বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ সংস্কৃতি

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৫৫ এএম, ০২ জুন ২০২১

জাফরুল ইসলাম: জাতি যখন গঠিত হয় তখন সে জাতি তার কিছু নির্দিষ্ট সংস্কৃতির মাধ্যমে গঠন হয়। পৃথিবীতে যতগুলো জাতি রয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই কিছু নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে, যে সংস্কৃতি সে জাতির পরিচয় বহন করে। তাই তো আমরা দেখতে পাই এক জাতির সংস্কৃতির সাথে অন্য জাতির সংস্কৃতির পার্থক্য বিরাজমান। যখন এই সংস্কৃতিগুলো বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হবে তখন সে জাতির পতন দরজায় কড়া নাড়ছে এমনটা বলা যায়। কারণ যে উপাদান গুলোর মাধ্যমে জাতির উত্থান সেই উপাদানগুলি যদি না থাকে তাহলে তো জাতির পতন সুনিশ্চিত। প্রাথমিক কিছু আলোচনা যেগুলোর মাধ্যমে বুঝতে পারা গেল সংস্কৃতির পতন জাতির পতনের প্রথম ধাপ। এখন বাঙালিদের যে নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল যেগুলো আমরা গ্রামীণ সমাজে দেখতে পেতাম, তারপতন এবং বর্তমান চিত্র নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। একটা সময় ছিল যখন প্রযুক্তির এমন বিন্যাস ছিল না তখন এই বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে কিছু মনোমুগ্ধকর সংস্কৃতি বিরাজমান ছিল যা এই জাতির পরিচয় বহন করতো। তার মধ্য কয়েকটি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করা এখন অতি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। ঢেঁকি নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে গ্রামীণ বধুর ঘাম মাখা মুখের প্রতিচ্ছবি যারা এই ঢেঁকির মাধ্যমে চাল গুড়া করে আঁটা  বের করতো। সেই আটার মাধ্যমে শীতের দিনে মাতার নিজস্ব কৌশল ব্যবহার করে নানা রকম পিঠাপুলি তৈরি করত সারারাতে। বাড়ির ছেলে মেয়েগুলো কত আনন্দ করে সেই পিঠাগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে খাওয়া-দাওয়া করত। আজ যেন তা রূপকথার গল্প বলে মনে হবে, কারণ এমনটা আর হয়না।

 মরিচ আদা রসুন বাটার জন্য শিল পাটা ব্যবহার করা হতো, কালের পরিক্রমায় সেটাও হারিয়ে গেছে। আর সেই শিলপাটা তে ধার করার জন্য একশ্রেণীর মানুষ ছিল যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধার করে দিত নানা রকম নকশা সেখানে ফুটে উঠত। আর পারিশ্রমিক হিসেবে তাদের চাল দেওয়া হতো আজ আর এমনটা দেখতে পাওয়া যায়না। এছাড়াও গ্রামীণ মাঠ থেকে ফসল তোলার পর কৃষকদের বিশেষ কোনো কাজ থাকেনা, অবসর সময়ে কৃষকদের হাতে ধান বিক্রির টাকা থাকে তখন গ্রামে গ্রামে যাত্রানাটক পালাগানের একটা প্রচলন ছিল যা এই জাতির বিনোদন চাহিদাপূরণ করত, রাতভর চলত এসব গানবাজনা। আজ যদি আমরা গ্রামীণ বিনোদনজগতের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যায় আর সে এক জায়গায় বসে থেকে বিনোদন উপভোগ করার চিত্র নেই তার জায়গা দখল করেছে টেলিভিশন। গ্রীষ্মকালে বাড়ির আঙিনায় বসে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ দের মুখের সেইরূপ কথারগল্প গুলো কত যে আগ্রহের ছিল, আজ যেন তা রূপকথার বলে মনে হচ্ছে। গ্রামের মানুষদের মধ্যে যখন কোন কিছুনিয়ে বিরোধ লাগতো তখন সেই বিরোধ গ্রামীণ পরিবেশে নিষ্পত্তি গত পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। বর্তমানে এখন বিরোধগুলো নিষ্পত্তিরজন্য এই মানুষগুলো থানায় যায় মামলা করতে, যে মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতা। আগের দিনে যেসব চিত্র শহরে দেখা যেত  সেসব চিত্র আজ আমরা গ্রামীণ সমাজে দেখতে পাচ্ছি। তাইতো আজ আর গ্রাম আর শহর কে আলাদা করা যায়না। অথচ এই গ্রাম গুলোই ছিল বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একমাত্র উৎস। তাই আমরা আমাদের সংস্কৃতিগুলো যেন রক্ষায় সচেতন হই এমন প্রত্যাশা দেশের সচেতন নাগরিকদের।
শিক্ষার্থী রাজশাহীবিশ্ববিদ্যালয়
০১৭৫৪৭৬৪০২৫