সফর অবস্থায় নামাজ রোজার হুকুম

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৫২ এএম, ০৫ জুন ২০২১

আলহাজ্ব হাফেজ মাওঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক:আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘ওয়া ইযা যরাবতুম ফিল আরদি ফালাইছা আলাইকুম জুনাহুন আন তাক্বসুরূ মিনাস সালাহ’ অর্থাৎ যখন তোমরা দেশ বিদেশে সফর কর, তখন নামাজে কসর করলে তোমাদের কোন দোষ নেই.....। (সূরাঃ নিসা, আয়াতঃ ১০১) বান্দার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের অন্ত নেই। এ বিধানও বান্দার প্রতি আল্লাহ তায়ালার বিরাট দান। হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, এ বিধান আল্লাহপাক তোমাদেরকে রহমতস্বরূপ দান করেছেন, সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুদান নিয়ে নাও। (মুসলিম) যে ব্যক্তি তিন মনযিল যা মোটামুটি ৪৮ মাইল বা সোয়া সাতাত্তর কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে গমন করার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজ এলাকার লোকালয় অতিক্রম করে শরীয়তের বিধান মোতাবেক তাকেই মুসাফির বলা হয়। মুসাফির ব্যক্তির হুকুম হচ্ছে, পথিমধ্যে  চার রাকআতবিশিষ্ট ফরয নামাজ অর্থাৎ যোহর, আসর ও ইশার ফরয চার রাকআতের বদলে দুই রাকআত করে আদায় করতে হবে। একে শরীয়তের পরিভাষায় ‘কসর’ বলা হয়। সফর অবস্থায় এ নামাজগুলো ইচ্ছাপূর্বক চার রাকআত করে পড়লে গোনাহ হবে, যেমনঃ যোহরের চার রাকআতের স্থলে ছয় রাকআত পড়লে গোনাহ হয়। মুসাফিরের জন্য তিন রাকআত বা দুই রাকআতবিশিষ্ট ফরয নামায, ওয়াজিব নামায এমনিভাবে সুন্নাত নামায পুরোপুরি আদায় করতে হবে। কেননা ফরজ ব্যতীত অন্য নামাজে কসর হয় না। এটা হলো পথিমধ্যে থাকাকালীন সময়ের বিধান।

 গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পর যদি সেখানে পনেরো দিন বার তার চেয়ে বেশি সময় থাকার নিয়ত হয় তবে কসর হবে না, বরং নামাজ পূর্ণ পড়তে হবে। আর যদি পনেরো দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে তাহলে কসর পড়তে হবে। গন্তব্যস্থল যদি নিজের বাড়ি হয় তাহলে কিন্তু কসর হবে না, তাই যে কয়দিনই থাকার নিয়ত করুক না কেন। মুকিম ইমামের পিছনে ইক্তেদা করলে মুসাফিরও পুরো নামাজ পড়বে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের নবীর যবানে নামাজকে মুকিম অবস্থায় চার রাকআত ও সফর অবস্থায় দুই রাকআত ফরয করেছেন। মুসাফির যদি মুকিমদের সাথে নামাজে শরীক হয় তবে সে তাদের মতো (চার রাকআত) নামাজ পড়বে। (মুসলিম) সফর করাও একটি ইবাদত। জীবনের প্রয়োজনে আমাদেরকে বিভিন্ন স্থানে সফর করতে হয়। আবার আনন্দঘন সময় কাটাতে এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত দেখতে আমরা বিভিন্ন স্থানে সফর করে জ্ঞান-শিক্ষা লাভ করি। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি হয়েছে তাদের, যারা পূর্বে ছিল? মুত্তাকীদের জন্যে পরকালের আবাসই উত্তম। তারা কি এখনো বোঝে না? (সূরাঃ ইউছুফ, আয়াতঃ ১০৯) সফরে যাওয়ার সময় যদি কেউ কমপক্ষে সোয়া সাতাত্তর কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়ত না করে, অথচ বহুদূর-দূরান্তও ঘুরে আসে তবু সে মুসাফির বলে গণ্য হবে না।

 কোনো স্থানে যাওয়ার যদি দুইটি পথ থাকে, একটি পথের দূরত্ব সফর পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি আর অন্য পথটির দূরত্ব সফরের পরিমাণ থেকে কম হয়, তবে সে যে পথে যাবে সে পথানুসারেই হিসাব ধরতে হবে। মুসাফির ব্যক্তির ব্যস্ততা থাকলে ফজরের সুন্নাত ব্যতীত অন্যান্য সুন্নাত ছেড়ে দেয়া জায়েজ আছে। আর ব্যস্ততা না থাকলে সব সুন্নাত পড়তে হবে। কেউ বাড়ি থেকে সফরের পরিমাণ অপেক্ষা দূরে যাওয়ার নিয়ত করে বের হলো কিন্তু পথিমধ্যে ঘটনাক্রমে কোনো জায়গায় দুই চার দিন থাকার প্রয়োজন পড়লো, তারপর সে প্রতিদিনই এরূপ খেয়াল করলো যে, সে কাল পরশু চলে যাবে, কিন্তু কোনো কারণে যাওয়া হচ্ছে না, এভাবে যদি ওই স্থানে অনেক দিনও থাকা হয় এবং কোনো সময়ই পনেরো দিন থাকার ইচ্ছা না হয়, তবে সে যতদিন ওই স্থানে থাকবে ততদিন মুসাফিরই থাকবে এবং নামাজ কসর পড়তে হবে। মুসাফিরের জন্য জুমআর নামাজ, ঈদের নামাজ ওয়াজিব নয়। আর রোজার হুকুম হচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে সফরে থাকবে ততক্ষণ তার প্রতি রোজার ব্যাপারে সফর জনিত রুখসত রয়েছে অর্থাৎ রোজা রাখা না রাখার উভয় ইখতিয়ারই তাকে দেয়া হয়েছে। তবে সফর শেষে রোজার কাযা আদায় করা আবশ্যক। সফরে অত্যধিক কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে রোজা পূরণ করে নিতে পারবে। (সূরাঃ বাকারা, আয়াতঃ ১৮৪)
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক-ইসলামী গবেষক 
০১৭৩৪-৭১৮৩৬০