয়েছেন, সেটুকুকে কাজে লাগান। অকাজে লিপ্ত হয়ে সাদা চরিত্রে দাগ লাগালে তা দুধের শিশুও দেখতে পাবে, আঙ্গুল উঠাবে; ছেড়ে দেবে না! আমরা জানি বর্তমান সরকার করোনা মোকাবেলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন,”এই প্রণোদনা প্যাকেজ যেন অপব্যবহার না হয়”। তথাপিও পত্রিকায় অনিয়মের খবর এসেছে। করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী  ৫০ লাখ পরিবারের মানুষকে ২৫০০ টাকা করে দিচ্ছেন। এর জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। পত্রিকায় এসেছে হবিগঞ্জে এই টাকা বিতরণে একই নম্বর বহুবার ব্যবহৃতের অনিয়ম। গত ২৩ মার্চ জাতীয় দৈনিকে এসেছে করোনা মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি জেলায় আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ২০০ থেকে ৫০০ টন চাল বরাদ্দ। এখানেও চাল চুরির খবর এসেছে দৈনিকগুলোতে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)র পণ্য বিশেষ করে তেল চুরির ঘটনায় ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে রংপুর ঢাকা ও খুলনার অনেক ডিলারের। এতক্ষণ আমি আপনাকেই বলছিলাম কল্যাণকর কাজের কথা, সৃষ্টিতে সৎ ও সাহসী সাক্ষরের কথা! আপনার আমার এই সামান্য লোভের কারণে ব্যাহত হলো বৃহৎ স্বার্থ! বিব্রত হলো সরকার। শাস্তির মতো পদক্ষেপও নিতে হলো সরকারকে,বাতিল হলো ডিলারশিপ। এলাকার বোকা পাগলটাও জেনে গেল আপনার আমার মনের রঙ! অথচ ওদিকে কত মানুষ ভালো কাজ করছে ডিসি,এসপি, সহ সৎ প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ সবাই চেষ্টা করে যাচ্ছে জনগণকে কিভাবে সাহায্য করা যায় এই সংকটের সময়ে। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত রংপুরের বর্তমান এসপি। তিনি পুলিশদের ব্যক্তিগত তহবিল এবং সরকারি তহবিলের ত্রাণ চমৎকার ও সুচারুভাবে বিতরণ করে যাচ্ছেন। আপনার কি মনে হচ্ছে না, কেন আমাকেই সামান্য লোভ গিলে খেতে পারল? এসব বাদ দিন, সৎকাজে উজ্জীবিত হোন, সৎকাজ করে মরেও বেঁচে থাকুন মানুষের হৃদয়ে।করোনা সময়ে মানুষ এবার হয়ত ঈদের সেমাইটুকুও কিনে খেতে পারবে না! সুপ্রিয় পাঠক, দুর্যোগ এসেছিল, এসেছে, আসবেও। তাই বলে থেমে থাকা নয়। সামনে ঈদ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরিচ্ছন্নভাবে যতটুকু সম্ভব বেঁচে থাকার লড়াই আমরা করে যাব। ভয় কী!
সৃষ্টিকর্তার উপরে ভরসা রাখুন তবে নিজেই নিজের নিরাপত্তা বিধান করুন। পুলিশ, ডাক্তার সহ অনেকেই জীবনবাজি রেখে সেবা দিচ্ছেন আমাদের। সচেতন থাকুন, অভাবকে রেশনিং পদ্ধতিতে জয় করুন। এখন শুধু বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া। এবার ঈদে সেমাই কাপড় নাইবা কিনলাম। কোন এক ঈদের লেখায় বলেছিলাম; নতুন কাপড়, নতুন জুতো বালিশের নিচে নিয়ে ঘুমানোর কথা,গন্ধ শোঁকার কথা! এবার তা নাইবা হলো,সামনে আরও ঈদ আসবে,দুঃখ করবেন না। আর এলাকার ধনিকশ্রেণির কাছে আমার আবেদন, আপনার মহল্লা আর আত্মীয়ের ঈদ সেমাইর ব্যবস্থা আপনিই কিন্তু করতে পারেন। যাকাতটা সঠিকভাবে বের করে দিয়ে দিন, এটা তাদের প্রাপ্য। আপনার কমবে না তাতে। দেখবেন ভালো লাগবে আপনারও! সৎকর্ম আর শক্ত মনোভাব নিয়ে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা করা যায় সম্মিলিতভাবে। নিজেকে সময় দিন, মনে শক্তি সঞ্চয় করুন, চোখ মেলে তাকিয়ে দেখুন কত কাজ পড়ে আছে আপনার জন্য! সৃষ্টির কল্যাণে কাজ করুন মরেও বেঁচে থাকুন মানুষের হৃদয়ে চে’গুয়েভারার মতো মানবিক হয়ে!  
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক
০১৭৩০-২৬৪৪৯৭