ফিরতে চাই প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

জাফরুল ইসলাম : একটা দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য সেই শ্রেণী আজ অবহেলিত। অথচ দেশ ও জাতিকে বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক স্থানে তুলে ধরে এই শিক্ষিত সমাজ। বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রম করছে। এই ৫০ বছরে নানান চড়াই-উতরাই পার হয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছে। বাংলাদেশ আজ আর কোন নিছক মেকি  দেশ নয়। আন্তর্জাতিক পরিম লে এদেশের গুরুত্ব আজ  সর্বজন স্বীকৃত। আর এই গুরুত্বের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তারা হলো দেশের শিক্ষিত শ্রেণী এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। যার পুরোটাই সম্ভব হয়েছে বহির্বিশ্বের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে। আর এই সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে দেশের শিক্ষিত সমাজের কারণে। আজ থেকে ১৮ মাস বা ৫০০ দিন  অতিক্রম হতে চলল।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। আর এই বন্ধ থাকার অন্যতম কারণ হলো করোনা নামক মহামারি। করোনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করেন। করোনার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ধাপ সহ নানা ধাপ অতিক্রম করার পর। দেশে আজ শিল্প-কারখানা রাস্তাঘাট দোকানপাট সবকিছু খুলে দিয়েছে সরকার। কিন্তু সবকিছু খুলে দেওয়ার পরেও খোলা সম্ভব হয়নি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। জাতিসংঘের ইউনিসেফের এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এশিয়ার দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়।  গত কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবো ইনশাল্লাহ। শিক্ষামন্ত্রীর এ ঘোষণার পর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে, তাদের যারা উচ্চ শিক্ষার জন্য স্নাতক শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। কারণ এর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এর সাথে শুরু হল টিকা দেওয়ার কার্যক্রম। আজ আমরা  টিকা দিয়ে বসে আছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবো বলে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। শিক্ষার্থীর মাঝে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আর তা হলো ফিরতে পারব কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে? নাকি হারিয়ে যাবে জীবনের উদ্যম সময়গুলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশয় দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার তারিখও দিয়েছে। এই তারিখ দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। যেখানে ক্লাস নেই ক্যাম্পাস খোলা নেই সেখানে এই পরীক্ষা বিলাসিতা ছাড়া কিছুই না। তাছাড়াও পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে। কিন্তু আবাসিক হলগুলো আজ বন্ধ তাহলে থাকবে তারা কোথায়? বাইরে থাকতে গেলে গুনতে হবে এক বৃহৎ অর্থ, যা শিক্ষার্থীদের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছ। স্নাতক শ্রেণী কে বলা হয় বাস্তব ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু আজ এই শিক্ষা কার্যক্রমে অবাস্তবে পর্যবসিত হয়েছে। অথচ স্নাতক শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর কত ভাবনা। তাকে তাড়াতাড়ি শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করতে হবে, সংসারের হাল ধরতে হবে। কতকাল আর পরিবারের বোঝা হয়ে থাকবে। কতকাল আর আশপাশের মানুষের বিরূপ মন্তব্যের শিকার হবে। অথচ আজ খুব করে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে এটাই যেন আমাদের প্রাপ্য। আজ উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রাথমিক মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, শিক্ষা কার্যক্রম খুলে দেওয়া হচ্ছে।

একবারও কি চিন্তা করা হয়েছে কিভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে? যেখানে ২০২০ সালের এইচএসসিদের কেবল ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালের স্নাতক ভর্তি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পর্যন্ত হয় নাই। সেখানে ভর্তি এবং এই খুলে দেওয়া কতটা সফল হবে সেটাই ভাবার বিষয়। এর বিপরীতে কিন্তু স্নাতক শ্রেণীতে যারা পড়াশোনা করে তাদের টিকা দেওয়া প্রায় শেষ। আর তাছাড়া ক্যাম্পাসে রয়েছে বৃহৎ জায়গা। আর তারা অধিক সচেতনও বটে। তাহলে তাদেরকে আগে খুলে  দেওয়া কি যুক্তিসঙ্গত নয়। খুব করে বলতে ইচ্ছা হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জানিনা আমার এই লেখা আপনার নিকট পৌঁছাবে কিনা। কিন্তু আপনি দেশের সকল সমস্যার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষায় যে সংকটের দিকে যাচ্ছে তার দিকে নজর দিন। মাঠ পর্যায়ে একটা জরিপ করুন তাহলে দেখতে পাবেন কত শিক্ষার্থী তাদের স্বপ্নগুলোকে মাটিচাপা দিতে হচ্ছে। কত শিক্ষার্থীর হাতের বই ছুড়ে দিয়ে তুলে নিয়েছে শ্রমিক সামগ্রী। আজ তাদের জীবনটা ঝুলছে। নেই কোন লক্ষ, লক্ষ্য হীন ভাবে চলছে তাদের জীবন। কই আমরা তো এমন জীবন কখনো প্রত্যাশা করি নাই। তাহলে কেন এমন হলো? হয়তোবা করোনা মহামারির না হলে এমনটা হতো না। প্রেক্ষাপট হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। তবে সরকার বর্তমানে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটা অবশ্য সময়োপযোগী। কিন্তু কথা হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথমে খুলে দেওয়ার নোটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পাব বলে আশা করি। আমরা আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে চায়, যত শীঘ্র সম্ভব এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। 
লেখক ঃ শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
[email protected]
০১৫১৭-৮৫৬৫৫৮